প্রযুক্তি ডেস্ক
সনাতন পত্র
পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথ এখন আর শুধু বিজ্ঞানীদের গবেষণার জায়গা নয়, বরং ট্রিলিয়ন ডলারের এক উদীয়মান অর্থনীতির কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। মহাকাশে ডেটা সেন্টার তৈরি থেকে শুরু করে বিশ্বজুড়ে উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা—সব মিলিয়ে এ খাতে এখন শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগের জোয়ার বইছে।
নাসার সংজ্ঞা অনুযায়ী, পৃথিবী থেকে ২ হাজার কিলোমিটার বা তার কম উচ্চতায় অবস্থিত অঞ্চলকে ‘লো আর্থ অরবিট’ বা এলইও বলা হয়। একসময় এটি ছিল গবেষণার ক্ষেত্র, কিন্তু বর্তমানে ন্যাভিগেশন, টেলিযোগাযোগ, প্রতিরক্ষা ও ইন্টারনেট সংযোগের মূল ভিত্তি হয়ে উঠেছে।
২০২৫ সালে এই খাতে সাড়ে ৪ হাজার কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ হয়েছে, যা এক বছর আগেই ছিল আড়াই হাজার কোটি ডলারের ওপরে। সুইস সাইবার সিকিউরিটি প্রতিষ্ঠান ওয়াইজকি’র প্রধান নির্বাহী কার্লোস মোরেরা বলেছেন, “পৃথিবীর বন্দর, কেবল বা এনার্জি গ্রিডের মতোই কক্ষপথ এখন এক কৌশলগত সম্পদে পরিণত হচ্ছে।”
ইলন মাস্কের স্পেসএক্স বর্তমানে স্টারলিংকের অধীনে সাড়ে ৯ হাজারেরও বেশি স্যাটেলাইট পরিচালনা করছে। কোম্পানিটি আরও কয়েক হাজার স্যাটেলাইট পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে। মাস্ক সৌরশক্তিচালিত ‘অরবিটাল ডেটা সেন্টার’ প্রকল্পের প্রস্তাব দিয়েছেন, যেখানে ভবিষ্যতে প্রায় ১০ লাখ স্যাটেলাইট থাকতে পারে।
এনভিডিয়া সম্প্রতি কক্ষপথে এআই কম্পিউটিং সুবিধা পৌঁছে দিতে নতুন প্ল্যাটফর্ম উন্মোচন করেছে। স্যান হোসেতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের জিটিসি সম্মেলনে এনভিডিয়া প্রধান জেনসেন হুয়াং বলেছেন, “একসময় স্পেস কম্পিউটিং ছিল শেষ প্রান্তর, যা এখন নাগালে এসেছে।”
অ্যামাজন ‘প্রজেক্ট কুইপার’ নামে পরিচিত তাদের এলইও প্রকল্পে তিন হাজারেরও বেশি স্যাটেলাইট পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। এফসিসি তাদের আরও সাড়ে চার হাজার স্যাটেলাইট পাঠানোর অনুমোদন দিয়েছে। পাশাপাশি জেফ বেজোসের ব্লু অরিজিন ২০২৭ সালের শেষদিকে পাঁচ হাজারেরও বেশি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ইউরোপে ইউটেলস্যাটের ওয়ানওয়েব নেটওয়ার্কে বর্তমানে ছয়শর বেশি স্যাটেলাইট রয়েছে। ফ্রান্স সরকার কোম্পানিটিতে ১৫৮ কোটি ডলার বিনিয়োগ করে ৩০ শতাংশ শেয়ার কিনেছে। অন্যদিকে চীন ১৪টি নেটওয়ার্কের অধীনে দুই লাখেরও বেশি স্যাটেলাইট পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে।
স্পেস ক্যাপিটালের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত মহাকাশ অর্থনীতিতে ৪০ হাজার কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ হয়েছে। এর অর্ধেকেরও বেশি এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। স্পেস ক্যাপিটালের সিইও চ্যাড এন্ডারসন বলেছেন, এ শিল্পটি এখন “কয়েক দশকের দীর্ঘ অবকাঠামো চক্রের প্রাথমিক পর্যায়ে” রয়েছে।
তবে বাজারের প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে বড় বাধা হচ্ছে নিম্ন কক্ষপথের অগোছালো শাসনব্যবস্থা। আন্তর্জাতিক মহাকাশ চুক্তি অনুসারে, যে কোনো রাষ্ট্র তাদের আওতাধীন সব ধরনের মহাকাশীয় কর্মকাণ্ডের জন্য দায়বদ্ধ। কিন্তু বর্তমান আইনি কাঠামো অনেকাংশে জিইও বা ভূ স্থির কক্ষপথের জন্য তৈরি হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেহেতু এখন আর সরকার নয় বরং বিভিন্ন বাণিজ্যিক কোম্পানিই মহাকাশের মূল ব্যবহারকারী হয়ে উঠছে, তাই নিয়মকানুন প্রণয়নে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দরকার।
