সনাতন পত্র ডেস্ক
প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিবেদন
বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো যখন জেনারেটিভ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে প্রতিযোগিতায় নেমেছে, ঠিক সেই সময় নতুন এক কর্মপদ্ধতির ধারণা সামনে এনেছে মাইক্রোসফট। প্রতিষ্ঠানটি তাদের অফিস সফটওয়্যার ব্যবস্থায় যুক্ত করেছে “Copilot Cowork” নামের একটি উন্নত এআই সহকারী। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল আরেকটি সাধারণ চ্যাটবট নয়; বরং এটি এমন একটি ডিজিটাল সহকারী, যা অফিসের নিত্যদিনের বিভিন্ন কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করতে পারে।
মাইক্রোসফটের এই নতুন এআই টুলটি সরাসরি Microsoft 365 প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করবে। অর্থাৎ ব্যবহারকারীকে আলাদা কোনো ওয়েবসাইট বা অ্যাপ ব্যবহার করতে হবে না। Outlook, Teams, Excel কিংবা Word–এর মতো পরিচিত সফটওয়্যারগুলোর ভেতরেই Copilot Cowork সক্রিয় থাকবে। ব্যবহারকারী শুধু নির্দেশ দিলে এই এআই সহকারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রয়োজনীয় কাজগুলো সম্পন্ন করতে পারবে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগটি কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারকে আরও বাস্তবমুখী করে তুলতে পারে। কারণ Copilot Cowork এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে এটি একজন কর্মীর ডিজিটাল সহকারী হিসেবে কাজ করে। ইমেইল ব্যবস্থাপনা, মিটিং প্রস্তুতি, ডেটা বিশ্লেষণ বা গবেষণা—এ ধরনের বিভিন্ন কাজ একসঙ্গে পরিচালনা করতে পারে এই সিস্টেম।
এই নতুন টুলটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর পেছনের প্রযুক্তি। জানা গেছে, এতে Anthropic প্রতিষ্ঠানের উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল Claude ব্যবহার করা হয়েছে। মাইক্রোসফট নিজেদের প্রযুক্তির পাশাপাশি এই মডেলের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে Copilot Cowork–কে আরও কার্যকর করার চেষ্টা করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমন্বয় কর্মক্ষেত্রের এআই টুলগুলোর মানকে নতুন স্তরে নিয়ে যেতে পারে।
ব্যবহারকারী চাইলে এটিকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য গভীর মনোযোগ দিয়ে কাজ করার সময়ও নির্ধারণ করতে বলতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, প্রতিদিন সকালে নির্দিষ্ট সময় দুই ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন কাজের জন্য ব্লক করে রাখা সম্ভব। ফলে কর্মীরা সহজেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে মনোযোগ দিতে পারবেন এবং অপ্রয়োজনীয় মিটিং কমানো সম্ভব হবে।
ব্যবহারকারী যদি কোনো ক্লায়েন্ট বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আসন্ন বৈঠকের তথ্য প্রদান করেন, তবে এই এআই সহকারী সেই তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট তৈরি করতে পারে। একটি সংক্ষিপ্ত ব্রিফিং নোট, শিল্পক্ষেত্র অনুযায়ী প্রস্তুত করা উপস্থাপনা এবং সম্ভাব্য ফলো-আপ ইমেইল—সবকিছু একত্রে তৈরি করা সম্ভব। এমনকি মিটিংয়ের আগে প্রস্তুতির জন্য ক্যালেন্ডারে আলাদা সময়ও নির্ধারণ করে দিতে পারে এটি।
উদাহরণস্বরূপ, কোনো প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক আর্থিক প্রতিবেদন, বিশ্লেষকদের মন্তব্য এবং গত কয়েক মাসের সংবাদ সংগ্রহ করে একটি সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ তৈরি করা সম্ভব। একই সঙ্গে সংগৃহীত ডেটাগুলো Excel ফাইলে সাজিয়ে রাখা যায়, যাতে ব্যবহারকারী সহজেই পরবর্তী বিশ্লেষণ করতে পারেন। ফলে গবেষণা ও ডেটা সংগ্রহের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।
একই সঙ্গে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ উপস্থাপনা তৈরি করতে পারে, যেখানে পণ্যের লক্ষ্যবস্তু গ্রাহকগোষ্ঠী, সময়সূচি এবং বিভিন্ন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির তালিকা উল্লেখ থাকবে। এভাবে একটি ধারণাকে দ্রুত বাস্তব পরিকল্পনায় রূপ দেওয়া সহজ হতে পারে।
