ঢাবি ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হওয়া অনন্য গাঙ্গুলীর মরদেহ উদ্ধার, পরিবার জানায় আত্মহত্যার সম্ভাবনা
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ঘ ইউনিটে প্রথম স্থান অর্জনকারী অনন্য গাঙ্গুলীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জানা গেছে, শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে নিজের বাসা থেকে তার দেহটি উদ্ধার করা হয়, এবং পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য তাকে পাঠিয়েছে।
ওই সময় মাঠে তাঁর শোক, স্মৃতি ও আত্মহননের সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অনন্য গাঙ্গুলী দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা জীবনে মেধার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছিলেন। পিএসসি, জেএসসি ও এসএসসিতে জিপিএ-৫ অর্জন করার পর কিছু ব্যক্তিগত ও স্বাস্থ্যগত কারণে পড়াশোনায় সাময়িক বিরতি নিয়েছিলেন তিনি। ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ঘ ইউনিটে সর্বোচ্চ নম্বর (১০৩.৯৫) পেয়ে প্রথম হন অনন্য।
পরিবার ও প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, অনন্য অতীতেও মানসিক ও শারীরিক সমস্যায় কিছুকাল ভুগেছেন এবং সাম্প্রতিক সময়ে মানসিক চাপ বাড়তে থাকায় তার আচরণও আগের মতো ছিল না। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক যন্ত্রণা ও চাপ তার এই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এটি এখনও সর্বমোট নিশ্চিত নয় এবং পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে।
অনন্যের পরিবারকর্তা ও আত্মীয়রা সংবাদকর্মীদের বলেন, অনন্য ছিলেন শান্ত ও মেধাবী প্রকৃতির একজন ছাত্র। তিনি পড়াশোনায় বিশেষ আগ্রহী ছিলেন এবং ভবিষ্যতে শিক্ষা ও সমাজে অবদান রাখার ইচ্ছা পোষণ করতেন। তাঁর অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু পরিবারসহ আশপাশের সমাজে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনিক সূত্র জানায় ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানানো হবে এবং তদন্তের ফলে কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে। তদন্ত কর্মকর্তা সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছে, কোনো একটি অনুমান ছাড়াই ঘটনার সঠিক দিকটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অনন্য গাঙ্গুলীর একাডেমিক অর্জন এবং তার বিপুল সম্ভাবনা বাংলাদেশের বহু তরুণ শিক্ষার্থীর কাছে অনুপ্রেরণার উৎস ছিল—এমনটাই মনে করছেন শিক্ষাঙ্গনের অনেকেই। তাঁর অকাল মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোক ও মানবিক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
...