সংস্কৃতি প্রতিবেদক
প্রকাশ:
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,
সংস্কৃতি খাতে নতুন সরকারের কাছে স্বচ্ছতা, স্বাধীনতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন সংগীতশিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যানসি। টেলিভিশন, চলচ্চিত্র, সংগীত ও নাট্যাঙ্গনের বর্তমান বাস্তবতা নিয়ে খোলামেলা বক্তব্যে তিনি শিল্পীদের রাজনীতি, রাষ্ট্রীয় পুরস্কার এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বায়ত্তশাসন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
তবে তিনি সতর্কতার কথাও বলেছেন। তাঁর মতে, কিছু মানুষ আছেন, যারা সুযোগ বুঝে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ছবি তুলে নিজেকে প্রাসঙ্গিক রাখতে চান। এ ধরনের প্রবণতা থেকে সংস্কৃতি অঙ্গনকে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো শিল্পী যদি দলীয় ব্যানারে সুযোগ নিতে চান, সে ক্ষেত্রেও বিচক্ষণতা প্রয়োজন। শিল্পীকে তাঁর শিল্পকর্ম দিয়ে মূল্যায়ন করা উচিত—রাজনৈতিক পরিচয়ে নয়।
তিনি মনে করেন, রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে সব শিল্পীর জন্য সমান সুযোগের জায়গা হতে হবে। সেখানে দলীয় বিবেচনা নয়, দক্ষতা ও সৃজনশীলতাই প্রধান হওয়া উচিত। সংস্কৃতি অঙ্গনকে শক্তিশালী করতে হলে প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, বিচারক প্যানেলে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের পদাধিকারবলে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও তাঁদের নম্বর প্রদানের এখতিয়ার থাকা উচিত নয়। বরং তাঁরা পর্যবেক্ষক হিসেবে থাকতে পারেন। বিচারকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে এবং তাঁদের দেওয়া নম্বরই চূড়ান্ত ফলাফলে প্রতিফলিত হওয়া উচিত।
তাঁর প্রস্তাব, প্রয়োজন হলে যৌথভাবে পুরস্কার দেওয়া যেতে পারে। অতীতে এমন নজির রয়েছে। কিন্তু বিচারকদের রায় উপেক্ষা করে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা স্বচ্ছতার পরিপন্থী হয় এবং প্রকৃত শিল্পী তাঁর প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হন।
নতুন সরকারের কাছে তাঁর প্রত্যাশা—সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও তথ্য মন্ত্রণালয় শিল্পীদের জন্য ন্যায্য ও সমান সুযোগ তৈরি করবে। রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে সৃজনশীল মানুষদের মূল্যায়ন করা হবে।
শিল্পীর ভাষায়, “শিল্পীকে তাঁর শিল্প দিয়েই বিচার করা উচিত।” দলীয় ব্যানার, ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা রাজনৈতিক অবস্থান নয়—যোগ্যতা ও কাজের মানই হওয়া উচিত চূড়ান্ত মানদণ্ড।
শিল্পীর রাজনীতি ও দলীয় ব্যানার প্রসঙ্গ
ন্যানসি বলেন, প্রকাশ্য রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকলেই কোনো শিল্পীকে একঘরে করা উচিত নয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, একজন সাধারণ নাগরিক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারলে একজন শিল্পীও তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অবস্থান রাখতে পারেন। শিল্পীর যোগ্যতা থাকলে সরকারকে তাঁকে সঙ্গে নিয়েই কাজ করা উচিত।তবে তিনি সতর্কতার কথাও বলেছেন। তাঁর মতে, কিছু মানুষ আছেন, যারা সুযোগ বুঝে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ছবি তুলে নিজেকে প্রাসঙ্গিক রাখতে চান। এ ধরনের প্রবণতা থেকে সংস্কৃতি অঙ্গনকে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো শিল্পী যদি দলীয় ব্যানারে সুযোগ নিতে চান, সে ক্ষেত্রেও বিচক্ষণতা প্রয়োজন। শিল্পীকে তাঁর শিল্পকর্ম দিয়ে মূল্যায়ন করা উচিত—রাজনৈতিক পরিচয়ে নয়।
