জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি: অপরাধের স্বীকারোক্তি

Sanatan Patra
জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি: অপরাধের স্বীকারোক্তি
জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি
সংবাদ লোগো
খান শওকত
লেখক ও রাজনীতিবিদ
জুলাই ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের পর যেসব যোদ্ধা দায়মুক্তি বা ইনডেমনিটি নিচ্ছেন, তারা কি জানেন এর প্রকৃত অর্থ কী? দায়মুক্তি মানে নির্দোষ প্রমাণ নয়, বরং এটি অপরাধের স্বীকারোক্তি। যখন কেউ দায়মুক্তির সনদ গ্রহণ করেন, তখন তিনি স্বীকার করেন যে পুলিশ হত্যা, সাধারণ নাগরিক হত্যা, শিশু হত্যা, সংখ্যালঘু নির্যাতন, গণহত্যা, থানা লুট, সরকারি অস্ত্রাগার লুট, মেট্রোরেলসহ সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তিতে অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘনসহ নানাবিধ অপরাধে তিনি যুক্ত ছিলেন।

আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এসব অপরাধের দায়মুক্তি নেই। জাতিসংঘ ঘোষিত আইন অনুযায়ী গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সর্বদা বিচারযোগ্য। কয়েক হাজার সাধারণ নাগরিক এবং তিন হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য হত্যার ঘটনা আন্তর্জাতিক আইনে গণহত্যার সংজ্ঞায় পড়ে। এর বিচার হতে পারে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে, যেখানে ১৯৪৯ সালের জেনেভা কনভেনশন এবং ১৮৯৯ ও ১৯০৭ সালের হেগ কনভেনশনের নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক নাগরিক হত্যা, হাসপাতাল বা স্কুল ধ্বংস, মানবিক ত্রাণে বাধা, বন্দীদের উপর নির্যাতন এবং নিষিদ্ধ অস্ত্র ব্যবহার—
সবই মানবতাবিরোধী অপরাধ। এজন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ অধ্যায় ৭-এর অধীনে বিশেষ ট্রাইব্যুনালও গঠন করতে পারে।
অর্থাৎ সরকারের দায়মুক্তি দিলেও আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার দাবি করা সম্ভব।

ইতিহাসে দেখা গেছে, দায়মুক্তি আইন থাকলেও অপরাধীদের বিচার হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার হয়েছে দায়মুক্তি থাকা সত্ত্বেও।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারও হয়েছে ৫২ বছর পরে। তাই জুলাই যোদ্ধাদের বিচারও একদিন বাংলার মাটিতে হবেই। অপরাধ যখন সংঘটিত হয়েছে, সাংবিধানিক সরকার গঠিত হয়েছে, তখন বিচার বন্ধ করার ক্ষমতা কারো নেই।

আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টিতে মূল বিষয়গুলো হলো:
(১) জেনোসাইড কনভেনশন ১৯৪৮ অনুযায়ী গণহত্যা প্রতিরোধ ও শাস্তি নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক।
(২) দায়মুক্তি আইনের মাধ্যমে অপরাধীদের বিচার এড়ানো হলে বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি হয়।
(৩) আধুনিক আইনব্যবস্থায় গণহত্যার মত অপরাধের বিচার চিরকাল ধরে চলে।
(৪) বাংলাদেশে জুলাই ২০২৪-এর সহিংসতায় দায়মুক্তি নিয়ে বিতর্ক থাকলেও আইন বিশ্লেষকদের মতে গণহত্যার দায়মুক্তি সম্ভব নয়।

সংক্ষেপে বলা যায়, গণহত্যার কোনো দায়মুক্তি নেই। আন্তর্জাতিক আইনে এটি বিচারযোগ্য অপরাধ।
পুলিশ হত্যা, ছাত্র জনতা হত্যা কিংবা সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিচার একদিন না একদিন হবেই। যারা নিজেদেরকে জুলাই যোদ্ধা বলে গর্ব করছেন, নিশ্চিত থাকুন— বিচার হবে।
প্রকাশ তারিখ: ২৬ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ২৬ মার্চ ২০২৬
জুলাই ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়মুক্তি আন্তর্জাতিক আইনে অগ্রহণযোগ্য।
জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি: অপরাধের স্বীকারোক্তি
জুলাই যোদ্ধা, দায়মুক্তি, ইনডেমনিটি, গণহত্যা, আন্তর্জাতিক আইন, বাংলাদেশ
...

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Out
Ok, Go it!
To Top