সাকিব–মাশরাফি ইস্যুতে নরম সুর নতুন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।

Sanatan Patra
সংবাদ সম্মেলনে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক
Sonatanpatra Logo
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ঢাকা | প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১:৫১
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দেশের ক্রীড়াঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো নিয়ে অবস্থান পরিষ্কার করেছেন আমিনুল হক। সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় মিরপুরে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জাতীয় ক্রিকেট দলের দুই সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ও মাশরাফি বিন মুর্তজাকে নিয়ে তিনি ‘নমনীয় ও সহনশীল’ অবস্থানের কথা জানান।

জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল এখন পুরো ক্রীড়াঙ্গনের দায়িত্বে। তাই তাঁর প্রথম সংবাদ সম্মেলনেই ফুটবলের পাশাপাশি ক্রিকেট প্রসঙ্গও সামনে আসে। বিশেষ করে সাকিব ও মাশরাফির চলমান আইনি জটিলতা এবং তাদের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন তিনি।

মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির আহ্বান



আমিনুল বলেন, সাকিব ও মাশরাফির বিরুদ্ধে যে মামলাগুলো রয়েছে, সেগুলোর দ্রুত সমাধান হওয়া প্রয়োজন। তাঁর ভাষ্য, “যেহেতু তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা আছে, সেটাকে দ্রুত সমাধানের মাধ্যমে আমিও চাই সাকিব–মাশরাফিরা যেন আবার বাংলাদেশের ক্রিকেটে ফিরে আসতে পারে। আমরা এই জায়গাটাকে অত্যন্ত নমনীয় ও সহনশীলভাবে প্রাধান্য দিতে চাই।”

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগের হয়ে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান দেশে ফিরতে পারেননি। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে, যার মধ্যে হত্যা ও দুর্নীতির অভিযোগও আছে। মাশরাফি বিন মুর্তজার বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে। গত দেড় বছরে তাঁকে প্রকাশ্যে খুব কম দেখা গেছে।

নতুন প্রতিমন্ত্রী বলেন, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়গুলোর সমাধান হলে দেশের ক্রিকেট উপকৃত হবে। “আমরা চাই, যে মামলাগুলো হয়েছে, সেগুলো রাষ্ট্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে তিনি যেন দ্রুত দেশে ফিরে আসতে পারেন”—যোগ করেন তিনি।

বিসিবি ও প্রশাসনিক প্রশ্ন



সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিয়েও কথা বলেন আমিনুল। গত বছরের অক্টোবরে বিসিবির নির্বাচনের পর বোর্ড সভাপতি হন সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম। ওই নির্বাচন নিয়ে আগে প্রশ্ন তুলেছিলেন বর্তমান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

এখন দায়িত্বশীল অবস্থানে থেকে তিনি বলেন, ক্রিকেটের স্বার্থে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) বিধিবিধান মেনে এগোতে হবে। “ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন নিয়ে আমি আগেও বলেছি, এখনো বলছি, অনেক প্রশ্নবিদ্ধ একটি নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু যেহেতু এখন একটি দায়িত্বশীল জায়গায় আছি, আমি তাদের সঙ্গে বসে আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করব, কীভাবে আমরা ভালো একটি পর্যায়ে যেতে পারি।”

তিনি ইঙ্গিত দেন, বোর্ড ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা হবে। তবে সরাসরি কোনো হস্তক্ষেপের কথা বলেননি।

ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ ও ক্রীড়া নীতি



আমিনুল জানান, জাতীয় ক্রীড়া নীতিমালা হালনাগাদ এবং তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলা বিস্তারের দিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। তাঁর মতে, ক্রিকেটের পাশাপাশি ফুটবল, হকি ও অন্যান্য খেলায় সমান মনোযোগ প্রয়োজন।

সাবেক ফুটবলার হিসেবে তিনি বলেন, ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়ন, খেলোয়াড়দের আর্থিক নিরাপত্তা এবং স্বচ্ছ প্রশাসনিক কাঠামো নিশ্চিত করা হবে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতায় সাফল্য পেতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপর জোর দেন তিনি।

রাজনীতি ও ক্রীড়ার সমন্বয়



সাকিব ও মাশরাফির প্রসঙ্গে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সামনে এলেও প্রতিমন্ত্রী বলেন, ক্রীড়াকে রাজনৈতিক বিভাজনের বাইরে রাখাই উচিত। তিনি মনে করেন, খেলোয়াড়দের অবদান বিবেচনায় রেখে আইনি জটিলতার সমাধান হলে দেশের ক্রীড়া অঙ্গন শক্তিশালী হবে।

একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে এবং সরকার আইনগত প্রক্রিয়ার বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না। তবে দ্রুত নিষ্পত্তির পক্ষে তিনি মত দেন।

প্রথম দিনের বার্তা



দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে অবস্থান জানিয়ে আমিনুল হক ইঙ্গিত দিয়েছেন, সমন্বয় ও আলোচনার মাধ্যমে ক্রীড়াঙ্গনের সমস্যাগুলো সমাধান করতে চান তিনি। বিশেষ করে ক্রিকেট নিয়ে জনমতের চাপ ও আগ্রহ বিবেচনায় রেখে তিনি ‘নমনীয় ও সহনশীল’ নীতি অনুসরণের কথা বলেছেন।

এখন দেখার বিষয়, আইনি প্রক্রিয়ার অগ্রগতি এবং বোর্ড-সরকার সমন্বয়ের মাধ্যমে সাকিব–মাশরাফি ইস্যুতে কী সিদ্ধান্ত আসে। ক্রীড়া অঙ্গন এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে।
...

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Out
Ok, Go it!
To Top