বিটিভি ও বেতারের স্বায়ত্তশাসন
বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ বেতার নিয়ে ন্যানসি বলেন, গত দেড় বছরে তিনি হতাশ হয়েছেন। তাঁর দাবি, এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে রাজনৈতিক পরিচয় যেন প্রাধান্য না পায়। এগুলো যেন প্রকৃত শিল্পীদের জন্য উন্মুক্ত মঞ্চ হয়।তিনি মনে করেন, রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে সব শিল্পীর জন্য সমান সুযোগের জায়গা হতে হবে। সেখানে দলীয় বিবেচনা নয়, দক্ষতা ও সৃজনশীলতাই প্রধান হওয়া উচিত। সংস্কৃতি অঙ্গনকে শক্তিশালী করতে হলে প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা জরুরি।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার নিয়ে প্রশ্ন
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রসঙ্গে ন্যানসি বলেন, তিনি গতবার বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং নির্ধারিত সময়েই ফলাফল জমা দিয়েছিলেন। এরপরও প্রজ্ঞাপন প্রকাশে দীর্ঘসূত্রতা প্রশ্ন তৈরি করে। দ্রুত ফল প্রকাশ করলে স্বচ্ছতা বজায় থাকে এবং বিচারকদের জবাবদিহিও নিশ্চিত হয়।তিনি আরও বলেন, বিচারক প্যানেলে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের পদাধিকারবলে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও তাঁদের নম্বর প্রদানের এখতিয়ার থাকা উচিত নয়। বরং তাঁরা পর্যবেক্ষক হিসেবে থাকতে পারেন। বিচারকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে এবং তাঁদের দেওয়া নম্বরই চূড়ান্ত ফলাফলে প্রতিফলিত হওয়া উচিত।
নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার দাবি
ন্যানসি বলেন, পুরস্কারের জন্য তিনজনের নাম সুপারিশ করার পর মন্ত্রণালয় থেকে একজনকে বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। যদি প্রথম অবস্থানে থাকা ব্যক্তিকে বাদ দিয়ে দ্বিতীয় বা তৃতীয় অবস্থানে থাকা কাউকে পুরস্কার দেওয়া হয়, তাহলে বিচারকের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়।তাঁর প্রস্তাব, প্রয়োজন হলে যৌথভাবে পুরস্কার দেওয়া যেতে পারে। অতীতে এমন নজির রয়েছে। কিন্তু বিচারকদের রায় উপেক্ষা করে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা স্বচ্ছতার পরিপন্থী হয় এবং প্রকৃত শিল্পী তাঁর প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হন।
সংস্কৃতি খাতে নতুন প্রত্যাশা
ন্যানসি মনে করেন, বাংলা সংস্কৃতি রক্ষা ও বিকাশের দায়িত্ব রাষ্ট্রের। সংস্কৃতি সঠিক পথে না থাকলে ভাষা ও জাতীয় পরিচয়ও দুর্বল হয়। তাই সংস্কৃতি খাতে নীতিগত স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।নতুন সরকারের কাছে তাঁর প্রত্যাশা—সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও তথ্য মন্ত্রণালয় শিল্পীদের জন্য ন্যায্য ও সমান সুযোগ তৈরি করবে। রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে সৃজনশীল মানুষদের মূল্যায়ন করা হবে।
শিল্পীর ভাষায়, “শিল্পীকে তাঁর শিল্প দিয়েই বিচার করা উচিত।” দলীয় ব্যানার, ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা রাজনৈতিক অবস্থান নয়—যোগ্যতা ও কাজের মানই হওয়া উচিত চূড়ান্ত মানদণ্ড।
...