স্টাফ রিপোর্টার
চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও
দুজনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকালে ঢাকায় চিকিৎসাধীন
অবস্থায় সাফায়াত হোসেন (১৭) মারা যান। একই দিন দুপুরে মৃত্যুবরণ করেন সামির
আহামেদ (৪০)। এর আগে সোমবার বিকেলে ঢাকা নেওয়ার পথে নুরজাহান বেগম রানী (৪০)
নামের এক নারীর মৃত্যু হয়। এ নিয়ে এই বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল
তিনজনে।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ভোর সাড়ে চারটার দিকে। হালিশহরের ‘হালিমা মঞ্জিল’ নামের ছয়তলা একটি ভবনের তৃতীয় তলায় বিস্ফোরণ হয়। ওই ফ্ল্যাটটি মোটর পার্টস ব্যবসায়ী শাখাওয়াত হোসেন (৪৭)-এর। বিস্ফোরণের সময় বাসার ভেতরে পরিবারের সদস্যসহ মোট নয়জন ছিলেন। বিস্ফোরণে সবাই দগ্ধ হন এবং তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নিহত নুরজাহান বেগম রানী ছিলেন শাখাওয়াত হোসেনের স্ত্রী। সাফায়াত হোসেন তাদের ছেলে। সামির আহামেদ ছিলেন শাখাওয়াতের ভাই, যিনি পর্তুগালপ্রবাসী হিসেবে পরিচিত। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় শাখাওয়াত হোসেন নিজেও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
এ ছাড়া হাসপাতালে ভর্তি আছেন শাখাওয়াতের মেয়ে উম্মে আয়মন সানজিদা (৮), সামির আহামেদের স্ত্রী পাখি আক্তার (৩৫), তার ছেলে ফারহান আহমেদ আনাছ (৮), মেয়ে আয়েশা (৪) এবং শাখাওয়াতের আরেক ভাই মো. শিপন হোসাইন (২৫)। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, অধিকাংশের শরীরে ব্যাপক দগ্ধের চিহ্ন রয়েছে এবং তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
বিস্ফোরণের কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। ফায়ার সার্ভিস ও কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) পৃথকভাবে তদন্ত শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃতি নির্ধারণে প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ করা হবে। গ্যাস লাইনের সংযোগ, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং বিস্ফোরণের উৎস চিহ্নিত করতে বিশেষজ্ঞ দল কাজ করবে।
কেজিডিসিএলের মহাব্যবস্থাপক কবির উদ্দিন আহম্মদ বলেন, একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গ্যাস লিক হয়েছে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত মন্তব্য করা হবে।
চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আলমগীর হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে রান্নাঘরে জমে থাকা গ্যাস থেকে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। কোনো কারণে চুলা বা সংযোগ লাইনে গ্যাস লিক হয়ে ঘরের ভেতর জমে থাকলে তা থেকে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। তবে এটি প্রাথমিক ধারণা, নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নয়। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, বিস্ফোরণে ভবনের তৃতীয় তলার চারটি ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে গেছে। বিস্ফোরণ হওয়া ফ্ল্যাটটির ভেতরে দেয়াল ও আসবাবপত্র পুড়ে গেছে। রান্নাঘরের সামগ্রী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। ডাইনিং স্পেসে বিস্ফোরণের স্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া গেছে।
রান্নাঘরের পাশের একটি সরু করিডরে গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শাখাওয়াত হোসেন গাড়ির এসি মেরামতের কাজ করতেন। তার বাসায় এসির কিছু যন্ত্রাংশ রাখা ছিল। একটি আইপিএসের ব্যাটারিও ঘটনাস্থলে পাওয়া গেছে। এসব উপাদান বিস্ফোরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আইপিএস ব্যাটারির উপস্থিতি তদন্তের অংশ হিসেবে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট, অতিরিক্ত ভোল্টেজ অথবা ব্যাটারির ত্রুটি থেকে কোনো বিস্ফোরণ হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।
আহত শাখাওয়াতের ব্যবসায়িক অংশীদার মনসুর আলী জানান, অতীতে ওই ভবনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভবনে বিদ্যুতের ওভার ভোল্টেজ সমস্যা ছিল বলে বাসিন্দাদের মধ্যে আলোচনা ছিল। তিনি বলেন, কেবল গ্যাস বিস্ফোরণ হিসেবে বিষয়টি সীমাবদ্ধ না রেখে পূর্ণাঙ্গ প্রযুক্তিগত তদন্ত প্রয়োজন।
