‘একাদশী’ শব্দটি সংস্কৃত থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ চন্দ্রপক্ষের একাদশ তিথি। প্রতি মাসে দুটি একাদশী পালিত হয়— একটি শুক্লপক্ষে এবং একটি কৃষ্ণপক্ষে। এই দিনটি বিশেষভাবে ভগবান বিষ্ণুর ভক্তদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
একাদশীর মাহাত্ম্য ও ধর্মীয় তাৎপর্য:-
• একাদশী উপবাস পালনকে অত্যন্ত পবিত্র মনে করা হয়।
• এই দিনে উপবাস, জপ, ধ্যান এবং ধর্মীয় আলোচনা ভক্তদের আধ্যাত্মিক উন্নতিতে সহায়ক।
• বিশ্বাস করা হয়, একাদশী ব্রত পাপ মোচন ও মুক্তির পথ সুগম করে।
একাদশী ব্রতের নিয়মাবলি:-
• দশমীর সন্ধ্যা থেকে তামসিক খাদ্য ও অন্ন জাতীয় আহার বর্জন করতে হয়।
• একাদশীর দিনে ফলাহার, নিরামিষ খাদ্য অথবা সম্পূর্ণ উপবাস পালন করা হয়।
• দিনভর ভগবান বিষ্ণুর নাম জপ, ধর্মগ্রন্থ পাঠ ও ভক্তিমূলক কার্য সম্পাদন করা উচিত।
• রাতে জাগরণ করে কীর্তন ও ভজন করা হয়।
• দ্বাদশী তিথিতে ব্রতভঙ্গ করে ব্রাহ্মণকে দান দেওয়া শ্রেয়।
একাদশীর উপকারিতা (আধ্যাত্মিক ও শারীরিক):-
• মানসিক শান্তি ও আত্মিক শুদ্ধি লাভ হয়।
• শরীর থেকে অপ্রয়োজনীয় বিষাক্ত উপাদান দূর হয় এবং হজমশক্তি উন্নত হয়।
• ঈশ্বরচিন্তা ও আত্মোপলব্ধির মাধ্যমে চেতনার বিকাশ ঘটে।