বিনোদন ডেস্ক
ঢাকা, বাংলাদেশ
উপমহাদেশের সংগীত জগতে এক গভীর বিষাদের ছায়া নেমে এসেছে। বছরের শুরুতেই অরিজিৎ
সিংয়ের প্লেব্যাক থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণার ধাক্কা সামলানোর আগেই এবার তার পথেই
হাঁটার ইঙ্গিত দিলেন মেলোডি কুইন শ্রেয়া ঘোষাল। সম্প্রতি ভারতীয় এক
সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শ্রেয়া জানিয়েছেন, তিনিও বর্তমানে গান থেকে
সাময়িক বিরতি এবং প্লেব্যাক থেকে অবসরের কথা গুরুত্ব দিয়ে ভাবছেন। এই দুই
শীর্ষস্থানীয় নক্ষত্রের এমন সিদ্ধান্ত সংগীতপ্রেমীদের মনে বড় এক প্রশ্নের জন্ম
দিয়েছে—তবে কি বলিউড প্লেব্যাাকের সোনালী অধ্যায় এখন শেষের পথে?
কেন এই আকস্মিক অবসরের ভাবনা?
সাক্ষাৎকারে শ্রেয়া ঘোষাল তার ক্লান্তির কথা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন। দীর্ঘ দুই দশক ধরে অগণিত কালজয়ী গান উপহার দেওয়া এই শিল্পী বর্তমান সংগীতাঙ্গনের পরিবেশ নিয়ে কিছুটা অসন্তুষ্ট। তার মতে, বর্তমানে গানের ধরনে যে পরিবর্তন আসছে, তা সব সময় একজন প্রকৃত শিল্পীর জন্য সুখকর নয়। বিশেষ করে সৃজনশীলতার চেয়ে ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি এবং যান্ত্রিক কারসাজি যখন শিল্পকে গ্রাস করে, তখন একজন খাঁটি শিল্পী সেখানে নিজেকে মানিয়ে নিতে কষ্ট পান। শ্রেয়া জানান, তিনি এখন কিছুটা শান্তিতে থাকতে চান এবং নিজের সৃজনশীলতাকে নতুন কোনো দিকে পরিচালিত করতে চান।
লিপ-সিঙ্ক বিতর্ক ও পেশাদারিত্বের চরম সীমায় শ্রেয়া
এই সাক্ষাৎকারে শ্রেয়া ঘোষাল যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তা হলো লাইভ পারফরম্যান্সে ‘লিপ-সিঙ্ক’ বা আগে থেকে রেকর্ড করা গানের সাথে ঠোঁট মেলানোর প্রবণতা। বর্তমানে অনেক বড় বড় কনসার্টে প্রযুক্তির সাহায্যে গান গেয়ে শ্রোতাদের বিভ্রান্ত করা হয়, যা শ্রেয়া একেবারেই সমর্থন করেন না। তিনি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন যে, যেদিন তাকে মঞ্চে দাঁড়িয়ে কণ্ঠের বদলে যান্ত্রিক কারসাজির ওপর নির্ভর করতে হবে, সেদিনই তিনি পেশাদার সংগীত জীবন থেকে অবসর নেবেন। তার এই সাহসি অবস্থান প্রমাণ করে যে, তিনি শিল্পের বিশুদ্ধতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে কতটা আপসহীন।
অরিজিৎ সিংয়ের ফেলে আসা পথ
উল্লেখ্য যে, চলতি বছরের শুরুতেই অরিজিৎ সিং প্লেব্যাক থেকে বিরতি নেওয়ার কথা জানিয়ে তার কোটি কোটি ভক্তকে স্তব্ধ করে দিয়েছিলেন। অরিজিৎ তার বার্তায় জানিয়েছিলেন যে, তিনি এখন আর প্রথাগত সিনেমার গান গাওয়ার চেয়ে স্বাধীন সংগীত বা নিজের মতো করে সুর সাধনায় বেশি মনোযোগ দিতে চান। শ্রেয়া নিজেও অরিজিতের এই সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেন এবং জানান যে, তারও মাঝে মাঝে এমন বৈরাগ্য আসে। দীর্ঘদিনের কাজের চাপে একজন মানুষের মানসিক ও শারীরিক যে ক্লান্তি আসে, শ্রেয়া এখন সেই ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলতে চাইছেন।
