ইরানে ‘ব্যাপক হামলা’ ইসরায়েলের, যুদ্ধ থামাতে চুক্তিতে রাজি নন ট্রাম্প

Sanatan Patra
ইরানে ‘ব্যাপক হামলা’ ইসরায়েলের, যুদ্ধ থামাতে চুক্তিতে রাজি নন ট্রাম্প
ইরানে ‘ব্যাপক হামলা’ ইসরায়েলের, যুদ্ধ থামাতে চুক্তিতে রাজি নন ট্রাম্প
সনাতন পত্র ডেস্ক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। ইরানের বিভিন্ন স্থানে ‘ব্যাপক আকারে’ বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে ইসরায়েল। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, চলমান সংঘাত থামাতে ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি করতে এখনো প্রস্তুত নয় যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের একাধিক সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। হামলায় মধ্য ইরানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় হতাহতের খবরও পাওয়া যাচ্ছে, যদিও তাৎক্ষণিকভাবে সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করা যায়নি।

এই হামলার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরান যুদ্ধ শেষ করতে আলোচনায় আগ্রহ দেখালেও যুক্তরাষ্ট্র এখনই কোনো সমঝোতায় যেতে রাজি নয়। তার ভাষায়, ইরান যে শর্ত দিয়েছে তা এখনো গ্রহণযোগ্য নয়। তাই যুদ্ধবিরতি বা সমঝোতার বিষয়টি বিবেচনা করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

ট্রাম্প আরও বলেন, যুদ্ধ শেষ করার জন্য কোনো চুক্তি হলে তা “খুব শক্ত এবং নির্ভরযোগ্য” হতে হবে। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, ইরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে পরিত্যাগ করার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে—এমন শর্তও সম্ভাব্য আলোচনার অংশ হতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান এই সংঘাত শুরু হয় ফেব্রুয়ারির শেষদিকে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। এরপর থেকে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা দ্রুত বাড়তে থাকে এবং একাধিক পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে।

ইরানও এর জবাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। ইরানের সামরিক বাহিনী বলছে, তারা ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে আঘাত হেনেছে। এসব ঘটনার ফলে পুরো অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত কেবল দুই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংকটে রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা বাড়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও তেলের দামেও প্রভাব পড়ছে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ইতোমধ্যে তেলের দাম বৃদ্ধি, জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এদিকে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিভিন্ন দেশ মধ্যস্থতার মাধ্যমে যুদ্ধ থামানোর চেষ্টা করলেও এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় শান্তি আলোচনা শুরু করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গভীরভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। অনেক দেশই আশঙ্কা করছে, এই সংঘাত যদি আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করে, তাহলে তা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের ভবিষ্যৎ এখন অনেকটাই নির্ভর করছে কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং সামরিক পরিস্থিতির ওপর। যদি সংঘাত অব্যাহত থাকে, তাহলে এটি দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে।

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১১:১২ PM
...

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Out
Ok, Go it!
To Top