সনাতন পত্রো ব্লগ ডেস্ক
তথ্য ও গাইড বিভাগ
ঈদুল ফিতর ২০২৬ সামনে রেখে ট্রেন ভ্রমণের পরিকল্পনা শুরু করেছেন অনেকেই। প্রতি বছর ঈদের সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে কর্মরত মানুষ নিজ নিজ বাড়িতে ফেরেন। ফলে ট্রেনের টিকিটের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে বাংলাদেশ রেলওয়ে ৩ মার্চ ২০২৬ থেকে ঈদের অগ্রিম টিকিট বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এবার সম্পূর্ণ টিকিট বিক্রি অনলাইনে হবে, কাউন্টার থেকে কোনো অগ্রিম টিকিট দেওয়া হবে না।
অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে যাত্রীদের ভোগান্তি কমানো, স্টেশনে দীর্ঘ লাইন এড়ানো এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই এ সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ধাপে ধাপে বিভিন্ন তারিখের টিকিট ছাড়া হবে।
অর্থাৎ যাত্রার প্রায় ১০ দিন আগে সংশ্লিষ্ট দিনের টিকিট অনলাইনে পাওয়া যাবে। এতে যাত্রীরা আগেভাগেই পরিকল্পনা করে টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন।
লগইন করার পর যাত্রার স্থান, গন্তব্য, ভ্রমণের তারিখ এবং ট্রেনের শ্রেণি নির্বাচন করতে হবে। এসি, নন-এসি, চেয়ার বা শোভন—যে শ্রেণিতে ভ্রমণ করতে চান তা নির্ধারণ করে সার্চ অপশনে ক্লিক করতে হবে।
এরপর নির্দিষ্ট দিনের ট্রেন তালিকা প্রদর্শিত হবে। পছন্দের ট্রেন নির্বাচন করে খালি আসন থাকলে সিট বেছে নিতে হবে। ঈদের সময় অল্প সময়েই আসন পূর্ণ হয়ে যায়, তাই দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।
প্রতিটি যাত্রীর জন্য নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন নম্বর এবং মোবাইল নম্বর প্রদান বাধ্যতামূলক। একটি অ্যাকাউন্ট থেকে সর্বোচ্চ চারটি টিকিট কেনা যাবে।
পেমেন্টের ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ, নগদ, রকেট), ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড এবং ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবহার করা যাবে। পেমেন্ট সফল হলে ই-টিকিট তৈরি হবে, যা পিডিএফ আকারে ডাউনলোড করা যাবে।
মোবাইলে সংরক্ষিত ই-টিকিট দেখিয়েই ভ্রমণ করা যাবে। প্রিন্ট কপি বাধ্যতামূলক নয়। তবে ভ্রমণের সময় বৈধ পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা জরুরি।
অ্যাপের মাধ্যমে ট্রেন অনুসন্ধান, সিট নির্বাচন এবং অনলাইন পেমেন্ট সম্পন্ন করা সম্ভব। অনেক ক্ষেত্রে ওয়েবসাইটের তুলনায় অ্যাপ ব্যবহার করলে দ্রুত সংযোগ পাওয়া যায়।
যাত্রার সময় বা রুট পরিবর্তনের সুযোগ সীমিত। তাই বুকিংয়ের সময় সঠিক তথ্য প্রদান করা গুরুত্বপূর্ণ।
কাউন্টার থেকে কোনো অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হবে না। ফলে সকল যাত্রীকে অনলাইন পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।
ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, রংপুর ও সিলেট রুটে সাধারণত সবচেয়ে বেশি চাপ থাকে। তাই এসব রুটের টিকিট দ্রুত শেষ হয়ে যেতে পারে।
অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে যাত্রীদের ভোগান্তি কমানো, স্টেশনে দীর্ঘ লাইন এড়ানো এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই এ সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ধাপে ধাপে বিভিন্ন তারিখের টিকিট ছাড়া হবে।
ঈদ ট্রেন টিকিট বিক্রির পূর্ণ সময়সূচি
বাংলাদেশ রেলওয়ের ঘোষণা অনুযায়ী ১৩ মার্চ ২০২৬ তারিখের যাত্রার টিকিট বিক্রি শুরু হবে ৩ মার্চ থেকে। ১৪ মার্চের টিকিট ৪ মার্চ, ১৫ মার্চের টিকিট ৫ মার্চ, ১৬ মার্চের টিকিট ৬ মার্চ, ১৭ মার্চের টিকিট ৭ মার্চ, ১৮ মার্চের টিকিট ৮ মার্চ, ১৯ মার্চের টিকিট ৯ মার্চ এবং ২০ মার্চ ২০২৬ তারিখের টিকিট বিক্রি শুরু হবে ১০ মার্চ।অর্থাৎ যাত্রার প্রায় ১০ দিন আগে সংশ্লিষ্ট দিনের টিকিট অনলাইনে পাওয়া যাবে। এতে যাত্রীরা আগেভাগেই পরিকল্পনা করে টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন।
ফিরতি টিকিট বিক্রি কবে থেকে
ঈদের পর কর্মস্থলে ফেরার বিষয়টিও মাথায় রেখে ২৩ মার্চ ২০২৬ থেকে ফিরতি টিকিট বিক্রি শুরু হবে। যারা ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাবেন, তারা একই সময়ে ফেরার টিকিট নিশ্চিত করতে পারবেন। ফিরতি যাত্রার ক্ষেত্রেও অনলাইন বুকিং প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।অনলাইনে টিকিট কাটার ধাপসমূহ
