প্লাস্টিকখেকো ব্যাকটেরিয়ার আবিষ্কার

Sanatan Patra
প্লাস্টিকখেকো ব্যাকটেরিয়ার আবিষ্কার
প্লাস্টিকখেকো ব্যাকটেরিয়ার আবিষ্কার
Reporter Logo
প্রযুক্তি ডেস্ক
সনাতন পত্র
জার্মানির একদল গবেষক প্লাস্টিক দূষণ ঠেকাতে অভাবনীয় সাফল্যের দেখা পেয়েছেন। তাদের দাবি, ল্যাবের অব্যবহৃত পাইপ থেকে তারা তিন প্রজাতির ব্যাকটেরিয়ার বিশেষ এক দল খুঁজে পেয়েছেন, যারা একসঙ্গে কাজ করে প্লাস্টিকের বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান হজম করতে সক্ষম।

গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘ফ্রন্টিয়ার্স ইন মাইক্রোবায়োলজি’তে। তিনটি আলাদা প্রজাতির ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে রয়েছে দুটি ‘সিউডোমোনাস’ এবং একটি ‘মাইক্রোব্যাকটেরিয়াম’। এরা প্লাস্টিকের ‘থ্যালেট এস্টার’ ভেঙে ফেলতে সক্ষম হয়েছে, যা সাধারণত প্লাস্টিককে আরও নমনীয় করার জন্য ব্যবহৃত হয়।

গবেষকরা জানিয়েছেন, এ ব্যাকটেরিয়া দলটি ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক ‘ডিইপি’ হজম করতে পারে। তবে শর্ত হচ্ছে, প্রতি লিটারে এ রাসায়নিকের পরিমাণ ৮৮৮ মিলিগ্রামের বেশি হওয়া চলবে না।

শুধু ডিইপি নয়, এ ব্যাকটেরিয়া দলটি আরও কয়েক ধরনের প্লাস্টিক রাসায়নিক যেমন ডিএমপি, ডিপিপি ও ডিবিপি ধ্বংস করতে পারে। গবেষকরা ডিএনএ সিকোয়েন্সিংয়ের মাধ্যমে এসব ব্যাকটেরিয়াকে শনাক্ত করেছেন।

তারা বলেছেন, এসব ব্যাকটেরিয়া আলাদাভাবে কাজ করতে পারে না। বরং ‘ক্রস ফিডিং’ নামের এক সমবায় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একে অপরকে সাহায্য করে এ কঠিন কাজটি সম্পন্ন করে।

পরিবেশে প্লাস্টিক দূষণ ঠেকাতে এসব ব্যাকটেরিয়া শক্তিশালী হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। এগুলো দূষিত এলাকা থেকে বিষাক্ত রাসায়নিক সরিয়ে ফেলতে বা প্লাস্টিককে ভঙ্গুর করে দিয়ে এর পচন প্রক্রিয়াকে দ্রুত করতে সাহায্য করবে। গবেষকরা মনে করছেন, শিল্প-কারখানার প্লাস্টিক বর্জ্য শোধনের ক্ষেত্রেও এ পদ্ধতিটি কার্যকর হতে পারে।

জার্মানির একদল গবেষক পরিবেশ দূষণ মোকাবিলায় অভাবনীয় সাফল্যের দেখা পেয়েছেন। তাদের দাবি, ল্যাবের অব্যবহৃত পাইপ থেকে তারা তিন প্রজাতির ব্যাকটেরিয়ার বিশেষ এক দল খুঁজে পেয়েছেন, যারা একসঙ্গে কাজ করে প্লাস্টিকের বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান হজম করতে সক্ষম। এ আবিষ্কার পরিবেশ রক্ষায় নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।

গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘ফ্রন্টিয়ার্স ইন মাইক্রোবায়োলজি’তে। তিনটি আলাদা প্রজাতির ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে রয়েছে দুটি ‘সিউডোমোনাস’ এবং একটি ‘মাইক্রোব্যাকটেরিয়াম’। এরা প্লাস্টিকের ‘থ্যালেট এস্টার’ ভেঙে ফেলতে সক্ষম হয়েছে, যা সাধারণত প্লাস্টিককে আরও নমনীয় করার জন্য ব্যবহৃত হয়।

গবেষকরা জানিয়েছেন, এ ব্যাকটেরিয়া দলটি ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক ‘ডিইপি’ হজম করতে পারে। তবে শর্ত হচ্ছে, প্রতি লিটারে এ রাসায়নিকের পরিমাণ ৮৮৮ মিলিগ্রামের বেশি হওয়া চলবে না। শুধু ডিইপি নয়, এ ব্যাকটেরিয়া দলটি আরও কয়েক ধরনের প্লাস্টিক রাসায়নিক যেমন ডিএমপি, ডিপিপি ও ডিবিপি ধ্বংস করতে পারে।

