তেহরানে হামলায় খামেনেই নিহত, ৪০ কর্মকর্তা প্রাণ হারাল

Sanatan Patra
তেহরানে হামলার পর নিরাপত্তা জোরদার
Reporter Logo
নিজস্ব সংবাদদাতা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
তেহরানে নিজ দপ্তরে সশস্ত্র হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই নিহত হওয়ার ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। মার্কিন কয়েকটি গণমাধ্যমের দাবি, একই দিনে পৃথক বিমান হামলায় ইরানের অন্তত ৪০ জন উচ্চপদস্থ সামরিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা প্রাণ হারিয়েছেন। যদিও ইরানের পক্ষ থেকে এই সংখ্যার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ দেওয়া হয়নি।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, খামেনেই দপ্তরে বৈঠক চলাকালীন বিস্ফোরণ ও গুলির ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে। হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ওই হামলায় তাঁর কন্যা ও নাতনিও নিহত হয়েছেন বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরান ও আশপাশের সামরিক স্থাপনায় লক্ষ্য করে পরিচালিত বিমান হামলায় বিপ্লবী গার্ডের একাধিক জ্যেষ্ঠ কমান্ডার, গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তা এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পর্যায়ের প্রশাসনিক ব্যক্তিরা নিহত হন। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হামলাগুলি ছিল সমন্বিত এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস এক বিবৃতিতে বলেছে, দেশের নেতৃত্ব ও সামরিক কাঠামোর ওপর আঘাত হানার চেষ্টা হয়েছে। তারা ‘ইতিহাসের সবচেয়ে তীব্র হামলা’র মাধ্যমে প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা অটুট রয়েছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিমান হামলার বিষয়ে ইরান সরকার সরাসরি কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেনি। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, দেশের আকাশসীমা লঙ্ঘনের যে কোনো ঘটনা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে। তারা জাতিসংঘে বিষয়টি উত্থাপনের ইঙ্গিত দিয়েছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, একই দিনে দপ্তরে হামলা এবং সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলার দাবি সত্য হলে তা ইরানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বড় ধাক্কা। এতে সামরিক নেতৃত্বে তাৎক্ষণিক পরিবর্তন ও পুনর্গঠন প্রয়োজন হতে পারে। উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মৃত্যুর ফলে কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে বলে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

দেশের পার্লামেন্টের জরুরি বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ তদন্তের পাশাপাশি সম্ভাব্য বিদেশি সংশ্লিষ্টতার দিকটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরকার কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করতে রাজি নয়।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়াও দ্রুত আসতে শুরু করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছে। তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এবং বৈশ্বিক শেয়ারবাজারেও প্রভাব পড়েছে। জাতিসংঘ শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং উত্তেজনা বৃদ্ধি এড়াতে সংযম প্রদর্শনের অনুরোধ করেছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই হামলাগুলি যদি সমন্বিত হয়ে থাকে, তবে তা আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে নতুন পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। ইরানের নেতৃত্ব পরিবর্তন, সামরিক কৌশল পুনর্বিন্যাস এবং সম্ভাব্য পাল্টা পদক্ষেপ—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

সরকারিভাবে ৪০ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার মৃত্যুর বিষয়টি এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। তবে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তার মৃত্যু ঘটেছে এবং বাকিদের পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ তালিকা পরে প্রকাশ করা হতে পারে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে শোক পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য বিভ্রান্তি রোধে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

ইরান সরকার জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় আছে। একই সঙ্গে নাগরিকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
প্রকাশ: ১ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১ মার্চ ২০২৬, ২১:১০
তেহরানে হামলায় খামেনেই নিহতের পর মার্কিন গণমাধ্যমের দাবি, পৃথক বিমান হামলায় ইরানের ৪০ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা প্রাণ হারিয়েছেন।
...

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Out
Ok, Go it!
To Top