প্রথমে বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ই-টিকিটিং ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। নতুন ব্যবহারকারীদের নাম, মোবাইল নম্বর এবং জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর দিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। মোবাইলে প্রাপ্ত ওটিপি কোড দিয়ে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হলেই অ্যাকাউন্ট সক্রিয় হবে।লগইন করার পর যাত্রার স্থান, গন্তব্য, ভ্রমণের তারিখ এবং ট্রেনের শ্রেণি নির্বাচন করতে হবে। এসি, নন-এসি, চেয়ার বা শোভন—যে শ্রেণিতে ভ্রমণ করতে চান তা নির্ধারণ করে সার্চ অপশনে ক্লিক করতে হবে।
এরপর নির্দিষ্ট দিনের ট্রেন তালিকা প্রদর্শিত হবে। পছন্দের ট্রেন নির্বাচন করে খালি আসন থাকলে সিট বেছে নিতে হবে। ঈদের সময় অল্প সময়েই আসন পূর্ণ হয়ে যায়, তাই দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।
প্রতিটি যাত্রীর জন্য নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন নম্বর এবং মোবাইল নম্বর প্রদান বাধ্যতামূলক। একটি অ্যাকাউন্ট থেকে সর্বোচ্চ চারটি টিকিট কেনা যাবে।
পেমেন্টের ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ, নগদ, রকেট), ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড এবং ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবহার করা যাবে। পেমেন্ট সফল হলে ই-টিকিট তৈরি হবে, যা পিডিএফ আকারে ডাউনলোড করা যাবে।
মোবাইলে সংরক্ষিত ই-টিকিট দেখিয়েই ভ্রমণ করা যাবে। প্রিন্ট কপি বাধ্যতামূলক নয়। তবে ভ্রমণের সময় বৈধ পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা জরুরি।
Rail Sheba অ্যাপ ব্যবহার পদ্ধতি
মোবাইল ব্যবহারকারীদের জন্য Rail Sheba অ্যাপ একটি সহজ সমাধান। গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোর থেকে অ্যাপটি ডাউনলোড করে একই অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করা যায়।অ্যাপের মাধ্যমে ট্রেন অনুসন্ধান, সিট নির্বাচন এবং অনলাইন পেমেন্ট সম্পন্ন করা সম্ভব। অনেক ক্ষেত্রে ওয়েবসাইটের তুলনায় অ্যাপ ব্যবহার করলে দ্রুত সংযোগ পাওয়া যায়।
গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম ও নির্দেশনা
একজন যাত্রী সর্বোচ্চ চারটি অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন। টিকিট বাতিল বা রিফান্ডের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ রেলওয়ের বিদ্যমান নীতিমালা প্রযোজ্য হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাতিল করলে আংশিক অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।যাত্রার সময় বা রুট পরিবর্তনের সুযোগ সীমিত। তাই বুকিংয়ের সময় সঠিক তথ্য প্রদান করা গুরুত্বপূর্ণ।
কাউন্টার থেকে কোনো অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হবে না। ফলে সকল যাত্রীকে অনলাইন পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।
বিশেষ ট্রেন ও অতিরিক্ত ব্যবস্থা
ঈদে অতিরিক্ত যাত্রীচাপ সামাল দিতে নিয়মিত ট্রেনের পাশাপাশি বিশেষ ট্রেন চালু করা হতে পারে। কিছু ট্রেনে অতিরিক্ত বগি সংযুক্ত করা হবে। স্টেশন ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের কথাও জানানো হয়েছে।ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, রংপুর ও সিলেট রুটে সাধারণত সবচেয়ে বেশি চাপ থাকে। তাই এসব রুটের টিকিট দ্রুত শেষ হয়ে যেতে পারে।
উপসংহার
২০২৬ সালের ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ৩ মার্চ থেকে ধাপে ধাপে অগ্রিম ট্রেন টিকিট বিক্রি শুরু হচ্ছে। ২৩ মার্চ থেকে ফিরতি টিকিট পাওয়া যাবে। সম্পূর্ণ অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে আগেভাগেই পরিকল্পনা করলে সহজেই টিকিট সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। যাত্রার তারিখ অনুযায়ী নির্ধারিত দিনে লগইন করে দ্রুত বুকিং সম্পন্ন করাই হবে সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি।
প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
...