
এক সময় অপরাধ জগতের আলোচিত নাম ‘মুন্না ভাই’। সহিংসতা, ভয় আর অপরাধের গল্পে যিনি দীর্ঘদিন ছিলেন শিরোনামে। সেই মানুষটির জীবনেই নাকি ঘটেছে এক অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন। কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে কাটানো দিনগুলোতে তিনি ধীরে ধীরে ঝুঁকেছেন আধ্যাত্মিকতার পথে—এমনই দাবি কারা কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
কারাগার সূত্র জানায়, বন্দিজীবনের একপর্যায়ে নিজেকে বদলানোর সিদ্ধান্ত নেন মুন্না ভাই। শুরুটা হয় ধর্মগ্রন্থ পাঠের মাধ্যমে। নিয়মিত পাঠ করতে থাকেন শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ও রামায়ণ। ধীরে ধীরে এসব গ্রন্থের দর্শন, নৈতিকতা ও আত্মসংযমের শিক্ষা তার মানসিকতায় প্রভাব ফেলতে শুরু করে।
কারা কর্তৃপক্ষের একজন কর্মকর্তা জানান, “আগে তিনি ছিলেন চরম রাগী ও অস্থির। কিন্তু গত কয়েক মাসে তার আচরণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। এখন তিনি শান্ত, সংযত এবং অন্য বন্দিদের সঙ্গেও মানবিক আচরণ করেন।” ধর্মগ্রন্থ পাঠের পাশাপাশি ধ্যান ও আত্মসমালোচনাও করছেন বলে জানা গেছে।
কারাগারের অন্য বন্দিরাও বলছেন, মুন্না ভাই এখন নিয়মিত নৈতিকতা ও জীবনবোধ নিয়ে আলোচনা করেন। কেউ হতাশ হলে তাকে সান্ত্বনা দেন, সহিংসতা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন। এক সময় যিনি ভয়ংকর অপরাধী হিসেবে পরিচিত ছিলেন, আজ তাকেই অনেকে দেখছেন এক ভিন্ন মানুষ হিসেবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ কারাবাস অনেক সময় মানুষের ভেতরের জগতে বড় পরিবর্তন এনে দেয়। আত্মঅনুসন্ধান ও আধ্যাত্মিক চর্চা একজন অপরাধীকেও আত্মশুদ্ধির পথে নিয়ে যেতে পারে। তবে এই পরিবর্তন কতটা স্থায়ী হবে, তা সময়ই বলে দেবে।
অপরাধ জগত থেকে আত্মজাগরণের এই যাত্রা সমাজের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে—মানুষ চাইলে ভুলের পথ ছেড়ে পরিবর্তনের দিকেও হাঁটতে পারে। মুন্না ভাইয়ের এই রূপান্তর শেষ পর্যন্ত কতটা বাস্তব ও দীর্ঘস্থায়ী হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
সঞ্জয় বলরাজ দত্ত (জন্ম:২৯ জুলাই ১৯৫৯) হলেন ভারতের একজন জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেতা। তিনি অভিনয়শিল্পী দম্পতি সুনীল দত্ত ও নার্গিস দত্তের সন্তান। ১৯৮১ সালে রকি চলচ্চিত্রে অভিষেকের পর তিনি ১৮০-এর অধিক হিন্দি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। যদিও দত্ত প্রণয়ধর্মী থেকে শুরু করে হাস্যরসাত্মক চলচ্চিত্রে শ্রেষ্ঠাংশে অভিনয় করে সফলতা অর্জন করেছেন, নাট্যধর্মী ও মারপিঠধর্মী চলচ্চিত্রে গ্যাংস্টার, গুন্ডা ও পুলিশ অফিসার চরিত্রে অভিনয় করে তিনি বেশি সমাদৃত হয়েছেন। এইসব চরিত্রে তার কাজের জন্য ভারতীয় গণমাধ্যম ও দর্শক তাকে "ডেডলি দত্ত" বলে অভিহিত করে। তার অভিনীত চলচ্চিত্রসমূহের মধ্যে খলনায়ক (১৯৯৩), বাস্তভ - দি রিয়েলিটি (১৯৯৯), মুন্না ভাই এম.বি.বি.এস. (২০০৩), কেজিএফ: চ্যাপ্টার টু (২০২২) অন্যতম। তিনি আমির খানের সাথে মিলে ২০১৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত পিকে ছবিতে অসাধারণ এক পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করেন।[২] ৩৭ বছরের অধিক চলচ্চিত্র জীবনে তিনি দুটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার, দুটি আইফা পুরস্কার, দুটি বলিউড মুভি পুরস্কার, দুটি স্ক্রিন পুরস্কার, তিনটি স্টারডাস্ট পুরস্কার ও একটি করে গ্লোবাল ইন্ডিয়ান ফিল্ম পুরস্কার ও বঙ্গ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি পুরস্কার অর্জন করেছেন।
১৯৯৩ সালের এপ্রিলে দত্তকে সন্ত্রাসী ও সংহতি নাশমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য গ্রেফতার করা হয়। তার উপর আনা চার্জ মওকুফ হলেও তাকে বেআইনি অস্ত্র রাখার জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়। সাজা ভোগকালীন ভাল ব্যবহার ও আচরণের জন্য ২০১৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তাকে জেল থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।