সংগীত ইন্ডাস্ট্রিতে এর প্রভাব ও ভবিষ্যৎ
শ্রেয়া ঘোষাল এবং অরিজিৎ সিং এমন দুজন শিল্পী যাদের অনুপস্থিতি প্লেব্যাক ইন্ডাস্ট্রিকে কার্যত অভিভাবকহীন করে তুলবে। গত বিশ বছরে এমন কোনো সুপারহিট সিনেমা নেই যেখানে তাদের অন্তত একটি গান ছিল না। নতুন প্রজন্মের অনেক মেধাবী শিল্পী আসলেও শ্রেয়া বা অরিজিতের মতো ভার্সেটাইল বা বহুমুখী প্রতিভা খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। তাদের এই প্রস্থান ঘোষণা মূলত বর্তমানের ‘শর্টকাট’ সংগীত তৈরির সংস্কৃতির বিরুদ্ধে একটি বড় প্রতিবাদ। যদি সত্যিই তারা সরে দাঁড়ান, তবে প্রযোজক ও সংগীত পরিচালকদের এক বড় ধরনের শূন্যতা পূরণ করতে হিমশিম খেতে হবে।
ভক্তদের প্রত্যাশা ও শেষ কথা
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ভক্তদের মধ্যে হাহাকার দেখা দিয়েছে। অনেক ভক্তই মনে করছেন, প্রিয় শিল্পীরা হয়তো অভিমান থেকে এমন কথা বলেছেন। তারা আশা করছেন, দীর্ঘস্থায়ী অবসর না হয়ে এটি হয়তো ছোট কোনো বিরতি হবে। তবে শ্রেয়া ঘোষালের মতো শিল্পীর এমন ইঙ্গিত হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। উপমহাদেশের সংগীতাঙ্গনে কি তবে এক যুগের অবসান হতে চলেছে? উত্তরটা সময়ের হাতে থাকলেও, শ্রেয়া এবং অরিজিতের অবদান সংগীতের ইতিহাসে চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
কেন এই আকস্মিক অবসরের ভাবনা?
সাক্ষাৎকারে শ্রেয়া ঘোষাল তার ক্লান্তির কথা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন। দীর্ঘ দুই দশক ধরে অগণিত কালজয়ী গান উপহার দেওয়া এই শিল্পী বর্তমান সংগীতাঙ্গনের পরিবেশ নিয়ে কিছুটা অসন্তুষ্ট। তার মতে, বর্তমানে গানের ধরনে যে পরিবর্তন আসছে, তা সব সময় একজন প্রকৃত শিল্পীর জন্য সুখকর নয়। বিশেষ করে সৃজনশীলতার চেয়ে ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি এবং যান্ত্রিক কারসাজি যখন শিল্পকে গ্রাস করে, তখন একজন খাঁটি শিল্পী সেখানে নিজেকে মানিয়ে নিতে কষ্ট পান। শ্রেয়া জানান, তিনি এখন কিছুটা শান্তিতে থাকতে চান এবং নিজের সৃজনশীলতাকে নতুন কোনো দিকে পরিচালিত করতে চান।
লিপ-সিঙ্ক বিতর্ক ও পেশাদারিত্বের চরম সীমায় শ্রেয়া
