শিক্ষা সফরের আনন্দে অনিশ্চয়তা!
ডেস্ক রিপোর্ট:
চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার আবুতোরাব বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক বনভোজন ও শিক্ষা সফর ঘিরে যে আনন্দমুখর আয়োজন করা হয়েছিল, তা মুহূর্তেই রূপ নেয় গভীর উদ্বেগ ও শোকের ঘটনায়। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা কক্সবাজার ভ্রমণে অংশ নিলেও সফর শেষে এক শিক্ষার্থী আর বাড়ি ফিরতে পারেনি।
নিখোঁজ শিক্ষার্থীর নাম পূজা রানী দাস। সফর শেষ করে অধিকাংশ শিক্ষার্থী ও শিক্ষক নিরাপদে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরলেও কক্সবাজারেই নিখোঁজ হন তিনি। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকেই পরিবারে নেমে আসে চরম উৎকণ্ঠা ও দুশ্চিন্তা।
মেয়ের খোঁজ পেতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন পূজা রানী দাসের বাবা অপু দাস। সন্তানের সন্ধান পাওয়ার আশায় তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মেয়েটিকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পাওয়াই এখন একমাত্র প্রত্যাশা।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, শিক্ষার্থী নিখোঁজের ঘটনায় কক্সবাজার সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। প্রশাসনের সহযোগিতায় অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও তিনি জানান।
তবে এই ঘটনায় শিক্ষা সফরের ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অভিভাবক ও স্থানীয়দের অভিযোগ, পর্যাপ্ত নজরদারি ও সুপরিকল্পনা ছাড়া এত দূরের ভ্রমণে শিক্ষার্থীদের নেওয়া কতটা যুক্তিসংগত ছিল, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিশেষ করে একজন শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার পর দায় এড়ানোর সুযোগ নেই বলেও মত দেন তারা।
এদিকে কক্সবাজারে সফরকালীন ঠিক কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পূজা রানী দাস কোথায় আছেন, কী অবস্থায় রয়েছেন—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পরিবার, সমাজ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
একজন বাবার কাছে এই অপেক্ষা কেবল অনুসন্ধান নয়, বরং সন্তানের জীবন ফিরে পাওয়ার আকুল আবেদন। নিখোঁজ শিক্ষার্থীর সন্ধানে প্রশাসনের তৎপরতা আরও জোরদার করা, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে শিক্ষাসফরে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল।
পূজা রানী দাসকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পাওয়ার আশায় প্রহর গুনছে তার পরিবার—আর সেই অপেক্ষায় প্রতিটি মুহূর্ত ভারী হয়ে উঠছে এক সন্তানের পিতার হৃদয়ে।