সনাতন পত্র ডেস্ক,
প্রযুক্তি প্রতিবেদন,
বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি পণ্য। যোগাযোগ, ব্যাংকিং, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, অনলাইন শিক্ষা এবং ব্যবসাসহ বহু কাজে মোবাইল ফোন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। কিন্তু নতুন ফোনের উচ্চমূল্যের কারণে অনেকেই পুরাতন বা ব্যবহৃত মোবাইল ফোন কিনে থাকেন। এই ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মোবাইলটির IMEI নম্বর সরকারি ন্যাশনাল ডাটাবেজে নিবন্ধিত আছে কি না তা যাচাই করা।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (BTRC) দেশে অবৈধ মোবাইল ফোন বন্ধ করতে **ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (NEIR)** চালু করেছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশে ব্যবহৃত সব বৈধ মোবাইল ফোনের IMEI নম্বর সরকারি ডাটাবেজে সংরক্ষণ করা হয়। ফলে চোরাই, অবৈধ বা ক্লোন করা মোবাইল শনাক্ত করা সহজ হয়।
এই নম্বর ব্যবহার করে মোবাইল অপারেটর এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা সহজেই নির্ধারণ করতে পারে একটি ফোন বৈধভাবে নিবন্ধিত কি না, ফোনটি চুরি হয়েছে কি না অথবা এটি কোনো অবৈধ ডিভাইস কিনা।
বাংলাদেশে NEIR চালুর পর থেকে নতুন মোবাইল ফোন বাজারে আসার সঙ্গে সঙ্গে তার IMEI নম্বর ডাটাবেজে নিবন্ধিত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদেশ থেকে আনা ফোন বা পুরাতন ফোনও নিবন্ধন করার সুযোগ রয়েছে।
এ কারণে ব্যবহৃত মোবাইল কেনার আগে প্রথমেই ফোনটির IMEI নম্বর যাচাই করা জরুরি। যদি ফোনটি সরকারি ডাটাবেজে নিবন্ধিত না থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে সেটি মোবাইল নেটওয়ার্কে কাজ নাও করতে পারে।
এছাড়া আরও কিছু বিষয় যাচাই করা উচিত—
ফোনটির আসল চার্জার ও বক্স আছে কি না, আগের মালিকের পরিচয় জানা যায় কি না, এবং ফোনটির সফটওয়্যার বা হার্ডওয়্যারে কোনো সমস্যা আছে কি না।
এছাড়া অনেক ফোনের বক্স, ব্যাটারির নিচে বা সেটিংস মেনুতেও IMEI নম্বর উল্লেখ থাকে।
নিচের টেবিলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কোড ও সেবার তথ্য দেওয়া হলো।
যদি কোনো ফোন নিবন্ধিত না থাকে, তাহলে নির্দিষ্ট সময় পর সেটি মোবাইল নেটওয়ার্কে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এজন্য নতুন ফোন কেনার পর তার IMEI নম্বর যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারের তথ্য অনুযায়ী, NEIR চালুর প্রধান লক্ষ্য হলো অবৈধ মোবাইল ফোন আমদানি বন্ধ করা, চোরাই ফোন ব্যবহারের ঝুঁকি কমানো এবং মোবাইল বাজারকে নিয়ন্ত্রণে রাখা।
এর ফলে চোরাই ফোন ব্যবহার করা সম্ভব হয় না এবং মোবাইল চুরি কমানোর ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে কয়েক কোটি মোবাইল ফোন ইতোমধ্যে NEIR ডাটাবেজে নিবন্ধিত হয়েছে।
এছাড়া পুরাতন ফোন কেনার ক্ষেত্রে ফোনের কাগজপত্র, রসিদ এবং আগের মালিকের তথ্য যাচাই করা উচিত।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সচেতনতা বাড়লে অবৈধ মোবাইল বাজার অনেকাংশে কমে যাবে এবং ব্যবহারকারীরা প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকি থেকেও রক্ষা পাবেন।
বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যাংকিং এবং ডিজিটাল সেবার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই একটি বৈধ এবং নিবন্ধিত মোবাইল ফোন ব্যবহার করা নিরাপত্তার দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যবহৃত মোবাইল ফোন কেনার আগে IMEI নম্বর যাচাই করা এবং নতুন ফোন কিনে ডাটাবেজে নিবন্ধন করা—এই দুইটি পদক্ষেপই ব্যবহারকারীদের নিরাপদ প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য অপরিহার্য বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (BTRC) দেশে অবৈধ মোবাইল ফোন বন্ধ করতে **ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (NEIR)** চালু করেছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশে ব্যবহৃত সব বৈধ মোবাইল ফোনের IMEI নম্বর সরকারি ডাটাবেজে সংরক্ষণ করা হয়। ফলে চোরাই, অবৈধ বা ক্লোন করা মোবাইল শনাক্ত করা সহজ হয়।
IMEI কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ
IMEI (International Mobile Equipment Identity) হলো একটি মোবাইল ফোনের জন্য নির্ধারিত ১৫ সংখ্যার একটি ইউনিক নম্বর। প্রতিটি মোবাইল ফোনের জন্য এই নম্বর আলাদা হয় এবং এটি ফোনটির পরিচয়পত্র হিসেবে কাজ করে।এই নম্বর ব্যবহার করে মোবাইল অপারেটর এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা সহজেই নির্ধারণ করতে পারে একটি ফোন বৈধভাবে নিবন্ধিত কি না, ফোনটি চুরি হয়েছে কি না অথবা এটি কোনো অবৈধ ডিভাইস কিনা।
বাংলাদেশে NEIR চালুর পর থেকে নতুন মোবাইল ফোন বাজারে আসার সঙ্গে সঙ্গে তার IMEI নম্বর ডাটাবেজে নিবন্ধিত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদেশ থেকে আনা ফোন বা পুরাতন ফোনও নিবন্ধন করার সুযোগ রয়েছে।
পুরাতন মোবাইল কেনার আগে যে বিষয়গুলো যাচাই করা জরুরি
পুরাতন মোবাইল ফোন কেনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো ফোনটি চোরাই বা অবৈধ হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, ক্রেতা কম দামে ফোন কিনলেও পরে সেটি নেটওয়ার্কে বন্ধ হয়ে যায়।এ কারণে ব্যবহৃত মোবাইল কেনার আগে প্রথমেই ফোনটির IMEI নম্বর যাচাই করা জরুরি। যদি ফোনটি সরকারি ডাটাবেজে নিবন্ধিত না থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে সেটি মোবাইল নেটওয়ার্কে কাজ নাও করতে পারে।
এছাড়া আরও কিছু বিষয় যাচাই করা উচিত—
ফোনটির আসল চার্জার ও বক্স আছে কি না, আগের মালিকের পরিচয় জানা যায় কি না, এবং ফোনটির সফটওয়্যার বা হার্ডওয়্যারে কোনো সমস্যা আছে কি না।
IMEI নম্বর কীভাবে দেখা যায়
মোবাইল ফোনের IMEI নম্বর জানার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো একটি নির্দিষ্ট কোড ডায়াল করা। ফোনের ডায়াল প্যাডে কোডটি লিখলেই IMEI নম্বর স্ক্রিনে দেখা যায়।এছাড়া অনেক ফোনের বক্স, ব্যাটারির নিচে বা সেটিংস মেনুতেও IMEI নম্বর উল্লেখ থাকে।
বাংলাদেশে IMEI যাচাই করার পদ্ধতি
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবহারকারীরা খুব সহজেই মোবাইল ফোনের IMEI নম্বর যাচাই করতে পারেন। SMS, USSD কোড বা সরকারি ওয়েবসাইট ব্যবহার করে এই যাচাই করা যায়।নিচের টেবিলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কোড ও সেবার তথ্য দেওয়া হলো।
