ইরানের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রে ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা

Sanatan Patra
হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রে ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি ইরানের
হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রে ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি ইরানের
সনাতন পত্র ডেস্ক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন করে বাড়তে শুরু করেছে। ইরান দাবি করেছে, তারা শব্দের গতির চেয়ে প্রায় ১৩ গুণ দ্রুতগতির হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইসরায়েলের নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। দেশটির সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন ইরানি গণমাধ্যমে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

ইরানের সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র অত্যন্ত উন্নত প্রযুক্তির এবং অত্যন্ত উচ্চগতিতে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। ইরানি কর্মকর্তারা বলেছেন, এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র প্রচলিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য শনাক্ত বা প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন।

ইরানের সামরিক বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, হামলায় এমন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে যা শব্দের গতির তুলনায় বহু গুণ বেশি গতিতে উড়তে পারে। হাইপারসনিক প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র সাধারণত ম্যাক-৫ বা তার বেশি গতিতে চলতে সক্ষম। ইরানের দাবি অনুযায়ী, তাদের ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র প্রায় ম্যাক-১৩ গতিতে উড়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।

সামরিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই ধরনের উচ্চগতির ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ করা অত্যন্ত কঠিন। কারণ এগুলো প্রচলিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মতো নির্দিষ্ট পথে না গিয়ে মাঝপথে গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে। ফলে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অনেক সময় এগুলোকে নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে পারে না।

এই হামলার দাবির বিষয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এখনো বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সম্ভাব্য হামলার পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রাখা হয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ‘আইরন ডোম’, ‘ডেভিডস স্লিং’ এবং ‘অ্যারো’সহ একাধিক স্তরের আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি রয়েছে। এই প্রযুক্তিগুলো মূলত বিভিন্ন ধরনের রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার জন্য ব্যবহৃত হয়। তবে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের ক্ষেত্রে এসব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় এই দুই দেশের সম্পর্ক প্রায়শই সংঘাতপূর্ণ হয়ে ওঠে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ঘটনার পর দুই দেশের মধ্যে বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে বলে পর্যবেক্ষকদের মত।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা মনে করছেন, এই ধরনের হামলার দাবি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে হাইপারসনিক অস্ত্র প্রযুক্তির ব্যবহার বা ব্যবহারসংক্রান্ত দাবি ভবিষ্যতে সামরিক প্রতিযোগিতা ও নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়ে দিতে পারে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিভিন্ন কূটনৈতিক মহল থেকে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানানো হয়েছে এবং সংঘাত এড়াতে সংলাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: এখন সময়
...

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Out
Ok, Go it!
To Top