ক্রীড়া ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট প্রতিবেদক
আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্বে বড় ব্যবধানে হেরে অভিযান শুরু করেছে ভারত। রোববার, ২২ ফেব্রুয়ারি, নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা ৭৬ রানের জয় তুলে নেয়। প্রথমে ব্যাট করে ১৮৭ রানের সংগ্রহ গড়া প্রোটিয়ারা পরে নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ভারতকে ১১১ রানে গুটিয়ে দেয়। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষ হওয়ার আগেই, ১৯তম ওভারে ভারতের ইনিংস শেষ হয়ে যায়।
টস জিতে দক্ষিণ আফ্রিকা ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয়। শুরুতে ভারতীয় পেসার জসপ্রিত বুমরাহ আঘাত হানেন। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে তিনি কুইন্টন ডি কককে বোল্ড করে ফেরান। অল্প সময়ের ব্যবধানে অধিনায়ক এইডেন মার্করাম ও রায়ান রিকেলটনও ফিরে গেলে ২০ রানের মধ্যেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা।
প্রাথমিক ধাক্কার পর দলকে ঘুরে দাঁড় করান ডেভিড মিলার ও ডিওয়াল্ড ব্রেভিস। চতুর্থ উইকেটে তাদের জুটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। দুই ব্যাটার ধীরে শুরু করলেও পরে রান তোলার গতি বাড়ান। পাওয়ারপ্লে শেষে ভারতীয় বোলারদের উপর চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করেন তারা। মিড উইকেট ও কভার অঞ্চলে কয়েকটি শক্ত শট ম্যাচে গতি আনে।
ব্রেভিস ৪৫ রান করে আউট হন। ফিফটি থেকে তিন রান দূরে থাকতে শিভম দুবের বলে ক্যাচ দেন তিনি। তবে অপর প্রান্তে মিলার ছিলেন দৃঢ়। মাত্র ৩৫ বলে ৬৩ রান করেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল একাধিক বাউন্ডারি ও ছক্কা। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে স্ট্রাইক রোটেশন এবং খারাপ বল কাজে লাগানোর মাধ্যমে তিনি দলের স্কোরকে প্রতিযোগিতামূলক পর্যায়ে নিয়ে যান।
শেষদিকে ট্রিস্টান স্টাবস ২৪ বলে অপরাজিত ৪৪ রান করেন। ইনিংসের শেষ পাঁচ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকা দ্রুত রান তোলে। ডেথ ওভারে ভারতীয় বোলাররা লাইন-লেন্থ ধরে রাখতে ব্যর্থ হন। ফলে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৮৭ রান সংগ্রহ করে দক্ষিণ আফ্রিকা।
ভারতের পক্ষে জসপ্রিত বুমরাহ ৩টি উইকেট নেন। অর্শদীপ সিং ২টি উইকেট পান। এছাড়া শিভম দুবে ও বরুণ চক্রবর্তী একটি করে উইকেট শিকার করেন। তবে মাঝের ও শেষের ওভারগুলোতে রান নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারায় বড় সংগ্রহ দাঁড় করাতে সক্ষম হয় প্রতিপক্ষ।
১৮৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতের শুরু ছিল হতাশাজনক। প্রথম ওভারেই ইষান কিশান শূন্য রানে আউট হন। টানা কয়েক ম্যাচে ওপেনারদের ব্যর্থতা আবারও সামনে আসে। দ্রুত তিলক ভার্মা ও অভিষেক শর্মাও ফিরে গেলে চাপে পড়ে যায় ভারত।
পাওয়ারপ্লে শেষে ভারতের স্কোর দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ৩১ রান। প্রয়োজনীয় রান রেট দ্রুত বাড়তে থাকে। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব ও ওয়াশিংটন সুন্দর কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তারা কয়েকটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে রান তোলার চেষ্টা করেন, কিন্তু বড় জুটি গড়ে তুলতে পারেননি।
হার্দিক পান্ডিয়া ১৮ রান করে আউট হলে ম্যাচ কার্যত ভারতের হাতছাড়া হয়ে যায়। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকে। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলাররা লাইন-লেন্থ ধরে রেখে চাপ বাড়ান। শর্ট বল ও স্লোয়ার ডেলিভারির মিশ্রণে ভারতীয় ব্যাটারদের ছন্দ নষ্ট করা হয়।
