অনলাইন ডেস্ক
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বলিউড তারকা শাহরুখ খান জানিয়েছেন, তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় এবং কঠোর সমালোচক দর্শক বা চলচ্চিত্র সমালোচক নন, বরং তাঁর নিজের সন্তানরা। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন এবং ব্যাখ্যা করেন, পরিবার থেকে পাওয়া সৎ প্রতিক্রিয়াই তাঁকে শিল্পী হিসেবে সচেতন রাখে।
তিন দশকের বেশি সময় ধরে চলচ্চিত্রে সক্রিয় শাহরুখ খান বলেন, জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকলেও ঘরের ভেতরে তিনি কেবল একজন বাবা। সেখানে তাঁর পরিচয় সুপারস্টার নয়। সন্তানরা কোনো রাখঢাক না রেখেই তাঁর অভিনয়, সংলাপ, এমনকি ছবির গল্প নিয়েও মন্তব্য করে।
তিনি জানান, বড় ছেলে আরিয়ান খান সিনেমা ও নির্মাণ প্রক্রিয়া নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী আলোচনা করে। কোনো দৃশ্য দুর্বল মনে হলে সরাসরি জানিয়ে দেয়। মেয়ে সুহানা খান অভিনয়ের সূক্ষ্ম দিকগুলো নিয়ে মত দেয়। ছোট ছেলে আব্রামও নিজের মতো করে প্রতিক্রিয়া জানায়। এই খোলামেলা পরিবেশকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখেন।
শাহরুখের মতে, সন্তানদের মতামতে কোনো কৃত্রিমতা থাকে না। তারা খুশি করার জন্য কথা বলে না। ভালো না লাগলে তা সরাসরি জানায়। এতে তিনি বুঝতে পারেন, নতুন প্রজন্মের দর্শক কীভাবে বিষয়গুলো দেখছে। বর্তমান সময়ে দর্শকের রুচি দ্রুত বদলাচ্ছে, ফলে পরিবারের এই প্রতিক্রিয়া তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
অভিনেতা বলেন, দীর্ঘ ক্যারিয়ারে সাফল্য যেমন এসেছে, তেমনি ব্যর্থতাও এসেছে। তবে ঘরের সমালোচনা তাঁকে আত্মতুষ্টি থেকে দূরে রাখে। একজন শিল্পীর জন্য আত্মতুষ্টি বিপজ্জনক হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত তাঁর কাজগুলোর প্রসঙ্গে তিনি জানান, পরিবার প্রথমে ছবিটি দেখে। এরপর আলোচনা হয় কোন অংশ ভালো লেগেছে, কোথায় উন্নতির সুযোগ আছে। এই আলোচনাকে তিনি গঠনমূলক সমালোচনা হিসেবে গ্রহণ করেন।
শাহরুখ খান আরও বলেন, পরিবারের সমর্থন তাঁকে ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। আলোচিত জীবনযাপন ও ব্যস্ততার মাঝেও তিনি চেষ্টা করেন সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটাতে। তাঁর মতে, ব্যক্তিগত জীবন সুসংগঠিত না হলে পেশাগত জীবনেও প্রভাব পড়ে।
বলিউডে দীর্ঘ পথচলার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেন, দর্শকের ভালোবাসা যেমন প্রেরণা দেয়, তেমনি ঘরের সমালোচনা শিল্পী হিসেবে বিকশিত হতে সাহায্য করে। তাই সন্তানদের মন্তব্য তিনি গুরুত্বের সঙ্গে নেন।
একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন তারকা হয়েও শাহরুখ খানের এই স্বীকারোক্তি দেখায়, ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এখনও একজন সাধারণ বাবা। আর সেই পরিচয়ই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
...