গ্র্যামি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অহিংসা, করুণা ও মানসিক শান্তির বার্তা বিশ্ববাসীর কাছে প্রভাবশালীভাবে উপস্থাপনের জন্যই এই কাজটি নির্বাচিত হয়েছে। বয়সের বিচারে দালাই লামা গ্র্যামি পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে অন্যতম বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে নতুন একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
এই অর্জনকে ইতিবাচকভাবে দেখছে ভারত। দেশটির রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলের একাংশ এই পুরস্কারকে মানবিক মূল্যবোধ ও বিশ্ব শান্তির বার্তার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে উল্লেখ করেছে। ভারতে বসবাসরত তিব্বতি সম্প্রদায়ের মধ্যেও এ নিয়ে সন্তোষ ও আনন্দ প্রকাশ করা হয়েছে।
অন্যদিকে চীন এই পুরস্কার প্রদান নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দালাই লামা একজন রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত ব্যক্তি এবং তাঁর গ্র্যামি জয় সাংস্কৃতিক স্বীকৃতির পাশাপাশি রাজনৈতিক বার্তাও বহন করে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো এ ঘটনাকে পশ্চিমা বিশ্বের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রসূত পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের একাধিক মানবাধিকার সংগঠন এবং সাংস্কৃতিক বিশ্লেষক এই গ্র্যামি জয়কে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, এটি রাজনৈতিক নয় বরং মানবিক দর্শন ও নৈতিক শিক্ষার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। তবে কিছু আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক মনে করছেন, এই পুরস্কার চীন ও পশ্চিমা বিশ্বের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন করে সংবেদনশীলতা তৈরি করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, দালাই লামার গ্র্যামি জয় শুধু একটি সাংস্কৃতিক অর্জন নয়, বরং বিশ্ব রাজনীতি, মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিক দর্শনের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ঘটনা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।