যারা আগ্রহী, তারা Microsoft 365 অ্যাকাউন্টে লগইন করে সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের ওয়েটলিস্টে নাম লেখাতে পারেন। ড্যাশবোর্ড বা সার্চ অপশনে গিয়ে Frontier Program খুঁজে সাইন-আপের সুযোগ পাওয়া যায়। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়েটলিস্ট পূর্ণ হওয়ার আগেই আগ্রহীদের আবেদন করা উচিত।
বিশ্লেষকদের ধারণা, কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার আগামী বছরগুলোতে আরও দ্রুত বাড়বে। Copilot Cowork–এর মতো টুলগুলো যদি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে অফিসের অনেক পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এতে কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সৃজনশীল কাজে বেশি সময় দিতে পারবেন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই ধরনের এআই সহকারী ব্যবহারকারীর অনুমতি ছাড়া বড় কোনো পদক্ষেপ নেয় না। প্রতিটি কাজের আগে ব্যবহারকারীর অনুমোদন নেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ফলে প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণও ব্যবহারকারীর হাতেই থাকে।
মাইক্রোসফটের এই নতুন এআই টুলটি সরাসরি Microsoft 365 প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করবে। অর্থাৎ ব্যবহারকারীকে আলাদা কোনো ওয়েবসাইট বা অ্যাপ ব্যবহার করতে হবে না। Outlook, Teams, Excel কিংবা Word–এর মতো পরিচিত সফটওয়্যারগুলোর ভেতরেই Copilot Cowork সক্রিয় থাকবে। ব্যবহারকারী শুধু নির্দেশ দিলে এই এআই সহকারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রয়োজনীয় কাজগুলো সম্পন্ন করতে পারবে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগটি কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারকে আরও বাস্তবমুখী করে তুলতে পারে। কারণ Copilot Cowork এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে এটি একজন কর্মীর ডিজিটাল সহকারী হিসেবে কাজ করে। ইমেইল ব্যবস্থাপনা, মিটিং প্রস্তুতি, ডেটা বিশ্লেষণ বা গবেষণা—এ ধরনের বিভিন্ন কাজ একসঙ্গে পরিচালনা করতে পারে এই সিস্টেম।
এই নতুন টুলটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর পেছনের প্রযুক্তি। জানা গেছে, এতে Anthropic প্রতিষ্ঠানের উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল Claude ব্যবহার করা হয়েছে। মাইক্রোসফট নিজেদের প্রযুক্তির পাশাপাশি এই মডেলের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে Copilot Cowork–কে আরও কার্যকর করার চেষ্টা করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমন্বয় কর্মক্ষেত্রের এআই টুলগুলোর মানকে নতুন স্তরে নিয়ে যেতে পারে।
অফিসের সময়সূচি স্বয়ংক্রিয়ভাবে গুছিয়ে দেওয়া
Copilot Cowork–এর অন্যতম উল্লেখযোগ্য সুবিধা হলো এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্যালেন্ডার ও সময়সূচি পরিচালনা করতে পারে। অনেক কর্মীর জন্য প্রতিদিনের মিটিং, কাজের তালিকা এবং সময় ব্যবস্থাপনা একটি জটিল বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। এই এআই সহকারী Outlook ক্যালেন্ডার বিশ্লেষণ করে সংঘর্ষপূর্ণ মিটিং শনাক্ত করতে পারে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন সময়সূচি প্রস্তাব করতে পারে।ব্যবহারকারী চাইলে এটিকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য গভীর মনোযোগ দিয়ে কাজ করার সময়ও নির্ধারণ করতে বলতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, প্রতিদিন সকালে নির্দিষ্ট সময় দুই ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন কাজের জন্য ব্লক করে রাখা সম্ভব। ফলে কর্মীরা সহজেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে মনোযোগ দিতে পারবেন এবং অপ্রয়োজনীয় মিটিং কমানো সম্ভব হবে।
মিটিংয়ের সম্পূর্ণ প্রস্তুতি এক কমান্ডে
