সেনাবাহিনীর ভেতরে ও বাইরে কী ইঙ্গিত: জুলকারনাঈম সায়ের

Sanatan Patra
----
----
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা
গতকাল ও আজ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল হয়েছে। কয়েকজন কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল এবং মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। দু'একটি ঘটনা ব্যতিত বাকি পদগুলোতে যোগ‍্য ব্যক্তিদের পদায়ন করা হয়েছে বলেই মত দিয়েছেন সাবেক ও বর্তমান বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

বিদায়ী প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল জাহাঙ্গীর আলমের চাকরি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ন্যস্ত করায় সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরে অনেক কর্মকর্তাই বেশ অবাক হয়েছেন। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাথে সামরিক বাহিনীর ভঙ্গুর সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখতে এই কর্মকর্তা তাঁর সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করছেন বলে জানা যায়।

সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের রাষ্ট্রদূত হিসেবে কোন রাষ্ট্রে দায়িত্ব পালনে না পাঠিয়ে কেবল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চাকরি ন‍্যস্ত করা অনেকটা দপ্তরবিহীন কর্মকর্তা হিসেবেই বিবেচিত হয়। মেজর জেনারেল জাহাঙ্গীরের এই পদায়ন তাই অনেককেই বিস্মিত করেছে। সদ্য পদোন্নতি প্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর, যিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কমান্ড এন্ড জেনারেল স্টাফ কলেজ ফোর্ট ল‍্যেভেনওর্থ হতে স্টাফ কলেজ উত্তীর্ণ হন এবং লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিনহাজ এই দুই কর্মকর্তাই সামরিক বাহিনীতে তাঁদের পেশাগত দক্ষতা এবং পেশাদারিত্বের জন্যে ব্যাপক প্রশংসিত। ৫ই আগষ্ট ২০২৪ হাসিনা সরকার পতনের পর, সেসময় মেজর জেনারেল মুশফিক এবং আরো কয়েকজন কর্মকর্তার দৃঢ়তার কারণে জিয়াউল আহসান এবং পলাতক লেঃ জেনারেল মুজিব সামরিক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে ক্ষমতা দখলে নিতে সক্ষম হননি। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকারকে নিরাপদে রাখতে মেজর জেনারেল মুশফিক এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা সেদিন ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।

২৪ বিএমএ লং কোর্স বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে যেমন জিয়াউল আহসান ও কদমবুচি মাহবুবের মতো কুখ্যাত-হীণ মানসিকতার অফিসার দিয়েছে, তেমনি দিয়েছে লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাঈনুর-লেফটেন্যান্ট জেনারেল মুশফিকের মতো মেধাবী- তুখোড় যোদ্ধা। নিজ কোর্সের সেরা চৌকস ক‍্যাডেট হিসেবে কমিশন লাভ করা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাঈনুর তাঁর যোগ্যতা বলেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিফ অফ জেনারেল স্টাফ পদে নিয়োগ পেয়েছেন। একই কথা প্রযোজ্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিনহাজের ক্ষেত্রেও, সদ্য পদোন্নতি পাওয়া এই লেফটেন্যান্ট জেনারেল তাঁর কোর্সের সেরা ক্যাডেট হিসেবে কমিশন লাভ করেন এবং তিন তারকা জেনারেল হওয়ার যাত্রায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন।

অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সদ‍্যপদোন্নতি প্রাপ্ত মেজর জেনারেল কায়সার রশিদ বিষয় বিভিন্ন চটকদার গল্প প্রচার করছেন। প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর এর মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া এই কর্মকর্তা ২৯ বিএমএ লং কোর্সের দ্বিতীয় সেরা ক্যাডেট হিসেবে কমিশন প্রাপ্ত হন। বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্য হতে মোট ২ বার স্টাফ কলেজ সম্পন্ন করেন, পাকিস্তান ও তুরস্ক হতে গানারি ও আর্টিলারি কোর্স করেন। কর্মজীবনে বিভিন্ন সামরিক কোর্সে অত্যন্ত পারদর্শীতার সাথে নিজেকে প্রমাণ করেই এই পর্যায়ে তিনি পৌঁছেছেন। জাতিসংঘ সদরদপ্তরে কর্মরত থাকা অবস্থায় শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর জন্যে ডেপ্লয়মেন্ট সুযোগ সৃষ্টিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন মেজর জেনারেল কায়সার।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দায়িত্ব ন্যস্ত হওয়া, লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান এর এই পদায়ন অনেকেই নেতিবাচক ভাবে দেখছেন। কিন্তু কেন তাঁকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাঠিয়ে একরকম ওএসডি করা হলো সেটা কি ভেবেছেন? বিশেষ একটি গোষ্ঠীর তাঁবেদারি করতে গিয়ে তিনি সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরে যে ধরণের অপতৎপরতা চালিয়েছেন সেটা দেশের নিরাপত্তা সংস্থা নিয়ে কিছুটা ধারণা রাখেন এমন সকলেই অবগত আছেন। ইন্টারেস্টিং হলো যেসকল আতেঁল'রা কোন সামরিক কর্মকর্তার ভারতে প্রশিক্ষণ রেকর্ড থাকলেই তাঁকে র'এজেন্ট হিসেবে ট্যাগ করেন, সেই আতেঁলরা লেফটেন্যান্ট জেনারেল কামরুলের ভারতে প্রশিক্ষণ ব্যাপারে সবসময় মুখে কুলু এঁটেছেন। উল্লেখ্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল কামরুল ভারত সেনাবাহিনীর সাথে প্রশিক্ষণে মোস্ট প্রমিজিং ফরেন স্টুডেন্ট ট্রফি জিতেছিলেন ২০১৫ সালে।

জুলকারনাঈম সায়ের ফেইজবুক থেকে, #Zulkarnain_Saer

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
...

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Out
Ok, Go it!
To Top