স্বাস্থ্য প্রতিবেদন
নিজস্ব ডেস্ক
রমজান মাসে ইফতারের টেবিলে ভাজাপোড়া খাবার অনেক পরিবারের নিয়মিত অংশ। বেগুনি, পেঁয়াজু, আলুর চপ, পুরি বা বিভিন্ন ডিপ ফ্রাইড খাবার ছাড়া ইফতার সম্পূর্ণ হয় না—এমন ধারণাও প্রচলিত। বাসা-বাড়ির পাশাপাশি রেস্তোরাঁতেও একই প্রবণতা দেখা যায়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, টানা এক মাস প্রতিদিন ভাজাপোড়া খাবার খেলে শরীরে একাধিক পরিবর্তন ঘটে, যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেডের মেডিসিন বিভাগের অ্যাসোসিয়েট কনসালট্যান্ট ডা. তাসনোভা মাহিন জানান, দীর্ঘ সময় রোজা রাখার পর অতিরিক্ত তেলযুক্ত ও লবণসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করলে শরীরের বিপাকক্রিয়ায় চাপ পড়ে। তিনি বলেন, মাঝেমধ্যে সীমিত পরিমাণে ভাজাপোড়া খাওয়া ক্ষতিকর নাও হতে পারে, কিন্তু প্রতিদিন একাধিক ভাজা খাবার গ্রহণ করলে তার প্রভাব ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়।
ভাজা খাবারে লবণের পরিমাণও তুলনামূলক বেশি থাকে। লবণ শরীরে পানি ধরে রাখে। রক্তে লবণের মাত্রা বাড়লে শরীরে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। হাত-পা ভারী লাগা বা মুখে পানি জমার মতো অনুভূতি হতে পারে। এই জমে থাকা পানির কারণেও ওজন সাময়িকভাবে বৃদ্ধি পায়।
লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমলে ফ্যাটি লিভার রোগের ঝুঁকি বাড়ে। যাদের ওজন বেশি, ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি। ভুঁড়ি বাড়া বা পেটের ভেতরের অঙ্গগুলোর চারপাশে চর্বি জমাও দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্রোগের কারণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইফতারে সম্পূর্ণ ভাজাপোড়া বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। একটি ছোট ভাজা আইটেমের সঙ্গে ফল, চিড়া, টক দই, সবজির সালাদ ও পর্যাপ্ত পানি রাখা ভালো। এতে পুষ্টির ভারসাম্য বজায় থাকে।
সাহ্রিতে আঁশযুক্ত ও প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করলে সারাদিন শক্তি ধরে রাখা সহজ হয়। লবণ কম খেলে তৃষ্ণা কম লাগে।
সব মিলিয়ে টানা এক মাস ভাজাপোড়া খাওয়ার অভ্যাস শরীরে নীরব পরিবর্তন আনে। সচেতন খাদ্য নির্বাচন ও সংযম বজায় রাখলে এসব ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব বলে মত চিকিৎসকদের।
স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেডের মেডিসিন বিভাগের অ্যাসোসিয়েট কনসালট্যান্ট ডা. তাসনোভা মাহিন জানান, দীর্ঘ সময় রোজা রাখার পর অতিরিক্ত তেলযুক্ত ও লবণসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করলে শরীরের বিপাকক্রিয়ায় চাপ পড়ে। তিনি বলেন, মাঝেমধ্যে সীমিত পরিমাণে ভাজাপোড়া খাওয়া ক্ষতিকর নাও হতে পারে, কিন্তু প্রতিদিন একাধিক ভাজা খাবার গ্রহণ করলে তার প্রভাব ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়।
ওজন বৃদ্ধি ও পানি জমার প্রবণতা
ভাজাপোড়া খাবারে সাধারণত অতিরিক্ত ক্যালরি থাকে। তেলে ভাজার ফলে খাবারের শক্তিমান বৃদ্ধি পায়। রমজান মাসে অনেকে নিয়মিত ব্যায়াম করতে পারেন না। ফলে অতিরিক্ত ক্যালরি খরচ না হয়ে শরীরে জমা হয় এবং চর্বিতে রূপান্তরিত হয়। এতে অল্প সময়ের মধ্যেই ওজন বাড়তে পারে।ভাজা খাবারে লবণের পরিমাণও তুলনামূলক বেশি থাকে। লবণ শরীরে পানি ধরে রাখে। রক্তে লবণের মাত্রা বাড়লে শরীরে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। হাত-পা ভারী লাগা বা মুখে পানি জমার মতো অনুভূতি হতে পারে। এই জমে থাকা পানির কারণেও ওজন সাময়িকভাবে বৃদ্ধি পায়।
পিপাসা ও পানিশূন্যতার ঝুঁকি
অতিরিক্ত লবণ শরীরের কোষের ভেতর ও বাইরের পানির ভারসাম্য নষ্ট করে। রক্তনালিতে পানি থাকলেও কোষের ভেতরে পানির ঘাটতি তৈরি হতে পারে। ফলে ঘন ঘন পিপাসা লাগে। ইফতার থেকে সাহ্রি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি পান না করলে পানিশূন্যতার ঝুঁকি বাড়ে। এতে মাথাব্যথা, ক্লান্তি ও অবসাদ দেখা দিতে পারে।পেটের সমস্যা ও অ্যাসিডিটি
নিয়মিত ভাজাপোড়া খেলে হজম প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। খালি পেটে অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার গেলে গ্যাস্ট্রিক, বুকজ্বালা ও অ্যাসিডিটির সমস্যা বাড়তে পারে। অনেক সময় খাবার গলার দিকে উঠে আসার অনুভূতিও হয়। দীর্ঘমেয়াদে পাকস্থলীতে প্রদাহের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।চর্বি জমা ও ফ্যাটি লিভারের আশঙ্কা
বাড়তি ক্যালরি শরীরে চর্বি হিসেবে সঞ্চিত হয়। এই চর্বি শুধু ত্বকের নিচে নয়, রক্তনালির দেয়ালেও জমতে পারে। রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইড ও খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ে। এতে ধমনি সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমলে ফ্যাটি লিভার রোগের ঝুঁকি বাড়ে। যাদের ওজন বেশি, ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি। ভুঁড়ি বাড়া বা পেটের ভেতরের অঙ্গগুলোর চারপাশে চর্বি জমাও দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্রোগের কারণ হতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদি রোগের সম্ভাবনা
অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস উচ্চ রক্তচাপ ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। রক্তনালিতে চর্বি জমে গেলে হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়। একই তেল বারবার ব্যবহার করলে ট্রান্স ফ্যাট তৈরি হতে পারে, যা স্বাস্থ্যের জন্য আরও ক্ষতিকর।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইফতারে সম্পূর্ণ ভাজাপোড়া বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। একটি ছোট ভাজা আইটেমের সঙ্গে ফল, চিড়া, টক দই, সবজির সালাদ ও পর্যাপ্ত পানি রাখা ভালো। এতে পুষ্টির ভারসাম্য বজায় থাকে।
সাহ্রিতে আঁশযুক্ত ও প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করলে সারাদিন শক্তি ধরে রাখা সহজ হয়। লবণ কম খেলে তৃষ্ণা কম লাগে।
সব মিলিয়ে টানা এক মাস ভাজাপোড়া খাওয়ার অভ্যাস শরীরে নীরব পরিবর্তন আনে। সচেতন খাদ্য নির্বাচন ও সংযম বজায় রাখলে এসব ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব বলে মত চিকিৎসকদের।
প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ০১ মার্চ ২০২৬
...
