যশোরের অভয়নগর উপজেলায় গত বছরের সেপ্টেম্বরে নিখোঁজ হওয়া ৫০ বছর বয়সী গৃহবধূ সবিতা রাণী দে-কে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে ফরেনসিক পরীক্ষায় পাওয়া তথ্য নিশ্চিত করেছে পুলিশ। বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার দিকে সবিতা রানী গৃহের বাইরে গরুর খাদ্য সংগ্রহ করতে বের হলে আর ফেরেননি। তাঁর নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ৩৩ ঘণ্টা পর শেষ পর্যন্ত তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মৃতদেহটি বিস্তারিত পরীক্ষার জন্য যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এ পরবর্তী ভিসেরা (forensic) পরীক্ষায় পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে যে তাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।
নিহতের স্বামী মিলন কুমার দে বাদী হয়ে অভয়নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে তিনজনকে—নাম প্রকাশে আসা প্রথম আসামি নিয়ামুল শেখ, তাঁর বাবা রমজান শেখ এবং চাচা ইউনুস শেখ। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রায় ছয় মাস ধরে চলা তদন্তের পর এই ফরেনসিক তথ্য পাওয়ার ভিত্তিতে মামলার প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত করা হবে।
এদিকে প্রাণঘাতি এই ঘটনায় স্থানীয়রা দাবি করেছেন, বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা উচিত এবং দোষীদের জন্য উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, প্রধান অভিযুক্ত নিয়ামুল শেখ বর্তমানে কারাগারে বন্দি রয়েছেন, আর অন্যান্য দুই আসামি জামিনে মুক্ত। তদন্তে প্রাপ্ত নতুন তথ্য আদালতে উপস্থাপন করার প্রস্তুতি চলছে।
এ ঘটনা স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে শোক ও উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করেছে, এবং নারীর নিরাপত্তা ও বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুনভাবে প্রশ্ন তুলেছে।