বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩০
সংস্কৃতি খাতে নতুন সরকারের কাছে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও পেশাদার পরিবেশের প্রত্যাশা জানিয়েছেন চিত্রনায়ক শাকিব খান। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার থেকে শুরু করে সরকারি অনুদানের সিনেমা নির্বাচন, প্রেক্ষাগৃহ বৃদ্ধি এবং শিল্পীদের কাজের পরিবেশ—বিভিন্ন বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন তিনি।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে স্বচ্ছতা
শাকিব খান বলেন, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। বিচারপ্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা, রাজনৈতিক প্রভাব ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ বারবার সামনে আসে। তাঁর মতে, এই পুরস্কারের বিচারপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হওয়া জরুরি। তিনি নির্দিষ্ট মূল্যায়ন মানদণ্ড প্রণয়ন এবং বাইরের হস্তক্ষেপ রোধে কঠোর নীতিমালা তৈরির কথা বলেন। বিচারকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ নিশ্চিত করা এবং চূড়ান্ত ফলাফলে তাদের মূল্যায়নের যথাযথ প্রতিফলন থাকা উচিত বলেও মত দেন তিনি।সরকারি অনুদানে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া
সরকারি অনুদানের চলচ্চিত্র বাছাই নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শাকিব খান। তাঁর মতে, স্বজনপ্রীতি বা পক্ষপাতের অভিযোগ দূর করতে স্বচ্ছ কমিটি গঠন প্রয়োজন। অনলাইন স্কোরিং পদ্ধতি চালু এবং চূড়ান্ত ফলাফলের পাবলিক রিপোর্ট প্রকাশ করলে আস্থা বাড়বে। তিনি বলেন, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চলচ্চিত্র নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতা অপরিহার্য। এতে নতুন নির্মাতারাও উৎসাহ পাবেন এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি হবে।প্রেক্ষাগৃহ বাড়ানোর দাবি
দেশে প্রেক্ষাগৃহের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন শাকিব খান। মাঝেমধ্যে প্রেক্ষাগৃহ বাড়ানোর উদ্যোগের কথা শোনা গেলেও বাস্তব অগ্রগতি হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর প্রস্তাব, সারা দেশে বন্ধ ও জরাজীর্ণ প্রেক্ষাগৃহ সংস্কারে স্বল্পসুদে ঋণ, করছাড় ও পুনর্গঠন তহবিল গঠন করা যেতে পারে। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে আধুনিক মাল্টিপ্লেক্স নির্মাণেও উৎসাহ দেওয়া উচিত। যেসব জেলায় প্রেক্ষাগৃহ নেই, সেখানে কম আসনসংখ্যার ডিজিটাল মিনি প্রেক্ষাগৃহ স্থাপন করা যেতে পারে বলে মত দেন তিনি। এতে নির্মাণ ব্যয় কমবে এবং স্থানীয় উদ্যোক্তারা যুক্ত হতে পারবেন। নতুন প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণে ভ্যাট ও ট্যাক্সছাড়, আমদানিকৃত যন্ত্রপাতিতে শুল্ক কমানো এবং জমি লিজে বিশেষ সুবিধা দিলে বিনিয়োগ বাড়বে।আধুনিক প্রযুক্তি ও দর্শক অভিজ্ঞতা
শাকিব খান বলেন, ডিজিটাল প্রজেকশন, উন্নত সাউন্ড সিস্টেম এবং অনলাইন টিকিটিং ব্যবস্থাকে বাধ্যতামূলক বা প্রণোদিত করা হলে দর্শকের অভিজ্ঞতা উন্নত হবে। দেশীয় চলচ্চিত্রের নির্দিষ্ট প্রদর্শন কোটা এবং উৎসবভিত্তিক বিশেষ প্রদর্শনীর উদ্যোগ দর্শক টানতে সহায়ক হতে পারে। তাঁর মতে, প্রেক্ষাগৃহকে কেবল সিনেমা প্রদর্শনের জায়গা না রেখে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে তোলা যায়। এতে স্থানীয় সাংস্কৃতিক চর্চা বাড়বে এবং হলমুখী দর্শক বৃদ্ধি পাবে।পেশাদার ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ
চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন অঙ্গনে ঝামেলামুক্ত, পেশাদার ও নিরাপদ কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান শাকিব খান। শিল্পীদের কাজের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সৃজনশীলতা বাধাগ্রস্ত হয় বলে মনে করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, সংস্কৃতি খাতে কাঠামোগত সংস্কার ও নীতিগত স্বচ্ছতা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। নতুন সরকারের কাছে তাঁর প্রত্যাশা—সংস্কৃতি খাতকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় এনে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ গ্রহণ করা।
...