আওয়ামীলীগের অপরাধীদের বিচার, বাকিদের সুযোগ: প্রস্তাব রাশেদ খান

Sanatan Patra
টকশোতে বক্তব্য দিচ্ছেন বিএনপি নেতা মো. রাশেদ খান
সনাতন পত্র লোগো
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা
ক্ষমতার পালাবদলের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতা মো. রাশেদ খান। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগের ভেতরে যারা অপরাধের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ায় বিচার হওয়া উচিত। তবে যারা কোনো ধরনের অপরাধে যুক্ত নন, তাদের ক্ষেত্রে ‘রিকনসিলিয়েশন’ বা সমঝোতার ভিত্তিতে রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ বিবেচনা করা প্রয়োজন।

সম্প্রতি একুশে টেলিভিশনের টকশো ‘একুশের রাত’-এ অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে তিনি এ বক্তব্য দেন। আলোচনায় দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচনের প্রভাব এবং প্রধান দুই দলের ভূমিকা নিয়ে বিস্তৃত কথা বলেন তিনি।

রাশেদ খান বলেন, আওয়ামী লীগ দীর্ঘ সময় ধরে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে ছিল। একটি বড় দলকে সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া থেকে বাইরে রাখার চেষ্টা করলে তার প্রতিক্রিয়া হতে পারে। তাঁর ভাষায়, “সারা জীবন তো এভাবে রাখা সম্ভব নয়। পুরো শক্তি যদি আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যায়, তাহলে দেশের জন্য ক্ষতি হবে। আওয়ামী লীগ আন্ডারগ্রাউন্ড পার্টি হয়ে যাক, সেটা কেউ চায় না।”

তিনি যুক্তি দেন, রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় করে রাখার বদলে আইনি ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই সমাধান খোঁজা উচিত। অপরাধীদের বিচারের আওতায় এনে দলটির নির্দোষ অংশকে স্বাভাবিক ধারায় ফিরিয়ে আনাই দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতার জন্য কার্যকর হতে পারে।

‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন’ প্রস্তাব

তিনি ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন’ গঠনের প্রস্তাব দেন। তাঁর মতে, একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অতীতের অভিযোগ, সহিংসতা ও অনিয়মের সত্য উদঘাটন করা যেতে পারে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, এটি কোনোভাবেই দায়মুক্তির প্রক্রিয়া নয়।

রাশেদ খান বলেন, “যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে, যারা অন্যায় করেছে, তাদের বিচার করুন। কিন্তু যারা অপরাধ করে নাই, তাদের রিকনসিলিয়েশনের মাধ্যমে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া উচিত।” তিনি বলেন, এই পদ্ধতিতে দায়ী ও নির্দোষদের পৃথকভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।

নির্বাচন প্রসঙ্গ ও রাজনৈতিক মূল্যায়ন

সাম্প্রতিক নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পেত, তাহলে তাদের ফল ভিন্ন হতে পারত। তাঁর দাবি, জামায়াতে ইসলামীর তুলনায় আওয়ামী লীগ বেশি আসন পেতে পারত। যদিও এই মূল্যায়ন তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক বিশ্লেষণ, কোনো আনুষ্ঠানিক ফলাফলের ভিত্তিতে নয়।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে নেতিবাচক ধারণা ছিল, নির্বাচনের পর তা কিছুটা পরিবর্তিত হয়েছে। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচন বানচালের জন্য সহিংসতা বা জ্বালাও-পোড়াওয়ের আশঙ্কা থাকলেও বাস্তবে তা ঘটেনি, অথবা ঘটার সুযোগ তৈরি হয়নি।

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রশ্ন

রাশেদ খান মনে করেন, দেশের রাজনৈতিক শূন্যতা ও সংকট কাটাতে পারস্পরিক সমঝোতা প্রয়োজন। তাঁর ভাষায়, বিএনপি ও আওয়ামী লীগ—দুই দলই দেশের বড় রাজনৈতিক শক্তি। এক পক্ষকে সম্পূর্ণভাবে নিষ্ক্রিয় করে রাখলে দীর্ঘমেয়াদে অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে প্রতিটি দলের উচিত নির্দোষ নেতাকর্মীদের স্বাভাবিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখানো। একই সঙ্গে তিনি জোর দেন, আইন প্রয়োগে কোনো ধরনের পক্ষপাত যেন না থাকে।

আলোচনায় অংশ নেওয়া অন্য অতিথিরা এ বিষয়ে ভিন্নমতও তুলে ধরেন বলে অনুষ্ঠানে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, যদিও রাশেদ খান তাঁর অবস্থানে অনড় ছিলেন। তিনি পুনরায় বলেন, সমঝোতা মানে অপরাধ উপেক্ষা করা নয়; বরং আইনের শাসন নিশ্চিত করেই রাজনৈতিক সহাবস্থানের পথ খোঁজা।

সামগ্রিকভাবে তাঁর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, তিনি একটি কাঠামোবদ্ধ ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের পক্ষে। এখন এই প্রস্তাব বাস্তবে কতটা গুরুত্ব পায়, তা নির্ভর করবে রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ সংলাপের ওপর।
...

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Out
Ok, Go it!
To Top