নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন বহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভোটাররা ভোটকেন্দ্রের ভেতরে তো বটেই, কেন্দ্রের চারপাশের ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যেও মোবাইল ফোন নিয়ে যেতে পারবেন না।
রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভোটগ্রহণের দিন এই নির্দেশনা কঠোরভাবে কার্যকর থাকবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি তদারকি করবে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সাধারণ ভোটারদের ক্ষেত্রে মোবাইল ফোন বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকলেও নির্দিষ্ট তিন শ্রেণির দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন। তাঁরা হলেন ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার, দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ ইনচার্জ এবং ‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ ব্যবহারকারী আনসার বা ভিডিপির দুই সদস্য।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন থাকলে ছবি তোলা, ভিডিও ধারণ কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা গোপন ব্যালটের নীতি ও ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশের পরিপন্থী। এ ধরনের অনিয়ম ঠেকাতেই আগেভাগে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আগামী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবার দেশের ৬৪ জেলায় মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৪২ হাজারের বেশি এবং ভোটকক্ষের সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ।
এদিন জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯ আসনে ভোটগ্রহণ হবে। শেরপুর-৩ আসনের এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ওই আসনে ভোট স্থগিত রয়েছে। নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ৫১টি রাজনৈতিক দল এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, নির্ধারিত নিয়ম মেনে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করার জন্য এবং মোবাইল ফোন সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার জন্য, যাতে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করা যায়।