সরস্বতী পূজার দিনে একযোগে আটটি ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় আকারের একাডেমিক আয়োজন নির্ধারিত হওয়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ তুলেছেন যে, ধর্মীয় অনুভূতি ও সাংস্কৃতিক মর্যাদাকে উপেক্ষা করে এই গুরুত্বপূর্ণ দিনটিতে পরীক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনস্ত ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির মাধ্যমে আগামী ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি আটটি ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা একযোগে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ পরীক্ষায় দেশজুড়ে হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী অংশ নেবেন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সনাতন ধর্মাবলম্বী রয়েছেন। অথচ একই দিনে সরস্বতী পূজা—হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে যা জ্ঞান, বিদ্যা ও শিক্ষার দেবী সরস্বতীর আরাধনার অন্যতম প্রধান দিন।
শিক্ষার্থীরা জানান, সরস্বতী পূজার দিনে পরীক্ষা আয়োজন তাদের জন্য কেবল ধর্মীয় নয়, মানসিক ও সামাজিক সংকটও তৈরি করছে। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের দায়িত্ব এবং ভবিষ্যৎ নির্ধারণকারী একটি বড় চাকরির পরীক্ষার মধ্যে এই দ্বন্দ্ব শিক্ষার্থীদের চাপের মধ্যে ফেলছে এবং অনেকের অংশগ্রহণে বিঘ্ন ঘটাতে পারে।
একই দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও ‘Let’s Know The World’-এর যৌথ উদ্যোগে “Beyond the Classroom: National Science & Creative Carnival–2026” শীর্ষক একটি জাতীয় আয়োজন নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল ও সংশ্লিষ্ট স্থানে অনুষ্ঠেয় এই আয়োজনে পোস্টার প্রেজেন্টেশন, আর্ট ও ফটোগ্রাফি প্রদর্শনীসহ নানা সৃজনশীল প্রতিযোগিতা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এই অনুষ্ঠানে নির্বাচিত পোস্টারের জন্য ৩০ হাজার টাকারও বেশি প্রাইজমানি ঘোষণা করা হয়েছে।
সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, একটি জাতীয় পর্যায়ের শিক্ষামূলক ও সৃজনশীল আয়োজনও সরস্বতী পূজার মতো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় দিনে নির্ধারিত হলে তা বহুধর্মীয় রাষ্ট্রের সহনশীলতার পরিপন্থী হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো দেশের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন সিদ্ধান্তকে তারা অধিকতর দুঃখজনক বলে মনে করছেন।
এ অবস্থায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক, ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে পরীক্ষার তারিখ ও আয়োজনের সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করার জোর দাবি জানানো হয়েছে। তাদের মতে, ক্যালেন্ডারে অসংখ্য বিকল্প দিন থাকা সত্ত্বেও একটি গুরুত্বपূর্ণ ধর্মীয় উৎসবের দিনে এমন কার্যক্রম নির্ধারণ করা অপ্রয়োজনীয় ও সংবেদনশীলতাবর্জিত।
তারা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টির গুরুত্ব উপলব্ধি করে দ্রুত সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করবেন এবং সকল ধর্মের শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় অধিকার ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করবেন।