প্রকাশ তারিখ: ২৫ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ২৫ মার্চ ২০২৬
নাসার সংজ্ঞা অনুযায়ী, পৃথিবী থেকে ২ হাজার কিলোমিটার বা তার কম উচ্চতায় অবস্থিত অঞ্চলকে ‘লো আর্থ অরবিট’ বা এলইও বলা হয়। একসময় এটি ছিল গবেষণার ক্ষেত্র, কিন্তু বর্তমানে ন্যাভিগেশন, টেলিযোগাযোগ, প্রতিরক্ষা ও ইন্টারনেট সংযোগের মূল ভিত্তি হয়ে উঠেছে।
২০২৫ সালে এই খাতে সাড়ে ৪ হাজার কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ হয়েছে, যা এক বছর আগেই ছিল আড়াই হাজার কোটি ডলারের ওপরে। সুইস সাইবার সিকিউরিটি প্রতিষ্ঠান ওয়াইজকি’র প্রধান নির্বাহী কার্লোস মোরেরা বলেছেন, “পৃথিবীর বন্দর, কেবল বা এনার্জি গ্রিডের মতোই কক্ষপথ এখন এক কৌশলগত সম্পদে পরিণত হচ্ছে।”
ইলন মাস্কের স্পেসএক্স বর্তমানে স্টারলিংকের অধীনে সাড়ে ৯ হাজারেরও বেশি স্যাটেলাইট পরিচালনা করছে। কোম্পানিটি আরও কয়েক হাজার স্যাটেলাইট পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে। মাস্ক সৌরশক্তিচালিত ‘অরবিটাল ডেটা সেন্টার’ প্রকল্পের প্রস্তাব দিয়েছেন, যেখানে ভবিষ্যতে প্রায় ১০ লাখ স্যাটেলাইট থাকতে পারে।
এনভিডিয়া সম্প্রতি কক্ষপথে এআই কম্পিউটিং সুবিধা পৌঁছে দিতে নতুন প্ল্যাটফর্ম উন্মোচন করেছে। স্যান হোসেতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের জিটিসি সম্মেলনে এনভিডিয়া প্রধান জেনসেন হুয়াং বলেছেন, “একসময় স্পেস কম্পিউটিং ছিল শেষ প্রান্তর, যা এখন নাগালে এসেছে।”
অ্যামাজন ‘প্রজেক্ট কুইপার’ নামে পরিচিত তাদের এলইও প্রকল্পে তিন হাজারেরও বেশি স্যাটেলাইট পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। এফসিসি তাদের আরও সাড়ে চার হাজার স্যাটেলাইট পাঠানোর অনুমোদন দিয়েছে। পাশাপাশি জেফ বেজোসের ব্লু অরিজিন ২০২৭ সালের শেষদিকে পাঁচ হাজারেরও বেশি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ইউরোপে ইউটেলস্যাটের ওয়ানওয়েব নেটওয়ার্কে বর্তমানে ছয়শর বেশি স্যাটেলাইট রয়েছে। ফ্রান্স সরকার কোম্পানিটিতে ১৫৮ কোটি ডলার বিনিয়োগ করে ৩০ শতাংশ শেয়ার কিনেছে। অন্যদিকে চীন ১৪টি নেটওয়ার্কের অধীনে দুই লাখেরও বেশি স্যাটেলাইট পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে।
স্পেস ক্যাপিটালের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত মহাকাশ অর্থনীতিতে ৪০ হাজার কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ হয়েছে। এর অর্ধেকেরও বেশি এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। স্পেস ক্যাপিটালের সিইও চ্যাড এন্ডারসন বলেছেন, এ শিল্পটি এখন “কয়েক দশকের দীর্ঘ অবকাঠামো চক্রের প্রাথমিক পর্যায়ে” রয়েছে।
তবে বাজারের প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে বড় বাধা হচ্ছে নিম্ন কক্ষপথের অগোছালো শাসনব্যবস্থা। আন্তর্জাতিক মহাকাশ চুক্তি অনুসারে, যে কোনো রাষ্ট্র তাদের আওতাধীন সব ধরনের মহাকাশীয় কর্মকাণ্ডের জন্য দায়বদ্ধ। কিন্তু বর্তমান আইনি কাঠামো অনেকাংশে জিইও বা ভূ স্থির কক্ষপথের জন্য তৈরি হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেহেতু এখন আর সরকার নয় বরং বিভিন্ন বাণিজ্যিক কোম্পানিই মহাকাশের মূল ব্যবহারকারী হয়ে উঠছে, তাই নিয়মকানুন প্রণয়নে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দরকার।
প্রকাশ তারিখ: ২৫ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ২৫ মার্চ ২০২৬
...