বিস্ফোরণের পরপরই আশপাশের বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। শব্দে ভবন কেঁপে ওঠে বলে জানান তারা। কেউ কেউ প্রথমে ভূমিকম্প ভেবেছিলেন। পরে ধোঁয়া ও আগুন দেখে তারা ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।
ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। দগ্ধদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর গুরুতরদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়।
পরদিন সকালে দেখা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত ফ্ল্যাটগুলোতে নতুন দরজা লাগানো হয়েছে। বিস্ফোরণ হওয়া ফ্ল্যাটটি তালাবদ্ধ রাখা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘটনার পর কোনো সংস্থার পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলা হয়নি। তারা নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বিগ্ন।
তদন্ত কমিটির সদস্যরা গ্যাস লাইন, চুলার অবস্থা, রেগুলেটর, পাইপলাইন এবং বৈদ্যুতিক সংযোগ পরীক্ষা করবেন বলে জানা গেছে। ভবনের নকশা, বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা এবং করিডরের ব্যবহার সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আবাসিক ভবনে গ্যাস লিক হলে দ্রুত জানালা-দরজা খুলে বায়ু চলাচল নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি গ্যাসের গন্ধ পেলে বৈদ্যুতিক সুইচ ব্যবহার না করা এবং আগুন না জ্বালানো গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত লাইনের পরীক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণ না করলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাধারণ ডায়েরি করেছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজন হলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
হালিশহরের এই বিস্ফোরণ নগরবাসীর মধ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। আবাসিক ভবনে গ্যাস ও বৈদ্যুতিক সংযোগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন বলে স্থানীয়রা মত দিয়েছেন।
নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। স্বজনদের আহাজারিতে হাসপাতাল ও বাসার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায় নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে।
তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ অজানা থাকছে। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করে জনসমক্ষে জানানো হবে।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ভোর সাড়ে চারটার দিকে। হালিশহরের ‘হালিমা মঞ্জিল’ নামের ছয়তলা একটি ভবনের তৃতীয় তলায় বিস্ফোরণ হয়। ওই ফ্ল্যাটটি মোটর পার্টস ব্যবসায়ী শাখাওয়াত হোসেন (৪৭)-এর। বিস্ফোরণের সময় বাসার ভেতরে পরিবারের সদস্যসহ মোট নয়জন ছিলেন। বিস্ফোরণে সবাই দগ্ধ হন এবং তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নিহত নুরজাহান বেগম রানী ছিলেন শাখাওয়াত হোসেনের স্ত্রী। সাফায়াত হোসেন তাদের ছেলে। সামির আহামেদ ছিলেন শাখাওয়াতের ভাই, যিনি পর্তুগালপ্রবাসী হিসেবে পরিচিত। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় শাখাওয়াত হোসেন নিজেও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
এ ছাড়া হাসপাতালে ভর্তি আছেন শাখাওয়াতের মেয়ে উম্মে আয়মন সানজিদা (৮), সামির আহামেদের স্ত্রী পাখি আক্তার (৩৫), তার ছেলে ফারহান আহমেদ আনাছ (৮), মেয়ে আয়েশা (৪) এবং শাখাওয়াতের আরেক ভাই মো. শিপন হোসাইন (২৫)। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, অধিকাংশের শরীরে ব্যাপক দগ্ধের চিহ্ন রয়েছে এবং তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
বিস্ফোরণের কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। ফায়ার সার্ভিস ও কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) পৃথকভাবে তদন্ত শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃতি নির্ধারণে প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ করা হবে। গ্যাস লাইনের সংযোগ, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং বিস্ফোরণের উৎস চিহ্নিত করতে বিশেষজ্ঞ দল কাজ করবে।
কেজিডিসিএলের মহাব্যবস্থাপক কবির উদ্দিন আহম্মদ বলেন, একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গ্যাস লিক হয়েছে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত মন্তব্য করা হবে।
চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আলমগীর হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে রান্নাঘরে জমে থাকা গ্যাস থেকে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। কোনো কারণে চুলা বা সংযোগ লাইনে গ্যাস লিক হয়ে ঘরের ভেতর জমে থাকলে তা থেকে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। তবে এটি প্রাথমিক ধারণা, নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নয়। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, বিস্ফোরণে ভবনের তৃতীয় তলার চারটি ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে গেছে। বিস্ফোরণ হওয়া ফ্ল্যাটটির ভেতরে দেয়াল ও আসবাবপত্র পুড়ে গেছে। রান্নাঘরের সামগ্রী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। ডাইনিং স্পেসে বিস্ফোরণের স্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া গেছে।
রান্নাঘরের পাশের একটি সরু করিডরে গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শাখাওয়াত হোসেন গাড়ির এসি মেরামতের কাজ করতেন। তার বাসায় এসির কিছু যন্ত্রাংশ রাখা ছিল। একটি আইপিএসের ব্যাটারিও ঘটনাস্থলে পাওয়া গেছে। এসব উপাদান বিস্ফোরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আইপিএস ব্যাটারির উপস্থিতি তদন্তের অংশ হিসেবে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট, অতিরিক্ত ভোল্টেজ অথবা ব্যাটারির ত্রুটি থেকে কোনো বিস্ফোরণ হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।
আহত শাখাওয়াতের ব্যবসায়িক অংশীদার মনসুর আলী জানান, অতীতে ওই ভবনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভবনে বিদ্যুতের ওভার ভোল্টেজ সমস্যা ছিল বলে বাসিন্দাদের মধ্যে আলোচনা ছিল। তিনি বলেন, কেবল গ্যাস বিস্ফোরণ হিসেবে বিষয়টি সীমাবদ্ধ না রেখে পূর্ণাঙ্গ প্রযুক্তিগত তদন্ত প্রয়োজন।
বিস্ফোরণের পরপরই আশপাশের বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। শব্দে ভবন কেঁপে ওঠে বলে জানান তারা। কেউ কেউ প্রথমে ভূমিকম্প ভেবেছিলেন। পরে ধোঁয়া ও আগুন দেখে তারা ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।
ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। দগ্ধদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর গুরুতরদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়।
পরদিন সকালে দেখা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত ফ্ল্যাটগুলোতে নতুন দরজা লাগানো হয়েছে। বিস্ফোরণ হওয়া ফ্ল্যাটটি তালাবদ্ধ রাখা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘটনার পর কোনো সংস্থার পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলা হয়নি। তারা নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বিগ্ন।
তদন্ত কমিটির সদস্যরা গ্যাস লাইন, চুলার অবস্থা, রেগুলেটর, পাইপলাইন এবং বৈদ্যুতিক সংযোগ পরীক্ষা করবেন বলে জানা গেছে। ভবনের নকশা, বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা এবং করিডরের ব্যবহার সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আবাসিক ভবনে গ্যাস লিক হলে দ্রুত জানালা-দরজা খুলে বায়ু চলাচল নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি গ্যাসের গন্ধ পেলে বৈদ্যুতিক সুইচ ব্যবহার না করা এবং আগুন না জ্বালানো গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত লাইনের পরীক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণ না করলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাধারণ ডায়েরি করেছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজন হলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
হালিশহরের এই বিস্ফোরণ নগরবাসীর মধ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। আবাসিক ভবনে গ্যাস ও বৈদ্যুতিক সংযোগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন বলে স্থানীয়রা মত দিয়েছেন।
নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। স্বজনদের আহাজারিতে হাসপাতাল ও বাসার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায় নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে।
তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ অজানা থাকছে। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করে জনসমক্ষে জানানো হবে।
প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
...
