ঢাকা মহানগরী: নির্বাচনকে সামনে রেখে ১১ দলীয় জোটকে ভোট দেওয়া হারাম বলে যে ফতোয়া দেওয়া হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ ইমাম ওলামা পরিষদ।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দেওয়া এক বিবৃতিতে সংগঠনটির চেয়ারম্যান শাইখুল হাদিস আল্লামা আবুল কাশেম কাসেমী এবং সেক্রেটারি জেনারেল মুফতি মুহাম্মদ হোসাইন আকন্দ বলেন, যারা এ ধরনের ফতোয়া দিচ্ছেন তারা মূলত অন্যের এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যস্ত। অবাস্তব যুক্তি উপস্থাপন করে তারা ১১ দলীয় জোটকে বাদ দিয়ে অন্য দলকে ক্ষমতায় আনার স্বপ্নে বিভোর হয়ে পড়েছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, ভারতের স্বার্থ রক্ষা এবং ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে বৈধতা দেওয়ার উদ্দেশ্যে অর্থের লোভে এমন রাজনৈতিক ফতোয়া দেওয়া হচ্ছে। এসব ফতোয়ার সঙ্গে ধর্মীয় কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই এবং তা সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক।
নেতৃবৃন্দ বলেন, ঈমান হেফাজত, নতুন দেশ গঠনের লক্ষ্য, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে এই সংকটময় সময়ে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের ভোট দিতে শরিয়তের কোনো বাধা নেই। তবে দেশের কিছু পীর সাহেব ১১ দলীয় জোটের বিরোধিতা করতে গিয়ে বিভ্রান্ত অবস্থানে চলে গেছেন।
তারা আরও বলেন, বিএনপির পক্ষ নিয়ে জামায়াতের বিরোধিতা করতে গিয়ে এসব ব্যক্তি অন্যান্য ইসলামী দলকে উপেক্ষা করছেন, যা জাতির মধ্যে বিভ্রান্তি ও বিভাজন সৃষ্টি করছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, যারা মনগড়া ফতোয়াবাজির মাধ্যমে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন, তাদের মনে রাখা উচিত—আজ জাতি সকল জালেম ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ। জুলুম, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জনগণ বিপ্লব করতে প্রস্তুত রয়েছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, ভবিষ্যতে কোনো চাঁদাবাজ বা দুর্নীতিবাজকে ক্ষমতায় আসতে দেওয়া হবে না। এ লক্ষ্যে সবাইকে অযৌক্তিক ও রাজনৈতিক ফতোয়াবাজি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়।
বিবৃতিতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে জুলাই-আগস্ট বিপ্লবকে সফল করতে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার পাশাপাশি ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের ভোট দিয়ে বিজয়ী করার জন্য দেশবাসীর প্রতি বিশেষ আহ্বান জানানো হয়।