একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাবেন প্রধানমন্ত্রী

Sanatan Patra
একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাবেন প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ২০২৬ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, শুক্রবার দুপুরে বিএনপির মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সরকারের রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি অনুযায়ী, রাত ১২টা ১ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী সশরীরে শহীদ মিনারের মূল বেদিতে উপস্থিত হয়ে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করবেন। প্রধানমন্ত্রীর সাথে মন্ত্রিসভার সদস্য এবং রাষ্ট্রের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এই শ্রদ্ধানুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন বলে জানানো হয়েছে।

ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি বিজড়িত এই দিনটিকে ঘিরে প্রতি বছরই রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পরপরই রাষ্ট্রপতি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ শ্রদ্ধা জানাবেন। এরপর বিদেশি কূটনীতিকদের জন্য শ্রদ্ধা নিবেদনের সুযোগ রাখা হয়েছে। সাধারণ জনগণের জন্য শহীদ মিনার উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও এর পার্শ্ববর্তী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে।

নিরাপত্তা ও ট্রাফিক নির্দেশনা নিয়ে ডিএমপি কমিশনারের বক্তব্য

একুশে ফেব্রুয়ারির মহিমান্বিত এই দিনটিকে ঘিরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ২০ ফেব্রুয়ারি দুপুরে শহীদ মিনার এলাকা সশরীরে পরিদর্শন শেষে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে আসা সকলকে একটি সুনির্দিষ্ট রুট ম্যাপ অনুসরণ করতে হবে। বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবং সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে পলাশীর মোড় থেকে জগন্নাথ হল ক্রসিং হয়ে শহীদ মিনারে প্রবেশের রাস্তা ব্যবহার করতে হবে। এর বাইরে অন্য কোনো প্রবেশপথ উন্মুক্ত থাকবে না।

ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, ২০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিশেষ ডাইভারশন চালু করা হবে। যারা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বসবাস করেন, বিশেষ করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের ট্রাফিক নির্দেশনা মেনে চলতে অনুরোধ করা হয়েছে। শহীদ মিনারে কোনো প্রকার দাহ্য পদার্থ, বিস্ফোরক বা ধারালো অস্ত্র বহন করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রস্থানের জন্য দোয়েল চত্বর অথবা চাঁনখারপুল রুটটি ব্যবহার করতে হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং ড্রোনের মাধ্যমে এলাকাটি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

ভাষা শহীদদের ত্যাগ ও বর্তমান প্রেক্ষাপট

১৯৫২ সালের এই দিনে মাতৃভাষা বাংলার অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে রাজপথে প্রাণ দিয়েছিলেন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ নাম না জানা অনেক বীর সন্তান। তাদের এই আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই মূলত বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে আসছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই শ্রদ্ধা নিবেদন কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে সমুন্নত রাখার একটি অঙ্গীকার হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিগত বছরগুলোতে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে অনেক সময় একুশের অনুষ্ঠানমালার সুরক্ষায় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছিল। তবে ২০২৬ সালের এই প্রেক্ষাপটে প্রশাসন অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে হিন্দু সংখ্যালঘুসহ সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শহীদ মিনার এলাকায় যেকোনো প্রকার উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড বা সহিংসতা রোধে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে সাথে সাথে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সার্বিক প্রস্তুতি ও জাতীয় কর্মসূচি

সারাদেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও অনুরূপ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। জাতীয়ভাবে পালিত এই দিবসে সকল সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। ২১শে ফেব্রুয়ারি ভোরে আজিমপুর কবরস্থানে শহীদদের কবরে জিয়ারত ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। এছাড়া রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে দিনব্যাপী আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন রয়েছে। তথ্যমন্ত্রী ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে কেন্দ্রীয়ভাবে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও বইমেলার বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অমর একুশে পালনে হলের শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শহীদ মিনার এলাকার দেয়ালগুলোতে আলপনা আঁকা হয়েছে এবং ভাষা আন্দোলনের অমর বাণীগুলো দেয়ালে দেয়ালে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। জনসাধারণের মাঝে মাস্ক পরা এবং স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারেও বিশেষ প্রচারণা চালানো হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে নিরাপত্তা ও প্রস্তুতির সবশেষ অবস্থা সম্পর্কে নিয়মিত বিরতিতে আপডেট জানাচ্ছে প্রশাসন।
...

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Out
Ok, Go it!
To Top