শিভম দুবে শেষদিকে ৩৭ বলে ৪২ রান করেন। তবে তখন ম্যাচ অনেক দূরে সরে গেছে। প্রয়োজনীয় রান রেট দ্বিগুণের বেশি হয়ে যাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ শট খেলতে বাধ্য হন ব্যাটাররা। ১৯তম ওভারে পুরো দল ১১১ রানে অলআউট হয়ে যায়।
দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং ইউনিট সমন্বিত পারফরম্যান্স দেখায়। শুরুতে পেসাররা আঘাত হানেন, পরে স্পিনাররা রান আটকে রাখেন। ফিল্ডিংয়েও ছিল শৃঙ্খলা। ক্যাচ মিস বা ফিল্ডিং ত্রুটি খুব একটা দেখা যায়নি। ফলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরো সময়ই তাদের হাতে ছিল।
এই জয়ের মাধ্যমে সুপার এইট পর্বে ইতিবাচক সূচনা পেল দক্ষিণ আফ্রিকা। বড় ব্যবধানে জয় পাওয়ায় তাদের নেট রান রেটেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। অন্যদিকে ভারতের জন্য এটি সতর্কবার্তা। ব্যাটিং অর্ডারে স্থিতিশীলতা ও পাওয়ারপ্লেতে কার্যকর পারফরম্যান্স নিশ্চিত না করলে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে চাপ বাড়বে।
ম্যাচ শেষে বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দক্ষিণ আফ্রিকা মাঝের ওভারে ৭ থেকে ১৫ ওভারের মধ্যে রান তোলার গতি ধরে রেখেছে। বিপরীতে ভারত একই সময়ে উইকেট হারিয়ে গতি হারায়। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এই পার্থক্যই বড় ব্যবধান তৈরি করেছে।
সামনের ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়াতে হলে ভারতের টপ অর্ডারকে দায়িত্ব নিতে হবে। পাশাপাশি ডেথ ওভারে বোলিং আরও নিয়ন্ত্রিত করতে হবে। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা চাইবে এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে। সুপার এইট পর্বের প্রতিটি ম্যাচ এখন গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সেমিফাইনালে জায়গা করে নিতে পয়েন্টের পাশাপাশি নেট রান রেটও বড় ভূমিকা রাখবে।
সব মিলিয়ে, সুপার এইটের এই ম্যাচে ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং—তিন বিভাগেই এগিয়ে ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ভারতের বিপক্ষে ৭৬ রানের এই জয় তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে এবং টুর্নামেন্টের বাকি অংশে বাড়তি গতি দেবে।
টস জিতে দক্ষিণ আফ্রিকা ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয়। শুরুতে ভারতীয় পেসার জসপ্রিত বুমরাহ আঘাত হানেন। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে তিনি কুইন্টন ডি কককে বোল্ড করে ফেরান। অল্প সময়ের ব্যবধানে অধিনায়ক এইডেন মার্করাম ও রায়ান রিকেলটনও ফিরে গেলে ২০ রানের মধ্যেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা।
প্রাথমিক ধাক্কার পর দলকে ঘুরে দাঁড় করান ডেভিড মিলার ও ডিওয়াল্ড ব্রেভিস। চতুর্থ উইকেটে তাদের জুটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। দুই ব্যাটার ধীরে শুরু করলেও পরে রান তোলার গতি বাড়ান। পাওয়ারপ্লে শেষে ভারতীয় বোলারদের উপর চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করেন তারা। মিড উইকেট ও কভার অঞ্চলে কয়েকটি শক্ত শট ম্যাচে গতি আনে।
ব্রেভিস ৪৫ রান করে আউট হন। ফিফটি থেকে তিন রান দূরে থাকতে শিভম দুবের বলে ক্যাচ দেন তিনি। তবে অপর প্রান্তে মিলার ছিলেন দৃঢ়। মাত্র ৩৫ বলে ৬৩ রান করেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল একাধিক বাউন্ডারি ও ছক্কা। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে স্ট্রাইক রোটেশন এবং খারাপ বল কাজে লাগানোর মাধ্যমে তিনি দলের স্কোরকে প্রতিযোগিতামূলক পর্যায়ে নিয়ে যান।
শেষদিকে ট্রিস্টান স্টাবস ২৪ বলে অপরাজিত ৪৪ রান করেন। ইনিংসের শেষ পাঁচ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকা দ্রুত রান তোলে। ডেথ ওভারে ভারতীয় বোলাররা লাইন-লেন্থ ধরে রাখতে ব্যর্থ হন। ফলে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৮৭ রান সংগ্রহ করে দক্ষিণ আফ্রিকা।
