শ্রদ্ধেয় রমেশ চন্দ্র সেনের অসহায় মৃত্যু- জাতির বিবেকের কাছে কিছু প্রশ্ন

Sanatan Patra
শ্রদ্ধেয় রমেশ চন্দ্র সেন
বাবুল চন্দ্র পাল
বাবুল চন্দ্র পাল
সভাপতি,
কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি
শারদাঞ্জলি ফোরাম
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের পাঁচবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও সাবেক পানিসম্পদ মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন আর নেই। বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। শুনেছি তাঁর কোনো সন্তান ছিল না। বংশপরম্পরায় প্রচুর ধন-সম্পদের অধিকারী হলেও তিনি ছিলেন একেবারেই সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত একজন মানুষ। তাঁর হাত ধরেই ঠাকুরগাঁওয়ের বহু উন্নয়ন সাধিত হয়েছিল। আগাগোড়া তিনি ছিলেন একজন সজ্জন, সাদা মনের মানুষ।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের অনেক নেতা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলেও তিনি স্ত্রীকে নিয়ে দেশেই অবস্থান করছিলেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল—তিনি অন্তত রাজনৈতিক জিঘাংসার শিকার হবেন না। কিন্তু সেই বিশ্বাস যে কতটা ভুল ছিল, তা তিনি নিজেই বুঝতে পেরেছিলেন খুব অল্প সময়ের মধ্যেই।

রাতের খাবারের থালাটি টেবিলেই পড়ে ছিল। আর খাওয়া হয়নি। একদল সাদা পোশাকের মানুষ যখন ৮৫ বছরের বৃদ্ধকে তুলে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল—আধ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে বাসায় ফিরিয়ে দেওয়া হবে। সেই আধ ঘণ্টা শেষ হতে সময় লেগেছে দীর্ঘ ৫৪৭ দিন। রাজনীতির নিষ্ঠুর খেলায় একাকী এই বৃদ্ধকে ৫৪৭ দিন কারান্তরালের অন্ধকারে কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত লাশ হয়ে বাসায় ফিরে আসতে হয়েছে।

ছবিতে দেখা যায়, বর্ষীয়ান এই নেতার জীর্ণ হাত দুটো মোটা রশিতে বাঁধা। জীবনের অন্তিমলগ্নে তাঁর ভাগ্যে জুটেছে চরম অবমাননা। এ কি কোনো সভ্য রাষ্ট্রের রাজনৈতিক সংস্কৃতির নমুনা?

এ দেশের রাজনীতি বড় জটিল, বড় কঠিন। কখনো শত্রু, কখনো মিত্র। কখনো গলায় ফুলের মালা, কখনো জুতার মালা। কখনো রাজপ্রাসাদে মন্ত্রী-এমপি, আবার কখনো অন্ধকার কারাগারে বন্দি জীবন। বয়স ও শারীরিক অবস্থার কারণে তিনি সহজেই জামিন পেতে পারতেন। কিন্তু রমেশ দাদা এ দেশের পচা রাজনীতির শিকার হয়ে কলঙ্কের বোঝা বয়ে অসন্মানে না ফেরার দেশে চলে গেলেন।

রমেশ দাদার চিতার আগুন নিভে গেলেও, একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদের এমন করুণ প্রস্থান রাজনীতির সামনে বড় একটি প্রশ্নচিহ্ন রেখে গেছে। কারাগারে তাঁর অসহায় মৃত্যু রাষ্ট্রের কতটুকু জয়, কিংবা রাজনীতির কতটুকু সাফল্য—তা আজও স্পষ্ট নয়।

জাতির বিবেকের কাছে আজ শুধু এই প্রশ্নই থেকে যায়—এই মৃত্যু দিয়ে আমরা কী পেলাম?
...

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Out
Ok, Go it!
To Top