হাসান সাঈদ
লেখক : কবি ও শিক্ষক
নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে ইতিমধ্যে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। অবশ্য ওইসব ভারী ভারী কথা আম জনতা বোঝেনা। যা বোঝে তা হল , '৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ জিতে গেছে। জামাত শিবির এনসিপি যে অহংকার বড়াই করেছিল তার শোচনীয় পরাজয় হয়েছে। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বড়াই করা প্রতিটা উন্নাসিক সবজান্তা বেয়াদব প্রার্থী শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছে। জিতেছে মার্জিত আচরনের ভদ্র প্রার্থীরা। যোগ্যতা পূর্ব অভিজ্ঞতা বা সততার বিচার খুব প্রাধান্য পেয়েছে বলে মনে হয়নি। অতীত রেকর্ড ভাল না এমন অনেক প্রার্থী শুধু ভদ্র আচরণের কারনে উতরে গেছেন। নির্বাচনের আগেই অনেকে প্রধানমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়ে বসে ছিলেন। অনেকে ধর্মকে পূর্বের মতই হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। কিন্তু স্বাধীনতার চুয়ান্ন বছর পরও তাদের শিক্ষা হয়নি যে বাংলাদেশটা পাকিস্তান আফগানিস্তান নয়। বাংলাদেশের আপামর সাধারণ মানুষ ধর্মপ্রান কিতু ধর্মাশ্রয়ী রাজনীতি পছন্দ করে না।
অনেকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে আনন্দে নেচে কুদে জনসাধারণেকে নির্বাচনের পর সরকার গঠন করে একহাত দেখে নেবেন বলে শাসিয়েছেন। অথচ ফলাফল হয়েছে উল্টো। ছাত্র সংসদ নির্বাচন আর সংসদ নির্বাচন যে এক নয় তা তারা জনগন থেকে লুকাবার চেষ্টা করেছেন।
আরো একটা বিষয় বাংলাদেশের হাবাগোবা আম জনতা বিচার করেছে যে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগকে আইন করে ক্ষমতার জোরে নির্বাচন করতে না দিয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়েছিল। জনগন এটা ভালভাবে নেয়নি। সংসদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগকে আইন করে নির্বাচনের বাইরে রেখে নির্বাচন করা হয়েছে যার প্রধান কুশিলব জামাত শিবির। গত দেড় বছরে তাদের ঔধ্যত্বপূর্ণ একরোখা আচরনে মানুষ ত্যাক্ত বিরক্ত অতিষ্ঠ হয়ে গিয়েছিল। তারা নির্বাচিত হলে দেশটা কোন রসাতলে গিয়ে পড়বে এই আশংকা থেকেই মানুষ তাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। অথচ ২৪ এর আন্দোলনে এই মানুষগুলিই তাদের সমর্থন করেছিল। কিন্তু জামাত এনসিপি এই সমর্থনটা ধরে রাখতে পারেনি। নির্বাচন শুর হবার সাথে সাথে তারা যেসব আচরন করেছে যে ভাষায় কথা বলা শুরু করেছে তাতে মানুষ ঠিকই বুঝেছে ২৪ এর আন্দোলন আসলে একটি কমেটিকুলাস গন্ডগোল যার মূল কারন কোটা সংস্কার নয় বরং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে ক্ষৃৃমতাচ্যুত করা। আর একটি বড় কারন – আল্লাহ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন জামাতকে ক্ষমতায় আনবেন – (নাউজুবিল্লাহ) এ জাতীয় কথা বলে মানুষের ধর্মীয় চেতনা ব্যবহার করার ভুল সিদ্ধান্ত নেয়া। বাংলাদেশের মানুষ এই জাতীয় কথা বা আচরন পছন্দ করেনা। এটা পাকিস্তান আফগানিস্তানে হয়ত করতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশে নয়।
তারপরও বলব এত তাধেই তাধেই করার কিছু নেই। বিএনপিকে মনে রাখতে হবে তারা তাদের প্রতিপক্ষ ছাড়া ওয়াকওভার পেয়ে ক্ষমতায় এসেছে। আজ আওয়ামী লীগ নির্বাচন করলে ফলাফল যে এটা হত না তা একটি পঞ্চম শ্রেনীর শিশুও বোঝে৷ তাই আওয়ামী লীগের সাড়ে চার কোটি কর্মী সমর্থক যারা তুষের আগুনের মত ধিকিধিকি জ্বলছে তাদের আস্থায় আনা হবে বিএনপির এখন এক নম্বর প্রায়রিটি। তানাহলে চিরাচরিত নিয়মে এই ওয়াকওভারে জিতে যাওয়া বেশীদিন টিকবে না।
#অভিনন্দন_বিএনপি
...