বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাব-এ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঐক্য পরিষদের নেতারা তাদের অবস্থান তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা প্রশ্ন তোলেন—ড. ইউনূস কি সাম্প্রদায়িকতার এমন একটি নতুন সংজ্ঞা দাঁড় করাতে চান, যেখানে কেবল মন্দির বা উপাসনালয়ের ভেতরে সংঘটিত সহিংসতাই সাম্প্রদায়িকতা হিসেবে বিবেচিত হবে, আর সমাজ ও রাষ্ট্রের অন্য পরিসরে সংঘটিত ঘটনাগুলো সাম্প্রদায়িক সহিংসতা হিসেবে গণ্য হবে না? এই ধরনের সংজ্ঞাকে তারা ‘অগ্রহণযোগ্য ও বাস্তবতা-বিচ্ছিন্ন’ বলে অভিহিত করেন।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত এক বছরে দেশে মোট ৫২২টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে শুধু জানুয়ারি মাসেই ঘটেছে ৪২টি ঘটনা। এসব ঘটনার কারণে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। তারা নিজ দেশেই নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।
ঐক্য পরিষদের অভিযোগ, এই পরিস্থিতিতে সরকার, প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন কিংবা রাজনৈতিক দলগুলোর কেউই সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে আস্থা ও আশার সঞ্চার করতে পারছে না।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সংবাদ সম্মেলনে বেশ কয়েকটি দাবি উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—নির্বাচনে সমান সুযোগ নিশ্চিত করা, ধর্ম ও সাম্প্রদায়িকতার রাজনৈতিক ব্যবহার নিষিদ্ধ করা এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য একটি কার্যকর মনিটরিং সেল গঠন।
এছাড়াও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী সেনা মোতায়েন, ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো বক্তব্য ও গুজবের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি এবং সংশ্লিষ্টদের প্রার্থিতা বাতিলের দাবি জানানো হয়।
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে ঐক্য পরিষদ বলে, নির্বাচনী ইশতেহারে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তাদের সুরক্ষায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
