সনাতন পত্র ডেস্ক
স্পোর্টস রিপোর্ট
মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিসিএলের ফাইনাল চলাকালে হঠাৎ করেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন জাতীয় দলের ওপেনার এনামুল হক বিজয়। ম্যাচের বাইরে তিনি নিজ উদ্যোগে সাংবাদিকদের সামনে এসে কথা বলেন। সেখানে স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা দেন—তাঁর ‘হারানো সম্মান’ ফিরিয়ে না দিলে আর কখনো ক্রিকেট খেলবেন না।
সাংবাদিকদের সামনে দাঁড়িয়ে এনামুল দুটি নির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরেন। প্রথমত, ২০২৪ সালের বিপিএলে দুর্বার রাজশাহীর হয়ে খেললেও তিনি এখনো পারিশ্রমিক পাননি বলে দাবি করেন। দ্বিতীয়ত, ২০২৫ সালের বিপিএলে ফিক্সিংয়ের সন্দেহে তাঁকে অঘোষিতভাবে নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে, যার ফলে সর্বশেষ আসরে তিনি খেলতে পারেননি। তবে তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রমাণ বা চার্জ প্রকাশ করা হয়নি বলেই অভিযোগ তাঁর।
এনামুল বলেন, তিনি বারবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন। বিসিবি সভাপতি আমিনুল, সহসভাপতি ফারুক আহমেদ এবং বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের প্রধান ইফতেখার রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো সন্তোষজনক জবাব পাননি বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযোগের বিষয়ে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা না পেয়ে তিনি মানসিক ও পেশাগতভাবে চাপে রয়েছেন।
২০২৪ সালের বিপিএলে ফিক্সিংয়ের অভিযোগ ওঠার পর বিসিবি তিন সদস্যের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে। ওই কমিটির প্রস্তুত করা প্রায় ৯০০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিসিবির ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের প্রধান অ্যালেক্স মার্শাল আরও তদন্তের সুপারিশ করেন। তাঁর পরামর্শের ভিত্তিতে সন্দেহের তালিকায় থাকা ৯ ক্রিকেটার ও কয়েকজন কর্মকর্তাকে পরবর্তী বিপিএলে না রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কোনো চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হয়নি।
এনামুলসহ ওই সন্দেহভাজন ক্রিকেটারদের নাম ২০২৫ সালের বিপিএলের নিলাম তালিকায় রাখা হয়নি। যদিও বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, বিপিএল ছাড়া অন্য টুর্নামেন্টে তাঁরা অংশ নিতে পারবেন। সেই অনুযায়ী চলতি বিসিএলের ৫০ ওভারের আসরে এনামুল ও মোসাদ্দেক হোসেনকে খেলার সুযোগ দেওয়া হয়। মোসাদ্দেক মধ্যাঞ্চলের হয়ে মাঠে নামলেও দক্ষিণাঞ্চলের দলে এনামুলকে দেখা যায়নি।
বিসিএলে না খেলার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এনামুল বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে জানাচ্ছে না যে তিনি কোনো অপরাধ করেননি এবং তাঁর নাম ভুলভাবে সন্দেহের তালিকায় গিয়েছে, ততক্ষণ তিনি ক্রিকেটে ফিরবেন না। তাঁর দাবি, বোর্ডকে প্রকাশ্যে বলতে হবে যে বিষয়টি সমাধান হয়েছে এবং তিনি সব ধরনের ক্রিকেট খেলতে পারবেন। তার আগে মাঠে ফেরার প্রশ্নই আসে না।
সব ধরনের ক্রিকেট মিলিয়ে ৫১টি সেঞ্চুরির মালিক এই ওপেনার বলেন, যদি তিনি অন্যায় কিছু করে থাকতেন, তবে এত দিনে তা প্রমাণ হয়ে যেত। তাঁর বক্তব্য, দুই বছর ধরে তদন্তের পরও যদি সুনির্দিষ্ট প্রমাণ হাজির করা না যায়, তবে সেটি তাঁর নির্দোষিতার দিকেই ইঙ্গিত করে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমি কিছু করে থাকলে প্রমাণ দেখান। প্রমাণ দেখাতে না পারলে আমাকে অপরাধী হিসেবে দেখানোর অধিকার কারও নেই।”
