ভারত ভিসা দিচ্ছে, ক্যাটাগরি ভিত্তিক স্বাভাবিক হবে: অনিরুদ্ধ দাস

Sanatan Patra
অনিরুদ্ধ দাস সিলেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন
সনাতন পত্র লোগো
নিজস্ব প্রতিবেদক
সিলেট
সিলেটে নিযুক্ত ভারতের সহকারী হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ দাস জানিয়েছেন, বর্তমানে মেডিকেল ও ডাবল এন্ট্রি ভিসা প্রদান কার্যক্রম চালু রয়েছে। পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে অন্যান্য ক্যাটাগরির ভিসা প্রক্রিয়াও স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বুধবার বিকেলে সিলেট জেলা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

অনিরুদ্ধ দাস স্পষ্ট করে বলেন, দুই দেশের মানুষের যোগাযোগ, চিকিৎসা, শিক্ষা ও ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ভিসা কার্যক্রমকে ধাপে ধাপে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কাজ চলছে। বর্তমানে মেডিকেল ভিসা এবং ডাবল এন্ট্রি ভিসা দেওয়া হচ্ছে। অন্যান্য ক্যাটাগরির আবেদনও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক কেবল কূটনৈতিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়; ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক বন্ধনও রয়েছে। এই সম্পর্ককে আরও বাস্তবভিত্তিক ও ফলপ্রসূ করতে উভয় দেশের দায়িত্বশীল মহলকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ভিসা নীতিতে নমনীয়তা আনলে মানুষে-মানুষে যোগাযোগ বাড়বে এবং পারস্পরিক আস্থা জোরদার হবে।

মতবিনিময় সভায় তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের ভূমিকার প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। বলেন, অতীতের ঐতিহাসিক বাস্তবতা দুই দেশের সম্পর্কের ভিত্তিকে শক্ত করেছে। সেই প্রেক্ষাপটে বর্তমান সময়েও সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করা সম্ভব। বিশেষ করে বাণিজ্য, অবকাঠামো ও শিক্ষা খাতে যৌথ উদ্যোগ বাড়ানোর ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

ভারতের সহকারী হাইকমিশনার জানান, লাইন অব ক্রেডিট প্রকল্পের আওতায় সিলেটসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা চলছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদার হলে রাজনৈতিক সম্পর্কও আরও স্থিতিশীল হয়।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অনিরুদ্ধ দাস বলেন, ভিসা নিয়ে মানুষের মধ্যে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা কাটাতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। আবেদন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও দ্রুত করার বিষয়ে উদ্যোগ রয়েছে। তিনি জানান, আবেদনকারীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিকভাবে জমা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সভায় সিলেট প্রেস ক্লাবের সভাপতি জালাল উদ্দিন সভাপতিত্ব করেন এবং সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ নাসির উদ্দিন অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের সহসভাপতি মনিরুজ্জামান মনিরসহ স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা। আলোচনায় ভিসা প্রক্রিয়া ছাড়াও সীমান্ত বাণিজ্য, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও শিক্ষার্থী বিনিময় কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

অনিরুদ্ধ দাস বলেন, ভৌগোলিক নৈকট্য দুই দেশের জন্য সুযোগ তৈরি করেছে। এই সুযোগকে কাজে লাগাতে পারস্পরিক সম্মান ও আস্থার পরিবেশ প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, সীমান্ত এলাকায় বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে স্থানীয় জনগোষ্ঠী সরাসরি উপকৃত হবে।

হিন্দু সংখালগু সম্প্রদায়ের প্রসঙ্গ উঠলে তিনি বলেন, সামাজিক সম্প্রীতি ও ধর্মীয় সহনশীলতা দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যে কোনো ধরনের সহিংসতা বা বৈষম্য আঞ্চলিক শান্তির পক্ষে অনুকূল নয়। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর ভূমিকা থাকা প্রয়োজন।

কূটনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ে ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে যে আলোচনা ছিল, তা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরছে। যদিও পূর্ণাঙ্গ স্বাভাবিকতা কবে আসবে—সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা তিনি উল্লেখ করেননি। তবে তাঁর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, ধাপে ধাপে সব ক্যাটাগরির ভিসা চালুর প্রস্তুতি রয়েছে।

সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলাপেও তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের মূল শক্তি সাধারণ মানুষ। তাদের চলাচল, শিক্ষা ও চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করা হবে। ভবিষ্যতে ভিসা আবেদন ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর সম্ভাবনাও তিনি ইঙ্গিত দেন।

সামগ্রিকভাবে তাঁর বক্তব্যে ভিসা কার্যক্রম পুনরায় স্বাভাবিক করার একটি নীতিগত অবস্থান প্রতিফলিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করলেই বোঝা যাবে সিদ্ধান্ত কত দ্রুত কার্যকর হয়। তবে সরকারি পর্যায়ের এই বার্তা আবেদনকারীদের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
...

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Out
Ok, Go it!
To Top