ভারতে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে ৮ গ্রেপ্তার

Sanatan Patra
ভারতে হামলার পরিকল্পনা মামলায় গ্রেপ্তারদের বহন করা হচ্ছে
Sonatan Patro Logo
নিজস্ব প্রতিবেদক
সনাতন পত্র
দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। স্থানীয় সময় শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ভোররাতে একাধিক স্থানে সমন্বিত অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সংগঠিত নাশকতার পরিকল্পনার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

পুলিশ সূত্রে দাবি করা হয়েছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছে। বাকি সাতজন ভারতের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা। তবে সংশ্লিষ্টদের জাতীয়তা ও পরিচয় যাচাই প্রক্রিয়া এখনো সম্পূর্ণ হয়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

তামিলনাড়ু পুলিশের দাবি

তামিলনাড়ু পুলিশের সন্ত্রাসবিরোধী শাখা জানিয়েছে, কয়েক সপ্তাহ ধরে সন্দেহভাজন একটি নেটওয়ার্কের ওপর নজরদারি চালানো হচ্ছিল। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর পরই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পুলিশ দাবি করেছে, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে একাধিক মোবাইল ফোন, সিম কার্ড এবং ডিজিটাল যোগাযোগের উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ডিভাইস ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্তকারীরা বলছেন, ডিজিটাল যোগাযোগের মাধ্যমে পরিকল্পনা সমন্বয়ের চেষ্টা করা হয়েছিল।

আইএসআই ও আন্তঃদেশীয় যোগাযোগের অভিযোগ

ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থার প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি বাংলাদেশভিত্তিক একটি সংগঠনের নামও উঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগের পক্ষে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।

সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের পূর্ণ সত্যতা যাচাই এখনো সম্ভব হয়নি। তদন্ত এগিয়ে গেলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশি নাগরিক প্রসঙ্গ

তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আটক আটজনের মধ্যে একজনের পরিচয় বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তার ভ্রমণপথ, ভিসা অবস্থা এবং ভারতে অবস্থানের বৈধতা যাচাই করা হচ্ছে। ভারতের কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক চ্যানেলের সঙ্গে যোগাযোগের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি এখনো প্রকাশ হয়নি। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, প্রয়োজন হলে আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য চাইতে পারে ভারত।

টার্গেট কী ছিল

প্রাথমিক তদন্তে দাবি করা হয়েছে, ধর্মীয় ও জনবহুল কিছু স্থাপনাকে সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। নিরাপত্তা জোরদার করতে ইতোমধ্যে তামিলনাড়ু ও পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মন্দির, পরিবহন কেন্দ্র ও সরকারি স্থাপনায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর মতো কোনো তাৎক্ষণিক হুমকি বর্তমানে নেই। তবে পরিস্থিতি সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

আইনি প্রক্রিয়া

গ্রেপ্তারদের স্থানীয় আদালতে হাজির করা হয়েছে। আদালত প্রাথমিকভাবে পুলিশ হেফাজতের অনুমতি দিয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তারা বলেছেন, জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে সংগঠনের কাঠামো, অর্থায়ন ও যোগাযোগ নেটওয়ার্ক সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।

ভারতীয় দণ্ডবিধি ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রমাণ মিললে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মত

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, আন্তঃদেশীয় যোগাযোগের অভিযোগ উঠলে তা অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে দাঁড়ায়। সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া এমন অভিযোগ কূটনৈতিক সম্পর্কে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই তদন্তের পূর্ণাঙ্গ ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত সতর্ক থাকা জরুরি।

বিশ্লেষকদের আরও মত, দক্ষিণ ভারতে অতীতে বিচ্ছিন্ন সহিংস ঘটনার নজির রয়েছে। ফলে যেকোনো সন্দেহজনক তৎপরতা দ্রুত শনাক্ত ও প্রতিরোধ করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অগ্রাধিকার হওয়া স্বাভাবিক।

বর্তমান পরিস্থিতি

তামিলনাড়ু সরকার জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জনসাধারণকে গুজবে কান না দিয়ে সরকারি তথ্যের ওপর নির্ভর করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে নিয়মিত আপডেট দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

এই ঘটনায় দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আন্তঃদেশীয় সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থা দমনে আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার কথা বিশেষজ্ঞরা তুলে ধরছেন।
প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
...

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Out
Ok, Go it!
To Top