এনামুলের দাবি, এই পরিস্থিতির কারণে তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ২০২৪ সালের বিপিএলে খেলেও পারিশ্রমিক না পাওয়ার অভিযোগের পাশাপাশি ২০২৫ সালের বিপিএলে খেলতে না পারায় বড় অঙ্কের আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছেন তিনি। এর প্রভাব পড়েছে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগেও। তাঁর মতে, ফিক্সিংয়ের সন্দেহ থাকায় অনেক ক্লাব তাঁকে নিতে অনাগ্রহ দেখিয়েছে বা কম পারিশ্রমিকে চুক্তি করেছে।
তিনি বলেন, “বিপিএলে প্রশ্ন ওঠার পর প্রিমিয়ার লিগে আমাকে অনেক কম টাকায় খেলতে হয়েছে। অনেকে ভাবে, এমন বিতর্কিত খেলোয়াড়কে দলে নিলে ঝুঁকি থাকবে।” এই পরিস্থিতি তাঁর পেশাগত সুনাম ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারকে সরাসরি প্রভাবিত করছে বলে মনে করেন তিনি।
বিষয়টি এখন শুধু ব্যক্তিগত অভিযোগ বা পারিশ্রমিক ইস্যুতে সীমাবদ্ধ নেই। এটি স্বচ্ছতা, তদন্ত প্রক্রিয়া এবং অভিযুক্ত ক্রিকেটারদের অধিকার—এই তিনটি প্রশ্ন সামনে এনে দিয়েছে। যদি কোনো ক্রিকেটার সত্যিই অপরাধে জড়িত থাকেন, তবে প্রমাণসহ শাস্তি দেওয়া উচিত। আর যদি অভিযোগ প্রমাণিত না হয়, তবে তাঁর পেশাগত মর্যাদা পুনরুদ্ধার করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বিসিবির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে এনামুলের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বোর্ড কী অবস্থান নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তাঁর ঘোষণার পর ক্রিকেট অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে—এটি কি সাময়িক ক্ষোভ, নাকি সত্যিই তিনি দীর্ঘমেয়াদে ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়াবেন?
এনামুল স্পষ্ট করেছেন, বিষয়টি তাঁর কাছে সম্মানের প্রশ্ন। আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও পরিষ্কার অবস্থান ছাড়া তিনি আর মাঠে নামবেন না। এখন বল বিসিবির কোর্টে। বোর্ডের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে জাতীয় দলের এই ওপেনারের ভবিষ্যৎ।
সাংবাদিকদের সামনে দাঁড়িয়ে এনামুল দুটি নির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরেন। প্রথমত, ২০২৪ সালের বিপিএলে দুর্বার রাজশাহীর হয়ে খেললেও তিনি এখনো পারিশ্রমিক পাননি বলে দাবি করেন। দ্বিতীয়ত, ২০২৫ সালের বিপিএলে ফিক্সিংয়ের সন্দেহে তাঁকে অঘোষিতভাবে নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে, যার ফলে সর্বশেষ আসরে তিনি খেলতে পারেননি। তবে তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রমাণ বা চার্জ প্রকাশ করা হয়নি বলেই অভিযোগ তাঁর।
এনামুল বলেন, তিনি বারবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন। বিসিবি সভাপতি আমিনুল, সহসভাপতি ফারুক আহমেদ এবং বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের প্রধান ইফতেখার রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো সন্তোষজনক জবাব পাননি বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযোগের বিষয়ে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা না পেয়ে তিনি মানসিক ও পেশাগতভাবে চাপে রয়েছেন।
২০২৪ সালের বিপিএলে ফিক্সিংয়ের অভিযোগ ওঠার পর বিসিবি তিন সদস্যের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে। ওই কমিটির প্রস্তুত করা প্রায় ৯০০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিসিবির ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের প্রধান অ্যালেক্স মার্শাল আরও তদন্তের সুপারিশ করেন। তাঁর পরামর্শের ভিত্তিতে সন্দেহের তালিকায় থাকা ৯ ক্রিকেটার ও কয়েকজন কর্মকর্তাকে পরবর্তী বিপিএলে না রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কোনো চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হয়নি।
