নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আজ শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের জন্মজয়ন্তী। ঊনবিংশ শতাব্দীর এই আধ্যাত্মিক মহাপুরুষের জীবন, সাধনা ও দর্শন ভারতীয় ধর্মচিন্তায় নতুন মাত্রা যোগ করে। হিন্দু সমাজের ভেতরে নানা সম্প্রদায়গত বিভাজনের সময় তিনি ধর্মীয় অভিজ্ঞতার সার্বজনীনতার কথা তুলে ধরেন। তাঁর জীবন ও শিক্ষা পরবর্তীতে স্বামী বিবেকানন্দের মাধ্যমে বিশ্বপরিসরে পরিচিতি পায়।
বাংলাদেশের বিভিন্ন মন্দির ও আশ্রমে আজ পূজা, ভক্তিগীতি, ধর্মসভা ও প্রসাদ বিতরণের আয়োজন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের উদ্যোগে জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।
ছোটবেলা থেকেই তাঁর মধ্যে গভীর ভক্তিভাব ও ধ্যানমগ্নতার প্রবণতা দেখা যায়। গ্রাম্য জীবনের সরলতা ও ধর্মীয় পরিবেশ তাঁর মানসগঠনে প্রভাব ফেলে।
দক্ষিণেশ্বরে অবস্থানকালে তিনি তান্ত্রিক, বৈষ্ণব, শৈবসহ হিন্দুধর্মের বিভিন্ন সাধনপদ্ধতি অনুশীলন করেন। এমনকি ইসলাম ও খ্রিষ্টধর্মের আধ্যাত্মিক অনুশীলনও গ্রহণ করেন বলে তাঁর জীবনীগ্রন্থগুলোতে উল্লেখ রয়েছে। তাঁর অভিজ্ঞতা থেকে তিনি উপসংহারে পৌঁছান যে বিভিন্ন ধর্মপথ শেষ পর্যন্ত একই সত্যের দিকে নির্দেশ করে।
রামকৃষ্ণ সংসারজীবনকে সম্পূর্ণ ত্যাগ না করেও আধ্যাত্মিক জীবনযাপন সম্ভব—এ ধারণা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, ঈশ্বরপ্রেম ও মানবসেবা একই ধারার অংশ।
১৮৯৩ সালে শিকাগো ধর্মমহাসভায় স্বামী বিবেকানন্দের বক্তৃতার মাধ্যমে রামকৃষ্ণের সার্বজনীন ধর্মদর্শন বিশ্বমঞ্চে পরিচিতি পায়। পরবর্তীকালে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও মানবকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
বাংলাদেশেও রামকৃষ্ণ মিশনের শাখা কার্যক্রম রয়েছে। শিক্ষা, চিকিৎসা ও ত্রাণসেবায় তারা কাজ করছে। জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বিশেষ পূজা ও ধর্মসভা আয়োজন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
তাঁর জীবনদর্শন ব্যক্তিগত আধ্যাত্মিকতা, মানবপ্রেম ও সরলতার ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি আড়ম্বরবর্জিত জীবনযাপন করতেন এবং শিষ্যদের নৈতিক শুদ্ধতার ওপর গুরুত্ব দিতে বলতেন।
জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বিভিন্ন আশ্রমে আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, রামকৃষ্ণের শিক্ষা কেবল আচারনির্ভর ধর্ম নয়, বরং আত্মানুসন্ধান ও মানবসেবার পথ দেখায়। তাঁর আদর্শ ব্যক্তি ও সমাজজীবনে নৈতিকতা ও সহমর্মিতার চর্চা জোরদার করতে পারে।
১৮৩৬ সালে জন্ম নেওয়া এই আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব ১৮৮৬ সালের ১৬ আগস্ট পরলোকগমন করেন। তবে তাঁর জীবন ও শিক্ষা আজও ভক্ত ও অনুসারীদের অনুপ্রাণিত করে চলেছে। জন্মজয়ন্তীর এই দিনে ভক্তরা তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন এবং মানবকল্যাণের আদর্শে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছেন।
বাংলাদেশের বিভিন্ন মন্দির ও আশ্রমে আজ পূজা, ভক্তিগীতি, ধর্মসভা ও প্রসাদ বিতরণের আয়োজন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের উদ্যোগে জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।
জন্ম ও শৈশব
শ্রী রামকৃষ্ণের জন্ম ১৮৩৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি, পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার কামারপুকুর গ্রামে। তাঁর আসল নাম গদাধর চট্টোপাধ্যায়। পিতা খুদিরাম চট্টোপাধ্যায় ও মাতা চন্দ্রমণি দেবীর ঘরে জন্ম নেওয়া গদাধর শৈশব থেকেই ধর্মভাবাপন্ন ছিলেন। স্থানীয় পাঠশালায় পড়াশোনা করলেও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় তাঁর আগ্রহ ছিল কম। বরং কীর্তন, পুরাণপাঠ ও মন্দিরকেন্দ্রিক পরিবেশে তিনি বেশি সময় কাটাতেন।ছোটবেলা থেকেই তাঁর মধ্যে গভীর ভক্তিভাব ও ধ্যানমগ্নতার প্রবণতা দেখা যায়। গ্রাম্য জীবনের সরলতা ও ধর্মীয় পরিবেশ তাঁর মানসগঠনে প্রভাব ফেলে।
দক্ষিণেশ্বরের সাধনা
