ঢাকা: অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার ও বিচার করার সক্ষমতা কার্যত শেষ হয়ে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, সরকারের যে সুযোগ ও সম্ভাবনা ছিল, তা এখন শেষ সীমায় পৌঁছেছে। সামনে তাদের জন্য কার্যকরভাবে করার মতো একমাত্র কাজ হলো একটি ভালো ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন।
রোববার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘অঙ্গীকার থেকে বাস্তবায়ন: রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে (সিজিএস)।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের যে সক্ষমতা ও সংস্কারের সম্ভাবনা ছিল, তা ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। এখন সরকার যদি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে পারে, সেটিই হতে পারে তাদের শেষ ইতিবাচক অবদান।
অনুষ্ঠানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নির্বাচনী অংশগ্রহণ নিয়ে সিজিএস পরিচালিত একটি জরিপের ফলাফলও উপস্থাপন করা হয়। জরিপটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ৫০৫ জন সংখ্যালঘু নাগরিকের ওপর পরিচালিত হয়।
জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৫০ শতাংশের বেশি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি ২৫ শতাংশের বেশি উত্তরদাতা নিজেদের অনিরাপদ বা চরম অনিরাপদ মনে করেন।
এই ফলাফল প্রসঙ্গে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সরকারের ঘোষণার সঙ্গে বাস্তব কার্যক্রমের স্পষ্ট ফারাক রয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যে বলা হয়েছিল, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই এক ছাতার নিচে থাকবে। কিন্তু বাস্তবে সেই সুরক্ষা কাঠামো কার্যকর হয়নি।
তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচন এখনও পুরোপুরি অন্তর্ভুক্তিমূলক নয়। তবে পরিস্থিতি পরিবর্তনের সুযোগ এখনো রয়েছে। নারী, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, ভিন্নমতের রাজনৈতিক কর্মীসহ সব নাগরিকের নির্বাচনী অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আরও বলেন, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে ভোটের প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং ভোটের আগে ও পরে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব অন্তর্বর্তী সরকারকেই নিতে হবে। এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তার মতে, এটি অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য ভালো কাজ করে যাওয়ার শেষ সুযোগ। সরকার যদি অন্তত একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে পারে, তাহলে ইতিহাসে তাদের কিছুটা ইতিবাচক মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন এবং অর্থনীতিবিদ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমান।