অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নির্বাচনী বাটোয়ারা মেনে নিয়ে এখন বিরোধিতার নাটক করা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ফেসবুক পোস্টে মাহফুজ লেখেন, “নির্বাচনী বাটোয়ারা মেনে নিয়ে এখন বিরোধিতার নাটক করা বন্ধ করেন। বাটোয়ারা করে দেয়া আর মেনে নেয়ারা একদিকে, আর জনগণ অন্যদিকে। দু:খ লাগে, ছাত্রদের জন্য। কত কম দামে তাদেরকে বিক্রি করে দিল!”
তিনি আরও লেখেন, “জনগণের ন্যায্য লড়াই এখন এরা হাপুস করে দিবে পিআর ক্যাম্পেইন আর মিডিয়া ম্যানিপুলেশনের দৌলতে। আল্লাহ এ দেশের জনগণকে রক্ষা করুন।”
মাহফুজের এই বক্তব্য প্রকাশের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। তাঁর পোস্টে ‘নির্বাচনী বাটোয়ারা’ বলতে তিনি কোন প্রক্রিয়া বা সমঝোতার কথা উল্লেখ করেছেন, তা স্পষ্ট করেননি। তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক নির্বাচন ও সরকার গঠনের প্রক্রিয়া ঘিরে যে রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে, তার প্রতিই ইঙ্গিত থাকতে পারে।
উল্লেখ্য, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় ৪৯ জন পূর্ণমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী ডাক পেয়েছেন। মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হওয়ার প্রেক্ষাপটেই মাহফুজের এই পোস্ট আসে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, মাহফুজের বক্তব্যে মূলত নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক সমঝোতা, দলীয় সমীকরণ এবং বিরোধী রাজনীতির ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে। বিশেষ করে ছাত্ররাজনীতি ও তরুণ প্রজন্মের প্রসঙ্গ টেনে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আন্দোলন বা সংগ্রামের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা রাজনৈতিক বাস্তবতায় ভিন্ন দিকে মোড় নিয়েছে।
অন্যদিকে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক মহলের কেউ কেউ সামাজিক মাধ্যমে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়া সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে এবং সরকার গঠনও নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতেই হয়েছে। তাঁদের মতে, বাটোয়ারার অভিযোগ রাজনৈতিক বক্তব্যের অংশমাত্র।
মাহফুজ সাম্প্রতিক সময়েও বিভিন্ন ইস্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব ছিলেন। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক সংস্কার ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে তিনি একাধিকবার মন্তব্য করেছেন। তাঁর সমর্থকেরা বলছেন, তিনি ক্ষমতার কাঠামোর বাইরে থেকেও জনস্বার্থের প্রশ্ন তুলে ধরছেন।
সমালোচকেরা অবশ্য তাঁর বক্তব্যকে অতিরঞ্জিত বলেও মন্তব্য করেছেন।
এদিকে নতুন মন্ত্রিসভার শপথের আগ মুহূর্তে এমন বক্তব্য রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা। শপথ গ্রহণের পর সরকার ও বিরোধী পক্ষের অবস্থান কতটা মুখোমুখি হবে, নাকি সমঝোতার রাজনীতি সামনে আসবে—তা এখন দেখার বিষয়।
...