কাপ্তাইয়ের ‘ফার্স্ট বয়’ জাহেদ এখন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

Sanatan Patra
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান
সনাতন পত্র লোগো
প্রতিনিধি
রাঙামাটি
স্কুলজীবনে যাঁকে সবাই চিনতেন ‘ফার্স্ট বয়’ নামে, সেই জাহেদ উর রহমান এখন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তাঁর এই নতুন দায়িত্বে নিয়োগের খবরে রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনায় আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কর্ণফুলী পেপার মিল (কেপিএম) স্কুলের শিক্ষক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা নিজেদের গর্বিত মনে করছেন।

কেপিএম স্কুলের ১৯৯১ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন জাহেদ উর রহমান। সহপাঠীদের ভাষ্য, স্কুলজীবনে তিনি কখনো দ্বিতীয় হননি। প্রতিটি শ্রেণিতেই প্রথম স্থান অর্জন করতেন। সহপাঠী জাকির হোসেন বলেন, “আমাদের কাছে তাঁর পরিচিতি ছিল ফার্স্ট বয় হিসেবে। আজ তিনি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা—এটা আমাদের জন্য বড় আনন্দের।”

জাহেদের শৈশব ও কৈশোরের একটি বড় সময় কেটেছে চন্দ্রঘোনায়। তাঁর বাবা আজিজুর রহমানের কর্মসূত্রে পরিবারটি সেখানে বসবাস করত। কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী ছোট এই শিল্পাঞ্চলেই তাঁর শিক্ষাজীবনের ভিত্তি গড়ে ওঠে।

সহপাঠীরা জানান, মেধাবী হওয়ার পাশাপাশি তিনি ছিলেন শান্ত, নম্র ও বিনয়ী স্বভাবের। পড়াশোনায় মনোযোগী ছিলেন এবং শিক্ষকদের কাছেও প্রিয় ছাত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

কাপ্তাই উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ঝুলন দত্ত বলেন, জাহেদ উর রহমান তাঁদের এক ব্যাচ সিনিয়র। তাঁর মতে, যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতেই তিনি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। এটি চন্দ্রঘোনার মানুষের জন্য গর্বের বিষয়।

কেপিএম স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক প্রসেনজিৎ তালুকদার বলেন, “জাহেদ আমার ছাত্র ছিল। খুব মেধাবী এবং ভদ্র স্বভাবের ছিল। তার এই অর্জনে আমরা আনন্দিত।” বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ নাজমুল হুদাও বলেন, ১৯৯১ ব্যাচের এই শিক্ষার্থীর সাফল্যে বিদ্যালয়ের সুনাম বেড়েছে।

স্থানীয়রা মনে করছেন, ছোট শহর থেকে উঠে এসে জাতীয় পর্যায়ে দায়িত্ব পাওয়ার এই ঘটনা তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। কাপ্তাই ও চন্দ্রঘোনার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও এ নিয়ে আলোচনা চলছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে জাহেদ উর রহমানের নতুন দায়িত্ব কী হবে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি। তবে তাঁর শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিক সাফল্য ও বিশ্লেষক হিসেবে পরিচিতি—দুই মিলিয়েই এই নিয়োগকে স্থানীয়রা স্বাভাবিক ও প্রাপ্য বলে মনে করছেন।
...

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Out
Ok, Go it!
To Top