আর্থ্রোস্কোপিক সার্জারি কী, কেন ও কীভাবে করা হয়

Sanatan Patra
আর্থ্রোস্কোপিক সার্জারি কী, কেন ও কীভাবে করা হয়
আর্থ্রোস্কোপিক সার্জারি
Sonatanpatro Reporter
সনাতন পত্রো ডেস্ক
স্বাস্থ্য প্রতিবেদন
আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে জয়েন্ট বা অস্থিসন্ধির চিকিৎসায় সবচেয়ে কার্যকর ও উন্নত পদ্ধতির একটি হলো আর্থ্রোস্কোপিক সার্জারি। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে আর্থ্রোস্কোপি বলা হয়। এই পদ্ধতিতে শরীরের বড় কাটা ছাড়াই খুব ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে জয়েন্টের ভেতরের সমস্যা শনাক্ত ও চিকিৎসা করা যায়।

আগে হাঁটু বা কাঁধের জয়েন্টে সমস্যা হলে ওপেন সার্জারি করতে হতো। এতে রোগীর শরীরে বড় কাটা দেওয়া লাগত এবং সুস্থ হতে অনেক সময় লাগত। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তির কারণে এখন আর্থ্রোস্কোপিক সার্জারির মাধ্যমে তুলনামূলক কম সময় ও কম ঝুঁকিতে চিকিৎসা সম্ভব হচ্ছে।

আর্থ্রোস্কোপিক সার্জারি কী

আর্থ্রোস্কোপিক সার্জারি এমন একটি চিকিৎসা পদ্ধতি যেখানে ছোট একটি ক্যামেরাযুক্ত সরু যন্ত্র জয়েন্টের ভেতরে প্রবেশ করিয়ে অপারেশন করা হয়। এই যন্ত্রটির নাম আর্থ্রোস্কোপ। এটি একটি সরু টিউবের মতো যার মাথায় ক্যামেরা ও আলো থাকে।

এই ক্যামেরা জয়েন্টের ভেতরের ছবি একটি মনিটরে দেখায়। সার্জন সেই মনিটর দেখে জয়েন্টের ভেতরের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ শনাক্ত করেন এবং একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করেন।

কেন এই সার্জারি করা হয়

হাঁটু, কাঁধ, গোড়ালি, কবজি বা কনুইয়ের বিভিন্ন সমস্যার ক্ষেত্রে আর্থ্রোস্কোপিক সার্জারি করা হয়। বিশেষ করে খেলাধুলার সময় আঘাত পেলে বা দুর্ঘটনায় লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেলে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

হাঁটুর মেনিস্কাস ছিঁড়ে যাওয়া, লিগামেন্ট ইনজুরি, কার্টিলেজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া কিংবা দীর্ঘদিনের জয়েন্ট ব্যথার কারণ নির্ণয়ের জন্য এই সার্জারি করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে এক্স-রে বা এমআরআই পরীক্ষায় স্পষ্টভাবে সমস্যা বোঝা না গেলে আর্থ্রোস্কোপির মাধ্যমে সরাসরি জয়েন্টের ভেতর দেখা হয়।

কীভাবে এই অপারেশন করা হয়

অপারেশনের সময় প্রথমে জয়েন্টের কাছে খুব ছোট একটি ছিদ্র করা হয়। এরপর সেই ছিদ্র দিয়ে আর্থ্রোস্কোপ প্রবেশ করানো হয়। ক্যামেরার মাধ্যমে জয়েন্টের ভেতরের অংশ মনিটরে দেখা যায়।

এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী আরও ছোট ছিদ্র করে সূক্ষ্ম সার্জিক্যাল যন্ত্র ঢোকানো হয়। সেই যন্ত্র দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু পরিষ্কার করা বা মেরামত করা হয়। পুরো প্রক্রিয়া সাধারণত ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টার মধ্যে সম্পন্ন হয়।

এই সার্জারির সুবিধা

এই পদ্ধতির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো শরীরে বড় কাটা লাগে না। ফলে রক্তক্ষরণ কম হয় এবং সংক্রমণের ঝুঁকিও কম থাকে। রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারেন।

অনেক ক্ষেত্রে রোগীকে দীর্ঘদিন হাসপাতালে থাকতে হয় না। একই দিন বা পরের দিন বাড়ি ফিরে যাওয়া সম্ভব হয়। এছাড়া অপারেশনের দাগও খুব ছোট থাকে।

সার্জারির পর করণীয়

অপারেশনের পর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কিছুদিন বিশ্রাম নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি নিয়মিত ফিজিওথেরাপি করলে জয়েন্ট দ্রুত শক্তিশালী হয় এবং আগের মতো চলাফেরা করা সহজ হয়।

চিকিৎসকদের মতে, জয়েন্টে দীর্ঘদিন ব্যথা বা অস্বাভাবিক সমস্যা থাকলে অবহেলা করা উচিত নয়। দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে অনেক ক্ষেত্রেই আধুনিক আর্থ্রোস্কোপিক সার্জারির মাধ্যমে রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন।
প্রকাশ: ৫ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: এখন সময়
আর্থ্রোস্কোপিক সার্জারি কী, কেন ও কীভাবে করা হয়—হাঁটু ও জয়েন্টের আধুনিক অপারেশন পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য।
...

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Out
Ok, Go it!
To Top