সংঘটিত হয়েছে।
সংগঠনটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, দেশীয় সংবাদপত্র ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই পরিসংখ্যান প্রস্তুত করা হয়েছে।
এছাড়া, রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রাক্কালে—২০২৪ সালের ৪ আগস্ট থেকে ওই বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে—বাংলাদেশে ২,১৮৪টি সাম্প্রদায়িক ঘটনার উল্লেখ পাওয়া গেছে বলেও সংগঠনটি দাবি করে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, এই ঘটনাগুলোর মধ্যে রয়েছে ৬১টি হত্যাকাণ্ড, নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের ২৮টি ঘটনা, উপাসনালয়ে হামলা, প্রতিমা ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ৯৫টি ঘটনা, এবং উপাসনালয়ের জমি দখল বা দখলের চেষ্টার ২১টি ঘটনা।
অন্যদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের একটি সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সংঘটিত মোট ৬৪৫টি সহিংস ঘটনার মধ্যে মাত্র ৭১টি ঘটনায় সাম্প্রদায়িক উপাদান রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। বাকি ঘটনাগুলোকে সাম্প্রদায়িক নয় বলে উল্লেখ করা হয়।
এই ভিন্নমুখী পরিসংখ্যান তুলে ধরে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ প্রশ্ন তোলে—সাম্প্রদায়িক সহিংসতার সংজ্ঞা কি নতুনভাবে নির্ধারণ করা হচ্ছে? তাদের মতে, কেবল উপাসনালয়ের ভেতরে সংঘটিত ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা হিসেবে দেখলে সমাজ ও রাষ্ট্রে ঘটে যাওয়া বহু বাস্তব ঘটনার গুরুত্ব খাটো করা হয়।
সংগঠনটি আরও মনে করে, জাতি, ধর্ম ও পরিচয় নির্বিশেষে সকল নাগরিকের অংশগ্রহণে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন আয়োজনের পথে এখনো নানা প্রতিবন্ধকতা রয়ে গেছে।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর উসকানিমূলক বক্তব্য এবং ধর্মীয় পার্থক্যকে কেন্দ্র করে বিদ্বেষ ছড়ানো শুধু সামাজিক সম্প্রীতিই নষ্ট করছে না, বরং সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর মানসিক ও সামাজিক চাপও বাড়াচ্ছে।
এই ধরনের পরিস্থিতি সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি করে, যা ভবিষ্যতে তাদের ভোটদানে নিরুৎসাহিত করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।