মিরসরাইয়ে হিন্দুপাড়ায় আগুন

Sanatan Patra
Sanatan Puja 2026
আগুনে পুড়ে যাওয়া ঘরবাড়ির ধ্বংসাবশেষ, আতঙ্কে এলাকার মানুষ

মন্দির ও বসতঘর লক্ষ্য করে হামলা, আতঙ্কে রাত জেগে পাহারা: চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় একটি হিন্দুপাড়ায় ধারাবাহিক অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের জাফরাবাদ হিন্দুপাড়ায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে মন্দির, বসতঘর, রান্নাঘর ও খড়ের গাদাসহ অন্তত সাতটি স্থানে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার মৃদুল নামে এক ব্যক্তির বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হলে ঘরের আলনা, কাপড়সহ একটি অংশ পুড়ে যায়। এতে প্রাণহানি না হলেও পুরো এলাকায় ভয় ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলাকাবাসী রাত জেগে পাহারার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেছেন।

ঘটনার ধারাবাহিকতা: স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জানুয়ারি প্রথম অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ওইদিন সন্ধ্যায় তপন ধরের বাড়ির ব্যক্তিগত মন্দিরের পাশে রাখা শুকনো পাতার বস্তায় আগুন দেওয়া হয়। এতে মন্দিরের ভেতরে থাকা সোলার ব্যাটারি ও অন্যান্য সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

পরদিন ভোরে অমিও ধরের বাড়ির খড়ের গাদায় আগুন দেওয়া হয়। ২৫ জানুয়ারি সকালে কানু নাথের খড়ের গাদায় এবং সন্ধ্যায় অমিও ধরের আরেকটি খড়ের গাদায় আগুন ধরানো হয়। একই দিনে রতন ধরের রান্নাঘরেও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। ২৬ জানুয়ারি অশোক ধরের বাড়িতে শুকনো পাতার বস্তায় আগুন দেওয়া হয়। ২৭ জানুয়ারি অনুপ ধরের বসতঘরের পাশে আগুন দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হয়। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার মৃদুলের বসতঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়।


একা ঘরে থাকা অবস্থায় ভয়াবহ পরিস্থিতি: মৃদুলের স্ত্রী তমালিকা সাহা জানান, দুপুরে তিনি ঘরে একা ছিলেন। হঠাৎ বারান্দার সামনে আগুন দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। সে সময় ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগও ছিল না বলে তিনি জানান।


পরিকল্পিত আতঙ্ক সৃষ্টির আশঙ্কা: পাড়ার একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পরিকল্পিতভাবে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা চলছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যেন ভোটকেন্দ্রে যেতে না পারেন—এমন উদ্দেশ্যেই এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হতে পারে বলে তারা শঙ্কা প্রকাশ করেন। তাদের দাবি, অধিকাংশ অগ্নিসংযোগ দিনের বেলায় ঘটেছে, যখন মানুষ কাজে ব্যস্ত থাকে।

পুলিশ ও প্রশাসনের বক্তব্য: মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরিদা ইয়াছমিন বলেন, ঘটনাগুলোর খবর পেয়ে তিনি এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছেন। কারা এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা শনাক্তে তদন্ত চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোমাইয়া আক্তার জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। থানার সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।


স্বেচ্ছা নিরাপত্তা জোরদার: চলমান আতঙ্কের মধ্যে পাড়াবাসী নিজেরাই নিরাপত্তা জোরদার করেছেন। রাতে দল বেঁধে পাহারা দেওয়া হচ্ছে এবং সন্দেহজনক গতিবিধি নজরদারিতে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Out
Ok, Go it!
To Top