নম্রতার মৃত্যু
এ সমাজে বহুরকম মানুষ থাকে, আমরা কয়জনের চরিত্রের অংক কষতে পারি? এই প্রশ্নটা আমরা প্রায়শই আমাদের চিন্তার জালে আটকে নাড়াচাড়া করি। কিন্তু উত্তর খুঁজি না। কারণ মানুষের চরিত্র কখনো সরল অংক নয়—এটা বীজগণিতের মতো জটিল, কখনো ক্যালকুলাসের মতো অদৃশ্য রেখায় গঠিত।
বাইরে থেকে আমরা যাকে সাদা দেখি, তার ভেতরে হয়তো ধূসর রঙের স্তর জমে থাকে বছরের পর বছর। মানুষ তার জীবনকে ভীষণ ভালোবাসে। তাই এক জীবনে মরণশীল মানুষের অমর হওয়ার কত আয়োজন!
পোলাইট—ওনার নামটাই যেন তাঁর পরিচয়। নম্র, ভদ্র। চেহারা, গেটআপ, ব্যবহার—সবকিছুতেই যেন স্রষ্টা তাঁকে আলাদা করে বানিয়েছেন। ব্যবসায় তাঁর সাফল্যও অসাধারণ।
এখন পর্যন্ত কেউ তাঁর চরিত্রে কোনো খারাপ দিক খুঁজে পায়নি। কিন্তু তাঁর জীবনে একটি গোপন দিক ছিল, যা জানত শুধু তাঁর বন্ধুরা।
একদিন তাঁর বড় মেয়ে বাবার কাছে নতুন আইফোনের বায়না ধরল।
মেয়েটি চুপ করে রইল।
পোলাইট বললেন—
দেখো, অধিকাংশ মানুষ আইফোন ব্যবহার করে নিজেকে বড়লোক দেখানোর জন্য। অথচ আমাদের দেশে অনেক মেধাবী ছেলে-মেয়ে আছে যারা একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোনও কিনতে পারে না।
নিজেকে প্রমাণ করার জন্য কোনো ব্র্যান্ড দরকার নেই। তুমি নিজেই একটি ব্র্যান্ড।
এমন মানুষই ছিলেন পোলাইট। সমাজ তাঁকে আদর্শ মানুষ হিসেবে দেখত।
কিন্তু একদিন বন্ধুরা তাঁকে একটি রহস্যময় সারপ্রাইজ দিল।
পরদিন তিনি একটি অচেনা বাড়িতে পৌঁছালেন। দরজা খুলতেই তিনি জীবনের সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা খেলেন।
ভয়, লজ্জা আর আতঙ্কে তিনি দ্রুত গাড়ি চালিয়ে বেরিয়ে গেলেন। মাথা ঝিমঝিম করছে। দৃষ্টি ঝাপসা।
গাড়ি ছুটছে উত্তরা থেকে মহাখালির দিকে।
হঠাৎ এক ভয়াবহ শব্দ।
কার্গো ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ।
মুহূর্তেই সব শেষ।
পোলাইট স্পট ডেড।
সমাজ আজও পোলাইটকে মনে রাখবে একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে। আর সেই মেয়েটি বেঁচে থাকবে—একটি অমোচনীয় স্মৃতি বুকে নিয়ে।
নম্রতার মৃত্যু সেদিন রাস্তায় হয়নি। হয়েছিল অনেক আগে—যেদিন ভদ্রতার আড়ালে প্রবৃত্তি বাসা বেঁধেছিল।