খেলা ডেস্ক
আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮:১০
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার হার নতুন ঘটনা নয়। ২০০৭ সালের প্রথম আসরেই এমন অভিজ্ঞতা হয়েছিল রিকি পন্টিংয়ের দলের। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। কলম্বোয় ২৩ রানের হারের পর ‘বি’ গ্রুপে অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান এখন তৃতীয়, আর সুপার এইটে ওঠা নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় অনিশ্চয়তা।
পয়েন্ট টেবিলের সমীকরণ
প্রথম দুই ম্যাচ জিতে ৪ পয়েন্ট করে পেয়েছে শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ে। সমান দুই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ২ পয়েন্ট। হাতে রয়েছে শ্রীলঙ্কা ও ওমানের বিপক্ষে ম্যাচ। দুই ম্যাচ জিতলে অস্ট্রেলিয়ার পয়েন্ট হবে ৬। কিন্তু তাতেও নিশ্চিত নয় সুপার এইট, কারণ শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়েরও ৬ পয়েন্টে পৌঁছানোর সুযোগ রয়েছে। সে ক্ষেত্রে নেট রান রেট নির্ধারণ করবে ভাগ্য। ১৬ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচটি কার্যত ‘ডু অর ডাই’। এই ম্যাচে হারলে বিদায় প্রায় নিশ্চিত। জিতলেও তাকিয়ে থাকতে হবে অন্য ম্যাচের ফলের দিকে।চোটে জর্জরিত অস্ট্রেলিয়া
টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই ছিটকে গেছেন দলের দুই প্রধান পেসার প্যাট কামিন্স ও জস হ্যাজলউড। অধিনায়ক মিচেল মার্শ অনুশীলনে চোট পেয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলতে পারেননি। দায়িত্ব পালন করেছেন ট্রাভিস হেড। নতুন দুশ্চিন্তা অলরাউন্ডার মার্কাস স্টয়নিসকে নিয়ে। বোলিংয়ের সময় আঙুলে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাঁকে। পরে ব্যাটিংয়ে নেমে মাত্র ৬ রান করে আউট হন। পরের ম্যাচে তিনি খেলতে পারবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ধারাভাষ্যে থাকা সাবেক অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ মন্তব্য করেন, ‘অস্ট্রেলিয়া আর কোনো চোট সইতে পারবে না।’স্টয়নিসের গুরুত্ব কতটা?
২০২১ সালের বিশ্বকাপজয়ী অস্ট্রেলিয়া দলে স্টয়নিস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। সে আসরে ১৩৭ স্ট্রাইক রেটে ৮০ রান করেছিলেন তিনি। ২০২২ ও ২০২৪ আসরেও ছিলেন ধারাবাহিক। এবারও প্রথম ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৪৫ রান করেন। তাঁর অনুপস্থিতি হলে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং-বোলিং ভারসাম্যে বড় ধাক্কা লাগবে।পেছনের পরিসংখ্যান ও বর্তমান বাস্তবতা
২০২১ সালের শিরোপার পর সর্বশেষ দুই আসরে অস্ট্রেলিয়া সেমিফাইনালে উঠতে পারেনি। সুপার টুয়েলভ ও সুপার এইট থেকেই বিদায় নিয়েছে। এবার প্রথম রাউন্ড পেরোনোই হয়ে দাঁড়িয়েছে কঠিন চ্যালেঞ্জ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারের পর সুপার এইটের পথ জটিল হয়ে গেছে। সামনে শ্রীলঙ্কা ম্যাচে জিততে না পারলে বিশ্বকাপ মিশন থেমে যেতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের জন্য এটি নিঃসন্দেহে বড় সতর্কবার্তা।
...