কোনো গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ের আগে প্রয়োজন হয় বিভিন্ন প্রস্তুতির। যেমন—ব্রিফিং ডকুমেন্ট তৈরি, উপস্থাপনার স্লাইড বানানো এবং মিটিং শেষে পাঠানোর জন্য ফলো-আপ ইমেইল প্রস্তুত করা। Copilot Cowork এই পুরো প্রক্রিয়াটিই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম।ব্যবহারকারী যদি কোনো ক্লায়েন্ট বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আসন্ন বৈঠকের তথ্য প্রদান করেন, তবে এই এআই সহকারী সেই তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট তৈরি করতে পারে। একটি সংক্ষিপ্ত ব্রিফিং নোট, শিল্পক্ষেত্র অনুযায়ী প্রস্তুত করা উপস্থাপনা এবং সম্ভাব্য ফলো-আপ ইমেইল—সবকিছু একত্রে তৈরি করা সম্ভব। এমনকি মিটিংয়ের আগে প্রস্তুতির জন্য ক্যালেন্ডারে আলাদা সময়ও নির্ধারণ করে দিতে পারে এটি।
গভীর গবেষণা ও ডেটা বিশ্লেষণ
Copilot Cowork–এর আরেকটি উল্লেখযোগ্য ব্যবহার হলো গবেষণা ও তথ্য বিশ্লেষণ। অফিসের কাজ কিংবা শিক্ষাক্ষেত্রে প্রায়ই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আর্থিক তথ্য, প্রতিবেদন বা সাম্প্রতিক সংবাদ বিশ্লেষণ করতে হয়। এই এআই সহকারী নির্দিষ্ট কোম্পানি সম্পর্কে বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে তা বিশ্লেষণ করতে পারে।উদাহরণস্বরূপ, কোনো প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক আর্থিক প্রতিবেদন, বিশ্লেষকদের মন্তব্য এবং গত কয়েক মাসের সংবাদ সংগ্রহ করে একটি সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ তৈরি করা সম্ভব। একই সঙ্গে সংগৃহীত ডেটাগুলো Excel ফাইলে সাজিয়ে রাখা যায়, যাতে ব্যবহারকারী সহজেই পরবর্তী বিশ্লেষণ করতে পারেন। ফলে গবেষণা ও ডেটা সংগ্রহের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।
নতুন পণ্য বাজারে আনার পরিকল্পনা
ব্যবসা বা উদ্যোক্তা কার্যক্রমে নতুন পণ্য বাজারে আনার আগে বিস্তারিত পরিকল্পনার প্রয়োজন হয়। Copilot Cowork এই পরিকল্পনা তৈরিতেও সহায়তা করতে পারে। ব্যবহারকারী যদি নতুন কোনো পণ্যের ধারণা প্রদান করেন, তাহলে এই এআই সহকারী বাজার বিশ্লেষণ, প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানের তুলনামূলক তথ্য এবং সম্ভাব্য বিপণন কৌশল প্রস্তুত করতে পারে।একই সঙ্গে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ উপস্থাপনা তৈরি করতে পারে, যেখানে পণ্যের লক্ষ্যবস্তু গ্রাহকগোষ্ঠী, সময়সূচি এবং বিভিন্ন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির তালিকা উল্লেখ থাকবে। এভাবে একটি ধারণাকে দ্রুত বাস্তব পরিকল্পনায় রূপ দেওয়া সহজ হতে পারে।
কীভাবে পাওয়া যাবে এই টুলের অ্যাক্সেস
বর্তমানে Copilot Cowork পুরোপুরি উন্মুক্ত করা হয়নি। মাইক্রোসফট জানিয়েছে, এটি আপাতত গবেষণা পর্যায়ের প্রিভিউ হিসেবে সীমিত সংখ্যক ব্যবহারকারীর জন্য উপলব্ধ। তবে ভবিষ্যতে Frontier Program–এর মাধ্যমে ধীরে ধীরে আরও বেশি ব্যবহারকারীর জন্য এটি উন্মুক্ত করা হতে পারে।যারা আগ্রহী, তারা Microsoft 365 অ্যাকাউন্টে লগইন করে সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের ওয়েটলিস্টে নাম লেখাতে পারেন। ড্যাশবোর্ড বা সার্চ অপশনে গিয়ে Frontier Program খুঁজে সাইন-আপের সুযোগ পাওয়া যায়। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়েটলিস্ট পূর্ণ হওয়ার আগেই আগ্রহীদের আবেদন করা উচিত।
বিশ্লেষকদের ধারণা, কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার আগামী বছরগুলোতে আরও দ্রুত বাড়বে। Copilot Cowork–এর মতো টুলগুলো যদি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে অফিসের অনেক পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এতে কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সৃজনশীল কাজে বেশি সময় দিতে পারবেন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই ধরনের এআই সহকারী ব্যবহারকারীর অনুমতি ছাড়া বড় কোনো পদক্ষেপ নেয় না। প্রতিটি কাজের আগে ব্যবহারকারীর অনুমোদন নেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ফলে প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণও ব্যবহারকারীর হাতেই থাকে।
প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: এখন সময়
...