এনামুলসহ ওই সন্দেহভাজন ক্রিকেটারদের নাম ২০২৫ সালের বিপিএলের নিলাম তালিকায় রাখা হয়নি। যদিও বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, বিপিএল ছাড়া অন্য টুর্নামেন্টে তাঁরা অংশ নিতে পারবেন। সেই অনুযায়ী চলতি বিসিএলের ৫০ ওভারের আসরে এনামুল ও মোসাদ্দেক হোসেনকে খেলার সুযোগ দেওয়া হয়। মোসাদ্দেক মধ্যাঞ্চলের হয়ে মাঠে নামলেও দক্ষিণাঞ্চলের দলে এনামুলকে দেখা যায়নি।
বিসিএলে না খেলার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এনামুল বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে জানাচ্ছে না যে তিনি কোনো অপরাধ করেননি এবং তাঁর নাম ভুলভাবে সন্দেহের তালিকায় গিয়েছে, ততক্ষণ তিনি ক্রিকেটে ফিরবেন না। তাঁর দাবি, বোর্ডকে প্রকাশ্যে বলতে হবে যে বিষয়টি সমাধান হয়েছে এবং তিনি সব ধরনের ক্রিকেট খেলতে পারবেন। তার আগে মাঠে ফেরার প্রশ্নই আসে না।
সব ধরনের ক্রিকেট মিলিয়ে ৫১টি সেঞ্চুরির মালিক এই ওপেনার বলেন, যদি তিনি অন্যায় কিছু করে থাকতেন, তবে এত দিনে তা প্রমাণ হয়ে যেত। তাঁর বক্তব্য, দুই বছর ধরে তদন্তের পরও যদি সুনির্দিষ্ট প্রমাণ হাজির করা না যায়, তবে সেটি তাঁর নির্দোষিতার দিকেই ইঙ্গিত করে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমি কিছু করে থাকলে প্রমাণ দেখান। প্রমাণ দেখাতে না পারলে আমাকে অপরাধী হিসেবে দেখানোর অধিকার কারও নেই।”
এনামুলের দাবি, এই পরিস্থিতির কারণে তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ২০২৪ সালের বিপিএলে খেলেও পারিশ্রমিক না পাওয়ার অভিযোগের পাশাপাশি ২০২৫ সালের বিপিএলে খেলতে না পারায় বড় অঙ্কের আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছেন তিনি। এর প্রভাব পড়েছে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগেও। তাঁর মতে, ফিক্সিংয়ের সন্দেহ থাকায় অনেক ক্লাব তাঁকে নিতে অনাগ্রহ দেখিয়েছে বা কম পারিশ্রমিকে চুক্তি করেছে।
তিনি বলেন, “বিপিএলে প্রশ্ন ওঠার পর প্রিমিয়ার লিগে আমাকে অনেক কম টাকায় খেলতে হয়েছে। অনেকে ভাবে, এমন বিতর্কিত খেলোয়াড়কে দলে নিলে ঝুঁকি থাকবে।” এই পরিস্থিতি তাঁর পেশাগত সুনাম ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারকে সরাসরি প্রভাবিত করছে বলে মনে করেন তিনি।
বিষয়টি এখন শুধু ব্যক্তিগত অভিযোগ বা পারিশ্রমিক ইস্যুতে সীমাবদ্ধ নেই। এটি স্বচ্ছতা, তদন্ত প্রক্রিয়া এবং অভিযুক্ত ক্রিকেটারদের অধিকার—এই তিনটি প্রশ্ন সামনে এনে দিয়েছে। যদি কোনো ক্রিকেটার সত্যিই অপরাধে জড়িত থাকেন, তবে প্রমাণসহ শাস্তি দেওয়া উচিত। আর যদি অভিযোগ প্রমাণিত না হয়, তবে তাঁর পেশাগত মর্যাদা পুনরুদ্ধার করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বিসিবির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে এনামুলের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বোর্ড কী অবস্থান নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তাঁর ঘোষণার পর ক্রিকেট অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে—এটি কি সাময়িক ক্ষোভ, নাকি সত্যিই তিনি দীর্ঘমেয়াদে ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়াবেন?
এনামুল স্পষ্ট করেছেন, বিষয়টি তাঁর কাছে সম্মানের প্রশ্ন। আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও পরিষ্কার অবস্থান ছাড়া তিনি আর মাঠে নামবেন না। এখন বল বিসিবির কোর্টে। বোর্ডের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে জাতীয় দলের এই ওপেনারের ভবিষ্যৎ।
প্রকাশ: ৩ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ৩ মার্চ ২০২৬
...