গবেষকরা ডিএনএ সিকোয়েন্সিংয়ের মাধ্যমে এসব ব্যাকটেরিয়াকে শনাক্ত করেছেন। তারা বলেছেন, এসব ব্যাকটেরিয়া আলাদাভাবে কাজ করতে পারে না। বরং ‘ক্রস ফিডিং’ নামের এক সমবায় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একে অপরকে সাহায্য করে এ কঠিন কাজটি সম্পন্ন করে।

প্লাস্টিক দূষণের বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট

বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর প্রায় ৪০০ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক উৎপাদিত হয়। এর বড় অংশই একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক, যা পরে পরিবেশে জমে থেকে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতি করে। নদী, সমুদ্র ও মাটিতে জমে থাকা প্লাস্টিক শুধু প্রাণীজগতকেই নয়, মানুষের স্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক হুমকি তৈরি করছে।

প্লাস্টিকের মধ্যে থাকা থ্যালেট এস্টার ও অন্যান্য রাসায়নিক উপাদান হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে, ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে এবং বন্যপ্রাণীর প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস করতে পারে। এ কারণে বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে এমন সমাধান খুঁজছিলেন, যা প্রাকৃতিকভাবে প্লাস্টিক ভাঙতে সক্ষম।

বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ

ব্যাকটেরিয়ার দলটি ‘বায়োফিল্ম’ আস্তরণ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। গবেষকরা বায়োরিয়্যাক্টরের পলিইউরেথিন টিউব থেকে নমুনা নিয়ে এমন পরিবেশে রেখেছিলেন, যেখানে কার্বন ও শক্তির প্রধান উৎস ছিল ক্ষতিকর রাসায়নিক ‘ডিইপি’। ফলাফল দেখিয়েছে, ব্যাকটেরিয়ার দলটি দ্রুত রাসায়নিক ভেঙে ফেলতে সক্ষম।

এ প্রক্রিয়ায় ব্যাকটেরিয়া একে অপরকে সাহায্য করে। একজন ব্যাকটেরিয়া রাসায়নিক ভেঙে আংশিক উপাদান তৈরি করে, অন্য ব্যাকটেরিয়া সেই উপাদানকে আরও ভেঙে ফেলে। এভাবে দলবদ্ধভাবে কাজ করে তারা পুরো রাসায়নিক ধ্বংস করে।

সম্ভাব্য ব্যবহার

পরিবেশে প্লাস্টিক দূষণ ঠেকাতে এসব ব্যাকটেরিয়া শক্তিশালী হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। এগুলো দূষিত এলাকা থেকে বিষাক্ত রাসায়নিক সরিয়ে ফেলতে বা প্লাস্টিককে ভঙ্গুর করে দিয়ে এর পচন প্রক্রিয়াকে দ্রুত করতে সাহায্য করবে।

শিল্প-কারখানার প্লাস্টিক বর্জ্য শোধনের ক্ষেত্রেও এ পদ্ধতিটি কার্যকর হতে পারে। বিশেষ করে যেখানে প্রচুর পরিমাণে প্লাস্টিক রাসায়নিক জমে থাকে, সেখানে এ ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব সমাধান পাওয়া সম্ভব।

ভবিষ্যৎ গবেষণা ও চ্যালেঞ্জ

যদিও এ আবিষ্কার আশাব্যঞ্জক, তবে বাস্তবে প্রয়োগের আগে আরও গবেষণা প্রয়োজন। ব্যাকটেরিয়ার কার্যকারিতা বিভিন্ন পরিবেশে কেমন হবে, তা পরীক্ষা করতে হবে। এছাড়া বৃহৎ পরিসরে এ ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করলে পরিবেশে অন্য কোনো প্রভাব ফেলবে কিনা, তা নিয়েও গবেষণা দরকার।

বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবহার করে এ ব্যাকটেরিয়াকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব। তবে এ ক্ষেত্রে নৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখতে হবে।

নীতিগত দিক

প্লাস্টিক দূষণ কমাতে শুধু বৈজ্ঞানিক সমাধানই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন নীতিগত পদক্ষেপ। সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক কমাতে আইন প্রণয়ন করতে হবে।
প্রকাশ তারিখ: ২৪ মার্চ ২০২৬
জার্মান গবেষকদের আবিষ্কৃত প্লাস্টিকখেকো ব্যাকটেরিয়া পরিবেশ দূষণ ঠেকাতে শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারে।
প্লাস্টিকখেকো ব্যাকটেরিয়ার আবিষ্কার | Plastic-eating bacteria discovery
প্লাস্টিক দূষণ, ব্যাকটেরিয়া, পরিবেশ গবেষণা, জার্মানি, ফ্রন্টিয়ার্স ইন মাইক্রোবায়োলজি, প্লাস্টিকখেকো ব্যাকটেরিয়া
...

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Out
Ok, Go it!
To Top