বিমান হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সেনাপ্রধান নিহত

Sanatan Patra
ইরানে বিমান হামলা
Reporter
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সনাতন পত্র
তেহরান সরকার নিশ্চিত করেছে যে সাম্প্রতিক বিমান হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও দেশটির সেনাপ্রধান নিহত হয়েছেন। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এবং সরকারি মুখপাত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়, শনিবার গভীর রাতে রাজধানী তেহরান ও আশপাশের সামরিক স্থাপনায় একাধিক সমন্বিত হামলা চালানো হয়। এতে শীর্ষ সামরিক নেতৃত্ব সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, হামলার সময় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক চলছিল। সেই সময় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ভবনের একটি অংশ ধ্বংস হয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং সেনাবাহিনীর প্রধান নিহত হন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও কয়েকজন ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র জানান, হামলাটি ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক। সামরিক বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, এই হামলায় দূরপাল্লার নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। স্থানীয় সময় রাত প্রায় ১টার দিকে প্রথম বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। পরপর তিন দফা বিস্ফোরণে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

তেহরানের বিভিন্ন অংশে সামরিক সতর্কতা জারি করা হয়েছে। রাজধানীর আকাশপথ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানায়, নিরাপত্তার স্বার্থে কয়েক ঘণ্টা বিমান চলাচল স্থগিত রাখা হয়েছিল। পরে সীমিত আকারে তা পুনরায় চালু করা হয়।

ইরান সরকার এই হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে। তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষও সরাসরি দায় স্বীকার করেনি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার পর এই হামলার ঘটনা ঘটলো।

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জরুরি বৈঠক করেছে। বৈঠকে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সীমান্ত সুরক্ষা এবং সম্ভাব্য পাল্টা পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিহত প্রতিরক্ষামন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে সামরিক কৌশল ও প্রতিরক্ষা নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিলেন। সেনাপ্রধানও দেশের সামরিক কাঠামোর অন্যতম প্রধান ব্যক্তি ছিলেন। তাদের মৃত্যুর ফলে সামরিক নেতৃত্বে তাৎক্ষণিক পরিবর্তন আনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্বভার কাকে দেওয়া হবে তা নিয়ে সরকার শিগগির ঘোষণা দেবে বলে জানানো হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন।

হামলার পর রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে। সামরিক ঘাঁটি, পারমাণবিক স্থাপনা এবং সরকারি ভবনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকাতেও সতর্কতা বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এবং শেয়ারবাজারে অস্থিরতা দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আসে, তবে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এর প্রভাব আরও বিস্তৃত হতে পারে।

ইরানের ভেতরে বিভিন্ন শহরে শোকসভা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। সরকারিভাবে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। নিহত দুই শীর্ষ কর্মকর্তার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। হামলার উৎস ও ব্যবহৃত অস্ত্রের ধরন বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রস্তুত করছে। সরকার বলছে, বিস্তারিত তথ্য যাচাই শেষে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হবে।

পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ থাকলেও রাজধানীতে জনজীবন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। তবে নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
প্রকাশ: ১ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১ মার্চ ২০২৬
তেহরানে বিমান হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সেনাপ্রধান নিহত হয়েছেন। সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য নিশ্চিত করেছে, আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে।
...

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Out
Ok, Go it!
To Top