এই সাক্ষাৎকারে শ্রেয়া ঘোষাল যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তা হলো লাইভ পারফরম্যান্সে ‘লিপ-সিঙ্ক’ বা আগে থেকে রেকর্ড করা গানের সাথে ঠোঁট মেলানোর প্রবণতা। বর্তমানে অনেক বড় বড় কনসার্টে প্রযুক্তির সাহায্যে গান গেয়ে শ্রোতাদের বিভ্রান্ত করা হয়, যা শ্রেয়া একেবারেই সমর্থন করেন না। তিনি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন যে, যেদিন তাকে মঞ্চে দাঁড়িয়ে কণ্ঠের বদলে যান্ত্রিক কারসাজির ওপর নির্ভর করতে হবে, সেদিনই তিনি পেশাদার সংগীত জীবন থেকে অবসর নেবেন। তার এই সাহসি অবস্থান প্রমাণ করে যে, তিনি শিল্পের বিশুদ্ধতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে কতটা আপসহীন।
অরিজিৎ সিংয়ের ফেলে আসা পথ
উল্লেখ্য যে, চলতি বছরের শুরুতেই অরিজিৎ সিং প্লেব্যাক থেকে বিরতি নেওয়ার কথা জানিয়ে তার কোটি কোটি ভক্তকে স্তব্ধ করে দিয়েছিলেন। অরিজিৎ তার বার্তায় জানিয়েছিলেন যে, তিনি এখন আর প্রথাগত সিনেমার গান গাওয়ার চেয়ে স্বাধীন সংগীত বা নিজের মতো করে সুর সাধনায় বেশি মনোযোগ দিতে চান। শ্রেয়া নিজেও অরিজিতের এই সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেন এবং জানান যে, তারও মাঝে মাঝে এমন বৈরাগ্য আসে। দীর্ঘদিনের কাজের চাপে একজন মানুষের মানসিক ও শারীরিক যে ক্লান্তি আসে, শ্রেয়া এখন সেই ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলতে চাইছেন।
সংগীত ইন্ডাস্ট্রিতে এর প্রভাব ও ভবিষ্যৎ
শ্রেয়া ঘোষাল এবং অরিজিৎ সিং এমন দুজন শিল্পী যাদের অনুপস্থিতি প্লেব্যাক ইন্ডাস্ট্রিকে কার্যত অভিভাবকহীন করে তুলবে। গত বিশ বছরে এমন কোনো সুপারহিট সিনেমা নেই যেখানে তাদের অন্তত একটি গান ছিল না। নতুন প্রজন্মের অনেক মেধাবী শিল্পী আসলেও শ্রেয়া বা অরিজিতের মতো ভার্সেটাইল বা বহুমুখী প্রতিভা খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। তাদের এই প্রস্থান ঘোষণা মূলত বর্তমানের ‘শর্টকাট’ সংগীত তৈরির সংস্কৃতির বিরুদ্ধে একটি বড় প্রতিবাদ। যদি সত্যিই তারা সরে দাঁড়ান, তবে প্রযোজক ও সংগীত পরিচালকদের এক বড় ধরনের শূন্যতা পূরণ করতে হিমশিম খেতে হবে।
ভক্তদের প্রত্যাশা ও শেষ কথা
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ভক্তদের মধ্যে হাহাকার দেখা দিয়েছে। অনেক ভক্তই মনে করছেন, প্রিয় শিল্পীরা হয়তো অভিমান থেকে এমন কথা বলেছেন। তারা আশা করছেন, দীর্ঘস্থায়ী অবসর না হয়ে এটি হয়তো ছোট কোনো বিরতি হবে। তবে শ্রেয়া ঘোষালের মতো শিল্পীর এমন ইঙ্গিত হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। উপমহাদেশের সংগীতাঙ্গনে কি তবে এক যুগের অবসান হতে চলেছে? উত্তরটা সময়ের হাতে থাকলেও, শ্রেয়া এবং অরিজিতের অবদান সংগীতের ইতিহাসে চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৬, ১১:৪৫ এএম | আপডেট: রাত ৯:১৫
...