দ্রোহী কথাসাহিত্যিক আব্দুর রউফ চৌধুরীর স্মৃতিকে ধারণ করে প্রতি বছরের মতো এ বছরও ঘোষণা করা হয়েছে ‘আব্দুর রউফ চৌধুরী প্রজন্ম প্রান্তিক সম্মাননা ২০২৬’। দেশের বিভিন্ন ধারার সাহিত্যচর্চায় অবদান রাখা তরুণ সাহিত্যিকদের স্বীকৃতি জানাতেই এ সম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, তরুণ সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিকর্মীদের স্বীকৃতি হিসেবে এ বছর সম্মাননা পাচ্ছেন ১০ জন কবি-লেখক। তারা হলেন— ছোটকাগজ সম্পাদক আপন অপু (লক্ষ্মীপুর), পাঠাগার আন্দোলনের কর্মী আলমগীর মাসুদ (ফেনী), গল্পকার ইসরাত জাহান (পটুয়াখালী), কবি কানিজ পারিজাত (ফরিদপুর), গল্পকার কামরুন্নাহার দিপা (মেহেরপুর), ঔপন্যাসিক রাশেদ রেহমান (সিরাজগঞ্জ), কবি শব্দনীল (বাগেরহাট), কথাসাহিত্যিক সালাহ উদ্দিন মাহমুদ (মাদারীপুর), কথাসাহিত্যিক সিদ্দিকী হারুন (হবিগঞ্জ) এবং গীতিকাব্য রচয়িতা সিরাজিয়া পারভেজ (সাতক্ষীরা)।
সম্মাননার তাৎপর্য
আব্দুর রউফ চৌধুরী ছিলেন বাংলা কথাসাহিত্যের এক দ্রোহী কণ্ঠস্বর। তার সাহিত্যকর্মে উঠে এসেছে সমাজের প্রান্তিক মানুষের জীবন, সংগ্রাম ও বঞ্চনার কথা। তাই তার নামে প্রবর্তিত এই সম্মাননা মূলত তরুণ প্রজন্মকে সাহিত্যে নতুন দিগন্ত উন্মোচনে উৎসাহিত করার একটি প্রয়াস।
স্মৃতি পর্ষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী ৪ এপ্রিল শনিবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালায় এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ পুরস্কার প্রদান করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি, লেখক ও গবেষক আবুল কাসেম ফজলুল হক।
আয়োজকদের বক্তব্য
আব্দুর রউফ চৌধুরী স্মৃতি পর্ষদের মহাসচিব কথাসাহিত্যিক শামস সাঈদ জানিয়েছেন, সাহিত্যচর্চাকে আরও সমৃদ্ধ ও উদ্দীপিত করতেই এ সম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে। তিনি বলেন, তরুণদের সৃজনশীল সাধনা ও আলোকিত পথচলা ভবিষ্যতে বাংলা সাহিত্যকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
সম্মাননাপ্রাপ্তদের অবদান
প্রতিটি সম্মাননাপ্রাপ্ত সাহিত্যিক নিজ নিজ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছেন। কেউ ছোটকাগজ সম্পাদনার মাধ্যমে তরুণদের সাহিত্যচর্চায় উৎসাহ দিচ্ছেন, কেউ পাঠাগার আন্দোলনের মাধ্যমে গ্রামীণ সমাজে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলছেন। আবার কেউ গল্প, কবিতা, উপন্যাস কিংবা গীতিকাব্যের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে নতুন ধারা যোগ করছেন।
এই সম্মাননা তাদের কাজকে আরও দৃঢ় করবে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবে। বিশেষ করে প্রান্তিক অঞ্চলের তরুণ সাহিত্যিকরা যখন জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি পান, তখন তা তাদের সৃজনশীলতাকে বহুগুণে বাড়িয়ে তোলে।
তরুণ সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিকর্মীদের স্বীকৃতি হিসেবে এ বছর সম্মাননা পাচ্ছেন ১০ জন কবি-লেখক। তাদের নাম নিচে দেওয়া হলো:
| নাম | পরিচিতি | জেলা |
| আপন অপু | ছোটকাগজ সম্পাদক | লক্ষ্মীপুর |
| আলমগীর মাসুদ | পাঠাগার আন্দোলনের কর্মী | ফেনী |
| ইসরাত জাহান | গল্পকার | পটুয়াখালী |
| কানিজ পারিজাত | কবি | ফরিদপুর |
| কামরুন্নাহার দিপা | গল্পকার | মেহেরপুর |
| রাশেদ রেহমান | ঔপন্যাসিক | সিরাজগঞ্জ |
| শব্দনীল | কবি | বাগেরহাট |
| সালাহ উদ্দিন মাহমুদ | কথাসাহিত্যিক | মাদারীপুর |
| সিদ্দিকী হারুন | কথাসাহিত্যিক | হবিগঞ্জ |
| সিরাজিয়া পারভেজ | গীতিকাব্য রচয়িতা | সাতক্ষীরা |
উপসংহার
প্রসঙ্গত, দ্রোহী কথাসাহিত্যিক আব্দুর রউফ চৌধুরীর সাহিত্যিক উত্তরাধিকারকে স্মরণ ও নতুন প্রজন্মের সাহিত্যিকদের উৎসাহিত করার লক্ষ্যেই এ পুরস্কার প্রবর্তন করা হয়েছে। এ সম্মাননা শুধু ব্যক্তিগত স্বীকৃতি নয়, বরং বাংলা সাহিত্যের ধারাবাহিকতায় তরুণদের অবদানকে মূল্যায়ন করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
বাংলা সাহিত্যকে এগিয়ে নিতে তরুণদের এই সম্মাননা নিঃসন্দেহে নতুন উদ্দীপনা যোগ করবে।