টুর্নামেন্ট সূচি ও সম্প্রচার স্বার্থে কঠোর অবস্থানে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা-
ঢাকা: পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যকার বহুল আলোচিত ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)–কে সতর্কবার্তা দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আইসিসি জানিয়েছে, দ্বিপক্ষীয় বা বহুপক্ষীয় টুর্নামেন্টে নির্ধারিত ম্যাচ থেকে একতরফা সরে দাঁড়ানো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাঠামোর জন্য নেতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে।
আইসিসি সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের সূচিতে পাকিস্তান–ভারত ম্যাচ একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই ম্যাচ ঘিরে সম্প্রচার স্বত্ব, স্পন্সরশিপ এবং দর্শক আগ্রহ সরাসরি জড়িত। ফলে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কারণে ম্যাচ বর্জন করলে তা টুর্নামেন্টের আর্থিক ও সাংগঠনিক কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি।
আইসিসি তাদের বার্তায় পিসিবিকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সদস্য বোর্ড হিসেবে নির্ধারিত নিয়ম ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা বাধ্যতামূলক। কোনো ম্যাচে অংশ না নিলে তা আইসিসির আচরণবিধি লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে এবং এর ফলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগও রয়েছে। সম্ভাব্য শাস্তির মধ্যে আর্থিক জরিমানা, পয়েন্ট কর্তন কিংবা ভবিষ্যৎ টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ সংক্রান্ত বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
পিসিবির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। তবে বোর্ডের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, বিষয়টি নিয়ে তারা আইসিসির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং দেশের সরকারের অবস্থানও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। পিসিবি মনে করছে, নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক বাস্তবতা উপেক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান–ভারত ম্যাচ শুধু একটি খেলা নয়, এটি বৈশ্বিক ক্রিকেট অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। এই ম্যাচ বাতিল বা বর্জন করা হলে শুধু দুই দেশের বোর্ড নয়, পুরো টুর্নামেন্টের ওপরই প্রভাব পড়বে। তাই শেষ পর্যন্ত সমঝোতার পথেই এগোতে পারে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো—এমনটাই ধারণা করা হচ্ছে।
আইসিসি জানিয়েছে, তারা চায় ক্রিকেট মাঠেই সব সিদ্ধান্ত হোক এবং খেলাধুলা রাজনৈতিক টানাপোড়েনের বাইরে থাকুক। এই লক্ষ্যেই সদস্য বোর্ডগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।