ভারতের পক্ষে জসপ্রিত বুমরাহ ৩টি উইকেট নেন। অর্শদীপ সিং ২টি উইকেট পান। এছাড়া শিভম দুবে ও বরুণ চক্রবর্তী একটি করে উইকেট শিকার করেন। তবে মাঝের ও শেষের ওভারগুলোতে রান নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারায় বড় সংগ্রহ দাঁড় করাতে সক্ষম হয় প্রতিপক্ষ।
১৮৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতের শুরু ছিল হতাশাজনক। প্রথম ওভারেই ইষান কিশান শূন্য রানে আউট হন। টানা কয়েক ম্যাচে ওপেনারদের ব্যর্থতা আবারও সামনে আসে। দ্রুত তিলক ভার্মা ও অভিষেক শর্মাও ফিরে গেলে চাপে পড়ে যায় ভারত।
পাওয়ারপ্লে শেষে ভারতের স্কোর দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ৩১ রান। প্রয়োজনীয় রান রেট দ্রুত বাড়তে থাকে। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব ও ওয়াশিংটন সুন্দর কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তারা কয়েকটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে রান তোলার চেষ্টা করেন, কিন্তু বড় জুটি গড়ে তুলতে পারেননি।
হার্দিক পান্ডিয়া ১৮ রান করে আউট হলে ম্যাচ কার্যত ভারতের হাতছাড়া হয়ে যায়। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকে। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলাররা লাইন-লেন্থ ধরে রেখে চাপ বাড়ান। শর্ট বল ও স্লোয়ার ডেলিভারির মিশ্রণে ভারতীয় ব্যাটারদের ছন্দ নষ্ট করা হয়।
শিভম দুবে শেষদিকে ৩৭ বলে ৪২ রান করেন। তবে তখন ম্যাচ অনেক দূরে সরে গেছে। প্রয়োজনীয় রান রেট দ্বিগুণের বেশি হয়ে যাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ শট খেলতে বাধ্য হন ব্যাটাররা। ১৯তম ওভারে পুরো দল ১১১ রানে অলআউট হয়ে যায়।
দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং ইউনিট সমন্বিত পারফরম্যান্স দেখায়। শুরুতে পেসাররা আঘাত হানেন, পরে স্পিনাররা রান আটকে রাখেন। ফিল্ডিংয়েও ছিল শৃঙ্খলা। ক্যাচ মিস বা ফিল্ডিং ত্রুটি খুব একটা দেখা যায়নি। ফলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরো সময়ই তাদের হাতে ছিল।
এই জয়ের মাধ্যমে সুপার এইট পর্বে ইতিবাচক সূচনা পেল দক্ষিণ আফ্রিকা। বড় ব্যবধানে জয় পাওয়ায় তাদের নেট রান রেটেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। অন্যদিকে ভারতের জন্য এটি সতর্কবার্তা। ব্যাটিং অর্ডারে স্থিতিশীলতা ও পাওয়ারপ্লেতে কার্যকর পারফরম্যান্স নিশ্চিত না করলে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে চাপ বাড়বে।
ম্যাচ শেষে বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দক্ষিণ আফ্রিকা মাঝের ওভারে ৭ থেকে ১৫ ওভারের মধ্যে রান তোলার গতি ধরে রেখেছে। বিপরীতে ভারত একই সময়ে উইকেট হারিয়ে গতি হারায়। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এই পার্থক্যই বড় ব্যবধান তৈরি করেছে।
সামনের ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়াতে হলে ভারতের টপ অর্ডারকে দায়িত্ব নিতে হবে। পাশাপাশি ডেথ ওভারে বোলিং আরও নিয়ন্ত্রিত করতে হবে। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা চাইবে এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে। সুপার এইট পর্বের প্রতিটি ম্যাচ এখন গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সেমিফাইনালে জায়গা করে নিতে পয়েন্টের পাশাপাশি নেট রান রেটও বড় ভূমিকা রাখবে।
সব মিলিয়ে, সুপার এইটের এই ম্যাচে ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং—তিন বিভাগেই এগিয়ে ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ভারতের বিপক্ষে ৭৬ রানের এই জয় তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে এবং টুর্নামেন্টের বাকি অংশে বাড়তি গতি দেবে।
প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
...