| সেবা | কোড / পদ্ধতি | ব্যবহার | বর্ণনা |
| IMEI দেখা | *#06# | ডায়াল | এই কোড ডায়াল করলে ফোনের IMEI নম্বর স্ক্রিনে দেখা যায়। |
| IMEI যাচাই | *16161# | ডায়াল | এই কোড ডায়াল করে ফোনটি বৈধ কিনা তা যাচাই করা যায়। |
| SMS যাচাই | KYD লিখে 16002 নম্বরে পাঠান | SMS | IMEI নম্বরসহ SMS পাঠালে ফোনের তথ্য জানা যায়। |
| অনলাইন যাচাই | NEIR ওয়েবসাইট | ওয়েব | সরকারি ওয়েবসাইটে IMEI নম্বর দিয়ে ফোনের বৈধতা যাচাই করা যায়। |
নতুন মোবাইল কেনার পর নিবন্ধন কেন জরুরি
বাংলাদেশে নতুন মোবাইল ফোন কিনলে সাধারণত সেটির IMEI নম্বর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডাটাবেজে নিবন্ধিত থাকে। তবে বিদেশ থেকে আনা ফোনের ক্ষেত্রে অনেক সময় ব্যবহারকারীকে নিজেই নিবন্ধন করতে হয়।যদি কোনো ফোন নিবন্ধিত না থাকে, তাহলে নির্দিষ্ট সময় পর সেটি মোবাইল নেটওয়ার্কে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এজন্য নতুন ফোন কেনার পর তার IMEI নম্বর যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারের তথ্য অনুযায়ী, NEIR চালুর প্রধান লক্ষ্য হলো অবৈধ মোবাইল ফোন আমদানি বন্ধ করা, চোরাই ফোন ব্যবহারের ঝুঁকি কমানো এবং মোবাইল বাজারকে নিয়ন্ত্রণে রাখা।
চোরাই মোবাইল বন্ধ করতে NEIR এর ভূমিকা
NEIR চালুর ফলে চুরি হওয়া মোবাইল ফোন সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। কোনো ফোন চুরি হলে ব্যবহারকারী IMEI নম্বরের মাধ্যমে সেটি ব্লক করতে পারেন।এর ফলে চোরাই ফোন ব্যবহার করা সম্ভব হয় না এবং মোবাইল চুরি কমানোর ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে কয়েক কোটি মোবাইল ফোন ইতোমধ্যে NEIR ডাটাবেজে নিবন্ধিত হয়েছে।
ব্যবহারকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
মোবাইল ফোন কেনার সময় কয়েকটি বিষয় মনে রাখা উচিত। প্রথমত, সব সময় বিশ্বস্ত দোকান বা বিক্রেতার কাছ থেকে ফোন কেনা ভালো। দ্বিতীয়ত, ফোনের IMEI নম্বর যাচাই করা জরুরি।এছাড়া পুরাতন ফোন কেনার ক্ষেত্রে ফোনের কাগজপত্র, রসিদ এবং আগের মালিকের তথ্য যাচাই করা উচিত।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সচেতনতা বাড়লে অবৈধ মোবাইল বাজার অনেকাংশে কমে যাবে এবং ব্যবহারকারীরা প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকি থেকেও রক্ষা পাবেন।
বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যাংকিং এবং ডিজিটাল সেবার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই একটি বৈধ এবং নিবন্ধিত মোবাইল ফোন ব্যবহার করা নিরাপত্তার দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যবহৃত মোবাইল ফোন কেনার আগে IMEI নম্বর যাচাই করা এবং নতুন ফোন কিনে ডাটাবেজে নিবন্ধন করা—এই দুইটি পদক্ষেপই ব্যবহারকারীদের নিরাপদ প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য অপরিহার্য বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রকাশ: ৯ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: এখন সময়
...