নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে অনিয়ম, কেন্দ্র দখল ও ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে সংসদে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত প্রায় দেড়টার দিকে রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, দলটি নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে বিতর্কিত ১৫০টি আসনে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে মত হয়েছে—পুনর্নির্বাচনের বিষয়ে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সংসদে যোগ দেওয়া হবে না।
দলটির হাইকমান্ডের একাধিক দায়িত্বশীল নেতা গণমাধ্যমকে জানান, নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে বলে তারা মনে করছেন। তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন আসনে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে এবং ফলাফলে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়নি। এসব কারণে নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে।
জামায়াতে ইসলামী জানিয়েছে, ১৫০টি আসনে পুনরায় স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় তারা রাজনৈতিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে। দলটির পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, দাবি আদায়ে রাজপথে কর্মসূচি ও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে।
তবে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। কমিশনের কর্মকর্তারা বলেছেন, যেসব অভিযোগ এসেছে, তা লিখিতভাবে জানালে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে প্রধান দলগুলোর অবস্থান দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। সংসদে অংশগ্রহণ না করলে বিরোধী কণ্ঠ কতটা সক্রিয় থাকবে, সেটিও একটি বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ইতোমধ্যে বেসরকারিভাবে প্রকাশিত হয়েছে এবং শপথ গ্রহণের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় জামায়াতে ইসলামী সংসদে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
...