পরবর্তীকালে কলকাতার নিকটবর্তী দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দিরে তিনি পুরোহিত হিসেবে দায়িত্ব নেন। রানী রাসমণির প্রতিষ্ঠিত ওই মন্দিরেই তাঁর আধ্যাত্মিক সাধনার মূল পর্ব শুরু হয়। মা কালীকে তিনি জীবন্ত ঈশ্বররূপে অনুভব করতেন বলে তাঁর শিষ্যদের বর্ণনায় পাওয়া যায়।দক্ষিণেশ্বরে অবস্থানকালে তিনি তান্ত্রিক, বৈষ্ণব, শৈবসহ হিন্দুধর্মের বিভিন্ন সাধনপদ্ধতি অনুশীলন করেন। এমনকি ইসলাম ও খ্রিষ্টধর্মের আধ্যাত্মিক অনুশীলনও গ্রহণ করেন বলে তাঁর জীবনীগ্রন্থগুলোতে উল্লেখ রয়েছে। তাঁর অভিজ্ঞতা থেকে তিনি উপসংহারে পৌঁছান যে বিভিন্ন ধর্মপথ শেষ পর্যন্ত একই সত্যের দিকে নির্দেশ করে।
সারদা দেবী ও গার্হস্থ্য জীবন
শ্রী রামকৃষ্ণের স্ত্রী সারদা দেবী পরবর্তীকালে ‘শ্রীশারদা মা’ নামে পরিচিত হন। তিনি নিজেও আধ্যাত্মিক সাধনায় প্রতিষ্ঠিত এক ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্বীকৃতি পান। সারদা দেবীর জীবনযাপন ও নারীর মর্যাদা বিষয়ে তাঁর অবস্থান পরবর্তীকালে রামকৃষ্ণ আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।রামকৃষ্ণ সংসারজীবনকে সম্পূর্ণ ত্যাগ না করেও আধ্যাত্মিক জীবনযাপন সম্ভব—এ ধারণা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, ঈশ্বরপ্রেম ও মানবসেবা একই ধারার অংশ।
স্বামী বিবেকানন্দ ও বিশ্বমঞ্চে প্রভাব
নরেন্দ্রনাথ দত্ত, যিনি পরে স্বামী বিবেকানন্দ নামে পরিচিত হন, ছিলেন শ্রী রামকৃষ্ণের অন্যতম প্রধান শিষ্য। নরেন্দ্রনাথের যুক্তিবাদী মনকে তিনি আধ্যাত্মিক উপলব্ধির পথে পরিচালিত করেন। ১৮৮৬ সালে শ্রী রামকৃষ্ণের মহাসমাধির পর বিবেকানন্দ তাঁর আদর্শকে সংগঠিত রূপ দেন।১৮৯৩ সালে শিকাগো ধর্মমহাসভায় স্বামী বিবেকানন্দের বক্তৃতার মাধ্যমে রামকৃষ্ণের সার্বজনীন ধর্মদর্শন বিশ্বমঞ্চে পরিচিতি পায়। পরবর্তীকালে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও মানবকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
রামকৃষ্ণ মিশনের কার্যক্রম
রামকৃষ্ণ মিশন ১৮৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মূলমন্ত্র—‘আত্মনো মোক্ষার্থং জগদ্ধিতায় চ’—অর্থাৎ আত্মমুক্তি ও জগতের কল্যাণ। বর্তমানে ভারত, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বহু দেশে মিশনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও সমাজসেবামূলক প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে।বাংলাদেশেও রামকৃষ্ণ মিশনের শাখা কার্যক্রম রয়েছে। শিক্ষা, চিকিৎসা ও ত্রাণসেবায় তারা কাজ করছে। জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বিশেষ পূজা ও ধর্মসভা আয়োজন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ও দর্শন
শ্রী রামকৃষ্ণের মূল বার্তা ছিল ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ঈশ্বর উপলব্ধি। তিনি বলতেন, বিভিন্ন ধর্মপথ একই সত্যের দিকে নিয়ে যায়। এই ভাবনা ঔপনিবেশিক যুগে ধর্মীয় দ্বন্দ্বের প্রেক্ষাপটে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দেয়।তাঁর জীবনদর্শন ব্যক্তিগত আধ্যাত্মিকতা, মানবপ্রেম ও সরলতার ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি আড়ম্বরবর্জিত জীবনযাপন করতেন এবং শিষ্যদের নৈতিক শুদ্ধতার ওপর গুরুত্ব দিতে বলতেন।
আজকের প্রাসঙ্গিকতা
বর্তমান বিশ্বে ধর্মীয় বিভাজন ও সহিংসতার প্রেক্ষাপটে শ্রী রামকৃষ্ণের সার্বজনীনতার বার্তা নতুন করে আলোচিত হচ্ছে। আন্তঃধর্মীয় সংলাপ ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় তাঁর শিক্ষা প্রাসঙ্গিক বলে ধর্মতত্ত্ববিদরা মনে করেন।জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বিভিন্ন আশ্রমে আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, রামকৃষ্ণের শিক্ষা কেবল আচারনির্ভর ধর্ম নয়, বরং আত্মানুসন্ধান ও মানবসেবার পথ দেখায়। তাঁর আদর্শ ব্যক্তি ও সমাজজীবনে নৈতিকতা ও সহমর্মিতার চর্চা জোরদার করতে পারে।
১৮৩৬ সালে জন্ম নেওয়া এই আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব ১৮৮৬ সালের ১৬ আগস্ট পরলোকগমন করেন। তবে তাঁর জীবন ও শিক্ষা আজও ভক্ত ও অনুসারীদের অনুপ্রাণিত করে চলেছে। জন্মজয়ন্তীর এই দিনে ভক্তরা তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন এবং মানবকল্যাণের আদর্শে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছেন।
...