দুদক চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনারের পদত্যাগ

Sanatan Patra
দুদক চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনারের পদত্যাগ
দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক
সনাতন পত্র লোগো
সনাতন পত্র ডেস্ক
ঢাকা
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ড. এম এ মোমেন এবং দুই কমিশনার একযোগে পদত্যাগ করেছেন। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুরে তারা মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে নিজ নিজ পদত্যাগপত্র জমা দেন। সরকারি সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

পদত্যাগকারী অন্য দুই কমিশনার হলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী এবং অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাফিজ আহসান ফরিদ। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের আলোচনার মধ্যেই তাদের এই সিদ্ধান্ত এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের কারণ জানানো হয়নি।

মঙ্গলবার দুপুরে দুদক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎ শেষে চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনারের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

এর আগে সোমবার থেকেই তাদের পদত্যাগ নিয়ে সরকারি দপ্তর ও রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়। বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চলছিল যে, দুদকের শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসায় বিষয়টি অনিশ্চিত ছিল।

অন্তর্বর্তী সরকার গত ১২ ডিসেম্বর ড. এম এ মোমেনকে দুদকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি কমিশনের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, তদন্ত প্রক্রিয়ায় গতি আনা এবং উচ্চপ্রোফাইল দুর্নীতির অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।

এর দুদিন আগে, ১০ ডিসেম্বর কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী এবং অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাফিজ আহসান ফরিদ। আইন ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে কমিশনের তদন্ত কার্যক্রম শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বলে সে সময় সরকারের তরফে জানানো হয়।

দুদক দেশের প্রধান দুর্নীতি দমন সংস্থা হিসেবে সংবিধান ও আইনের আলোকে কাজ করে থাকে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা কমিশনের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। ফলে কমিশনের শীর্ষ পর্যায়ে হঠাৎ এই পরিবর্তন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের বিষয়ে পুনর্বিবেচনার প্রক্রিয়া চলমান থাকতে পারে। যদিও এ বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি, তবুও পদত্যাগের সময়কাল এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে।

দুদকের চলমান তদন্ত, বিচারাধীন মামলা এবং উচ্চপর্যায়ের অনুসন্ধান কার্যক্রমে এই পদত্যাগের প্রভাব পড়বে কি না, তা এখন দেখার বিষয়। কমিশনের নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনিক কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে সরকার শিগগিরই সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দুর্নীতি দমন কমিশনের কার্যকারিতা অনেকাংশে নির্ভর করে এর নেতৃত্বের স্বচ্ছতা, স্বাধীনতা এবং প্রশাসনিক দৃঢ়তার ওপর। ফলে শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তন এলে কমিশনের অগ্রাধিকার ও কৌশলেও পরিবর্তন আসতে পারে।

এদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকেও বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নেওয়া বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তার প্রেক্ষাপটে দুদকের নেতৃত্ব পরিবর্তন নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

এখন পর্যন্ত পদত্যাগপত্র গ্রহণ এবং পরবর্তী নিয়োগ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। তবে প্রশাসনিক সূত্র জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই এ বিষয়ে সরকারি গেজেট প্রকাশ হতে পারে।
প্রকাশ: ৩ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ৩ মার্চ ২০২৬, বিকাল
দুদক চেয়ারম্যান ড. এম এ মোমেন ও দুই কমিশনার ৩ মার্চ পদত্যাগ করেছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত এই তিনজনের সিদ্ধান্তে প্রশাসনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
দুদক চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনারের পদত্যাগ | ACC Bangladesh
ACC Bangladesh, দুদক, ড এম এ মোমেন, কমিশনার পদত্যাগ, অন্তর্বর্তী সরকার, দুর্নীতি দমন কমিশন সংবাদ
...

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Out
Ok, Go it!
To Top