একাদশী ব্রত : নিয়ম ও পদ্ধতি

Sanatan Patra
Sanatan Puja 2026



একাদশী ব্রত: হিন্দু ধর্মের আধ্যাত্মিক সোপান

একাদশী তিথি ভগবান বিষ্ণুর প্রতি নিবেদিত একটি পবিত্র দিন। এই দিনে উপবাস, প্রার্থনা ও সংযমের মাধ্যমে ভক্তরা আত্মশুদ্ধি ও পাপমোচনের আশীর্বাদ লাভ করেন। একাদশী পালনের জন্য কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম ও আচার অনুসরণ করা হয়।

ব্রতের ধাপে ধাপে পালন:-

স্নান ও শুচিতা
ভোরে উঠে স্নান করুন এবং পরিষ্কার, পবিত্র পোশাক পরিধান করুন।

সংকল্প গ্রহণ
ভগবান বিষ্ণুর নাম স্মরণ করে ব্রত পালনের অঙ্গীকার করুন।

উপবাস ও ভোজন নিয়ম

  • সম্পূর্ণ নিরামিষ খাদ্য গ্রহণ করতে হবে।
  • অনেক ভক্ত শুধু ফল, জল বা নির্দিষ্ট উপবাস খাদ্য গ্রহণ করেন।
  • কেউ কেউ সম্পূর্ণ উপবাস পালন করেন।

পূজা ও আরাধনা
      ভগবান বিষ্ণুর মূর্তি বা চিত্রের সামনে প্রদীপ জ্বালিয়ে পূজা করুন। তাঁর ১০৮ নাম উচ্চারণ করা                বিশেষভাবে শুভ।

জপ ও পাঠ
      “ওম নমো ভগবতে বাসুদেবায়” মন্ত্রটি ১০৮ বার জপ করুন।
      ভগবদ্‌গীতা পাঠ করলে অতিরিক্ত পুণ্য অর্জিত হয়।

ভজন ও কীর্তন
      ভগবান বিষ্ণুর ভজন গাওয়া ও শোনা অত্যন্ত ফলপ্রদ।

রাত জাগরণ
      অনেক ভক্ত রাতভর ভজন, পাঠ ও প্রার্থনায় সময় কাটান।

পারণ (ব্রত ভঙ্গ)
       পরের দিন দ্বাদশী তিথিতে নির্দিষ্ট সময়ে ব্রত ভঙ্গ করতে হয়।

একাদশী ব্রতের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম:-

      🚫 পেঁয়াজ, রসুন, মাংস, ডিম ইত্যাদি তামসিক খাদ্য বর্জন করুন।
      🚫 অহিংসা পালন করুন—প্রাণীহত্যা বা সহিংস কাজ থেকে বিরত থাকুন।
      🚫 মিথ্যা কথা ও অন্যায় আচরণ এড়িয়ে চলুন।
      🚫 শরীর ও মন পরিষ্কার রাখুন।

একাদশী ব্রতের আধ্যাত্মিক ও শারীরিক উপকারিতা:-

       🌿 আত্মশুদ্ধি – পাপমোচন ও আত্মার পবিত্রতা বৃদ্ধি পায়।
       🌿 শারীরিক উপকারিতা – উপবাস শরীরকে ডিটক্স করে, স্বাস্থ্য ভালো রাখে।
        🌿 আধ্যাত্মিক উন্নতি – ধৈর্য, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও ভক্তি বৃদ্ধি পায়।

উপসংহার:-

একাদশী ব্রত পালন ভক্তের জীবনে আধ্যাত্মিক উন্নতি, মানসিক স্থিতি ও শারীরিক সুস্থতা নিয়ে আসে। ভগবান বিষ্ণুর আশীর্বাদ লাভের জন্য এই দিনটি বিশেষভাবে পালনীয়।

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Out
Ok, Go it!
To Top